আপডেট : ২৩ মে, ২০১৬ ২১:২১

অবহেলা ও বৈষম্যের শিকার প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকরা

অনলাইন ডেস্ক
অবহেলা ও বৈষম্যের শিকার প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকরা

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের প্রতি অবহেলা ও ক্রমাগত বৈষম্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমাজের সভাপতি শাহিনুর আল আমীন। তিনি বলেছেন, বৈষম্য বাড়তে বাড়তে এখন প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে সহকারী শিক্ষকের বেতন স্কেলের পার্থক্য তিন ধাপ।

সোমবার (২৩ মে) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি সহকারী শিক্ষক পদ থেকে যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে পদোন্নতির মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক নিয়োগসহ ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে শাহিনুর বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে প্রধানশিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের বেতনের পার্থক্য ছিল এক ধাপ। ২০০৬ সালে এ পার্থক্য হলো ২ ধাপ। ২০১০ সালে প্রকাশিত বেতন কাঠামোতে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের বেতনের পার্থক্য তৈরি করা হয়েছে তিন ধাপ। অষ্টম পে স্কেলেও সেই পার্থক্য বিদ্যমান।

সারা দেশে প্রায় সাড়ে তিন লাখ শিক্ষক প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নে কাজ করছেন জানিয়ে শাহিনূর বলেন, কিন্তু শিক্ষকদের সম্মন ও আর্থিক সচ্ছলতার বিষয়টি কখনোই বিবেচনা করা হয়নি। বারবার শিক্ষকরা উপেক্ষিতই থেকেছেন।

শতকরা ১৫ শতাংশ শিক্ষক তাদের কর্মজীবনে পদোন্নতি পান উল্লেখ করে শাহিনুর বলেন, একজন সহকারী শিক্ষক যে পদে নিয়োগ পান, সে পদে থেকেই অবসর নিতে হয় তাকে। কারণ এ পেশায় পদোন্নতির সুযোগ খুব কমই আসে। এ কারণে মেধাবী শিক্ষার্থীরা এ পেশায় আসতে চান না।

শাহিনুর আরও বলেন, ২০০৯ সাল থেকে শিক্ষকদের পদোন্নতি আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় পড়ে আছে। এতে শিক্ষদের মধ্যে চরম ক্ষোভ আর হতাশা বিরাজ করছে। ১৯৭৩ সালে প্রাথমিক শিক্ষাকে জাতীয়করণের পর যেখানে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের বেতনের পার্থক্য ছিলে ১০ টাকা, বর্তমানে এর পার্থক্য হলো ২ হাজার ৩০০ টাকা।

সংবাদ সম্মেলন থেকে নারায়নগঞ্জে শিক্ষক লাঞ্ছনার জন্য দায়ী সাংসদ সেলিম ওসমানের সংসদ পদ বাতিলের দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে ৬ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। এগুলো হলো- প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল প্রধান শিক্ষকের নিচের ধাপে নির্ধারণ করা; সহকারী শিক্ষক থেকে পদোন্নতির মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেয়া; নিয়োগের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ বৈষম্য দূর করে সবার ক্ষেত্রে স্নাতক নির্ধারণ করতে হবে; সারা দেশে সহকারী শিক্ষক বদলি বন্ধ করা ও নীতিমালা সংশোধন করা; প্রত্যেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একজন অফিস সহকারী নিয়োগ করা।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. হালিমুজ্জামান, এ কে এম খসরুজ্জামান, সেলিম হোসেন, মাহবুব হাসান রাজু, নুরুজ্জামান সেলিম, শাহিন হাওলাদার, বাধন খান পাঠান প্রমুখ।
বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে