আপডেট : ৯ মে, ২০১৬ ১৮:০৭

রোগের তথ্য গোপন করলে সাজা

অনলাইন ডেস্ক
রোগের তথ্য গোপন করলে সাজা

সংক্রামক রোগের তথ্য গোপন করা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এ জন্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা দিতে হবে। এমনকি কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। এমন বিধান যুক্ত করে ‘সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল আইন, ২০১৬’  নামে একটি আইনের খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

সচিবালয়ে আজ সোমবার দুপুরে মন্ত্রিপরিষদ সভার সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম এ তথ্য জানান।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, যক্ষ্মা, হেপাটাইটিস, অ্যানথ্রাক্স, ম্যালেরিয়া, বার্ড ফ্লু,  নিপাহ ভাইরাস, ইবোলাসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগে আক্রান্ত রোগীকে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। রোগের তথ্য গোপন করে জনসমক্ষে চলাফেরা করা যাবে না। তথ্য গোপন করে জনসমক্ষে ঘুরে বেড়ালে ওই ব্যক্তি অপরাধী হিসেবে গণ্য হবেন। 

সচিব জানান, এ আইনে সংক্রামক রোগের তথ্য গোপনকারীর বিরুদ্ধে দুই লাখ টাকা জরিমানা বা এক বছরের কারাদণ্ডের বিধানের কথা বলা হয়েছে। সে সঙ্গে আইন অমান্যকারী বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে অনূর্ধ্ব এক বছর কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার কথা বলা হয়েছে।

আইনে বলা হয়েছে, ম্যালেরিয়া, কালাজ্বর, ফাইলেরিয়াসিস, ডেলু, সব ধরনের ইনফ্লুয়েঞ্জা, নিপাহ, অ্যানথ্রাক্স, মার্স, জলাতঙ্ক, জাপানিজ এনকেফালাইটিস, ডাইরিমাল ডিজিজেস, এইচআইভি, যক্ষ্মা, টাইফয়েডসহ বিভিন্ন জীবাণু, বায়ু ও পানিবাহিত সংক্রামক রোগের কারণে অনেক সময় জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে পড়ে। এ রোগ যাতে ছড়িয়ে না পড়তে পারে, সে জন্য সংক্রামক রোগে আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে দ্রুত শারীরিক পরীক্ষা করাতে হবে। রোগ প্রতিরোধে যত দ্রুত সম্ভব প্রতিষেধক টিকা দিতে হবে। সংক্রামক এলাকাকে মুক্ত এলাকা হতে আলাদা রাখতে হবে।

সচিব বলেন, আইন অনুযায়ী সংক্রামক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট হাসপাতাল, অস্থায়ী হাসপাতাল, স্থাপনা বা গৃহে অন্তরীণ বা আলাদা রাখা যাবে। সংক্রামক রোগ বিস্তার রোধে কর্তৃপক্ষ যেকোনো প্রতিষ্ঠান, বাজার, গণজমায়েত, স্টেশন ও বন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করতে পারবে। পাশাপাশি উড়োজাহাজ, জাহাজ, জলযান, বাস, ট্রেন ও অন্যান্য যানবাহন দেশে আগমন, নির্গমন অথবা দেশের অভ্যন্তরে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে পারবে। এ ধরনের রোগীকে সরকার স্বীকৃত চিকিৎসক ছাড়া অন্য কেউ চিকিৎসাসেবা ও গবেষণাগারে পরীক্ষা করাতে পারবে না। রোগের বাহক দমনের উদ্দেশে বসতঘর ও অন্যান্য গৃহে কীটনাশক ছিটানোর ব্যবস্থা করা।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/এমএইচ

উপরে