আপডেট : ১৮ জুলাই, ২০১৬ ১৭:৫২

জঙ্গি ইস্যুতে ঘুম হারাম রাজধানীর বাড়িওয়ালাদের!

নিজস্ব প্রতিবেদক
জঙ্গি ইস্যুতে ঘুম হারাম রাজধানীর বাড়িওয়ালাদের!

গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় সন্ত্রাসী হামলার পর বিভিন্ন ইস্যুতে তদন্ত চালাচ্ছে গোয়েন্দারা। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তদারকি, নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের তালিকা তৈরি, পিতা-মাতাদের নতুন নতুন পরামর্শ দেয়া সহ বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়। সর্বশেষ গোয়েন্দারা আমলে নিয়েছেন জঙ্গিরা হামলার আগে কোথায় অবস্থান নিয়েছিল সে বিষয়টি। আর এতে ঘুম হারাম হয়ে গেছে রাজধানীর কয়েক হাজার বাড়িওয়ালার। কারণ তারা পুলিশের নির্দেশনা মেনে ভাড়াটিয়া ফরম সঠিকভাবে পুরণ করে থানায় জমা দেননি।

গোয়েন্দারা প্রাথমিক ভাবে কাজ শুরু করেছেন ঢাকা সিটি কর্পোরেশন উত্তর এবং দক্ষিণের হোল্ডিং নাম্বার হাতে নিয়ে। এক্ষেত্রে ঢাকার বিভিন্ন থানায় মেলানো হচ্ছে হোল্ডিং নাম্বারের বিপরীতে জমা দেয়া ভাড়াটিয়া ফরমের সঙ্গে। প্রাথমিকভাবে যে সব বাড়ির ভাড়াটিয়া ফরম পাওয়া যাচ্ছে না, তাদেরই তালিকাভুক্ত করা হচ্ছে। এরপর ওসব বাড়ির বিষয়ে নেয়া হচ্ছে খোঁজ খবর।

ধারণা করা হচ্ছে, এতে জঙ্গিবাদ ইস্যু ছাড়াও অন্য কোনো অসঙ্গতি বের হয়ে আসার ভয়ে আছেন অধিকাংশ বাড়ির মালিক। কারণ রাজধানীর অধিকাংশ বাড়িওয়ালা গ্যাস, আয়কর, বাড়িভাড়াসহ বিভিন্ন বিষয় সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বিভিন্ন রকম তথ্য গোপন করে থাকে। এসব বিষয়ে সামনে চলে আসলে, তাদের খরচ আরো বেড়ে যাবে, এই ভয় পাচ্ছেন অনেকে।

তবে সবচেয়ে বেশি ভয় কাজ করছে, তা হলো, রাজধানীর বেশির ভাগ বাসায় ভাড়াটিয়াদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য না জেনে ভাড়া দেয়া হয়। মূলত কোনো ভাড়াটিয়া তথ্য গোপন করতে চাইলে বাড়িওয়ালার পক্ষে তাদের অতীত জীবন সর্ম্পকে জানাও অসম্ভব। কিন্তু পুলিশ কিংবা গোয়েন্দাদের তদন্তে কোনো ভাড়াটিয়ার বিষয়ে নেতিবাচক তথ্য আসলে বাড়িওয়ালাদেরও অভিযুক্ত করা হয়ে থাকে। বাড়িওয়ালাদের ভয় মূলত এই জায়গায়।

বিশেষ করে, গুলশানের ঘটনায় নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি গিয়াসউদ্দিন আহসানসহ তিনজন এবং শেওড়াপাড়া থেকে নুরুল ইসলাম নামে একজন বাড়ি মালিককে আটক এবং পরবর্তীতে রিমান্ডে নেয়ার ঘটনায় বাড়িওয়ালাদের মধ্যে উদ্বেগ আরো বেড়েছে।

এরই মধ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভাড়াটিয়ার তথ্য গোপন করলে বাড়ির মালিকদেরই দায়ী থাকতে হবে।

অভিযোগ উঠেছে, মালিকরা ভাড়া দেয়ার আগে মোটা অংকের জামানত রেখেও অনেক ভাড়াটিয়ার সব তথ্য সংরক্ষণ করেনি। এছাড়া রাজধানীতে অনেক বাড়ির মালিক দায়সারা ভাড়াটিয়াদের তথ্য জমা দিয়েছেন। ডিএমপি পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যেসব বাড়িওয়ালা দায়সারা তথ্য দিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

গুলশানে জঙ্গি হামলার তদন্ত করতে গিয়ে বেরিয়ে আসে, গুলশানে হামলার আগে জঙ্গিরা বসুন্ধরা ও শেওড়াপাড়ায় বাসা ভাড়া নেন। বাড়ির মালিক তাদের কাছ ভাড়াটিয়া ফরম পূরণ করে থানায় জমা দেয়নি। এ কারণে তাদের গ্রেফতার করেছে।

এ বিষয়ে ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, যেসব বাড়ির মালিক ভাড়াটিয়াদের তথ্য সঠিকভাবে দেয়নি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ভাড়াটিয়াদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ না করা এবং তথ্য গোপন করার অভিযোগে দুই বাড়ির মালিককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে