আপডেট : ১৫ অক্টোবর, ২০১৭ ১৫:৫৯

অপসারনের আগেই পদত্যাগ করবেন এস কে সিনহা?

অনলাইন ডেস্ক
অপসারনের আগেই পদত্যাগ করবেন এস কে সিনহা?

অপসারিত হচ্ছেন ছুটি নিয়ে বিদেশে থাকা প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। সংবিধানের ৯৬ (৫) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মহামান্য রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ১১টি অভিযোগ তদন্তে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলকে নির্দেশ দিয়েছেন।

রোববার (১৫ অক্টোবর) সংবিধানের ৯৬ (৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল পুনর্গঠিত হবে এবং তদন্ত শুরু করবে।

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের পর এখন বিচারপতি অপসারনের এখতিয়ার সুপ্রিম কোর্টের হাতে। সংবিধানের ৯৬ (৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধান বিচারপতি এবং কর্মে প্রবীণ পরবর্তী দুজন বিচারপতির সমন্বয়ে এই কাউন্সিল গঠিত হবে।

ষোড়শ সংশোধনীর রায়ের পরপরই বিচারপতি সিনহা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করেছিলেন। তবে ৯৬ (৩) অনুযায়ী যেহেতু প্রধান বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধেই অভিযোগ তাই তিনি কাউন্সিলে থাকতে পারবেন না। যে তিনজন বিচারপতির সমন্বয়ে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল বসবে তারা হলেন, বিচারপতি অব্দুল ওয়াহহাব মিয়া, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন এবং বিচারপতি মুহাম্মদ ঈমান আলী।

সংবিধানের ৯৬ (৫) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি কোনো সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যে যদি এরকম বুঝে থাকেন যে, কোনো বিচারক গুরুতর অসদাচারণের জন্য দোষী হতে পারেন, তখন তিনি সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলকে বিষয়টি সম্পর্কে তদন্ত করতে এবং তদন্ত ফল জানানোর জন্য নির্দেশ দিতে পারেন।

৩০ সেপ্টেম্বর মহামান্য রাষ্ট্রপতি সুপ্রিম কোর্টের ৪ জন বিচারপতিকে  বঙ্গভবনে আমন্ত্রণ জানিয়ে যে ১১ অভিযোগের দলিল ও তথ্য উপস্থাপন করেন, সেটিই সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠনের সাংবিধানিক শর্ত পূরণ করেছে বলে আইনজ্ঞরা মনে করছেন। ২ অক্টোবর পাঁচ বিচারপতির সঙ্গে বিচারপতি সিনহার বৈঠক, আনুষ্ঠানিক ভাবে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের আহ্বান, বিচারিক কার্যক্রমেরই একটি অংশ। এখন কাউন্সিল এ সংক্রান্ত যে প্রতিবেদন রাষ্ট্রপতিকে দেবেন, সেটিই হবে কাউন্সিলের রিপোর্ট।

আজকের বিবৃতির মধ্যে দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট তার অবস্থান স্পষ্ট করেছে। একজন সিনিয়র আইনজীবী বলেছেন, ‘এই অভিযোগ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক বিবৃতির পর, অপসারণ প্রক্রিয়ার জন্য সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের তদন্ত ব্যাতিত আর কোনো পথ খোলা নেই।’

তার মতে, বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রকাশ হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে