আপডেট : ৭ মে, ২০১৬ ১৮:৪০

দরজায় দরজায় যাবে পুলিশ, কড়া নেড়ে বলবে আপনি ভালো আছেন তো?

অনলাইন ডেস্ক
দরজায় দরজায় যাবে পুলিশ, কড়া নেড়ে বলবে আপনি ভালো আছেন তো?

চলতি বছরে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে রাজধানীর প্রত্যেকটি মহল্লার প্রত্যেকটি ঘরে ডিএমপি পুলিশ গিয়ে দরজায় কড়া নেড়ে বলবে, আপনি ভালো আছেন তো, আপনাকে কোনো সাহায্য করতে পারি। রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে শনিবার (৭ মে) অপরাজেয় বাংলাদেশ আয়োজিত ‘ইমপ্রুভ ইনস্টিটিউশন রেসপন্সেস টু চিলড্রেন কনফ্লিক্ট কন্টাক্ট উইথ ল’ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া এ কথা জানিয়েছেন।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঢাকা মহানগরীতে এ কাজটি আমি শুরু করেছি। উঠান বৈঠক করেছি। ইতোমধ্যে মন্ত্রী ও আমাদের কর্মকর্তারা এভাবে যাওয়া শুরু করেছেন। এজন্য সামাজিক আন্দোলন করতে হবে।

আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, আজকে রাস্তায় ট্রাফিক আইনের কথা বলছি। কেউ মানে না। একদিনে এটি মানাতে পারবো না। আমি শুরু করেছি, উল্টো পথে গাড়ি চালানো যাবে না। স্টিকার দিয়ে, হাইড্রোলিক হর্ন দিয়ে গাড়ি চালানো বন্ধসহ সবকিছু একসঙ্গে সমাধান করা যাবে না।

শিশুদের অধিকার সর্বক্ষেত্রে আন্তরিকভাবে দেখতে হবে। ঐশীর উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ইদানীং শিশুরা অনেক ধরণের বড় অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে। তাদের অপরাধ থেকে ফিরিয়ে আনতে কাউন্সেলিং করা দরকার। এজন্য সবার সহযোগিতা দরকার।

তিনি বলেন, সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আমরা যদি প্রত্যেক এলাকাকে কাউন্সেলিংয়ে মধ্যে নিয়ে আসতে পারি। তাহলে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ কমে যাবে।

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি ঈমান আলী বলেন, তিন বছর আগে শিশু আইন প্রণয়ন করলেও রুলস না হওয়ায় বাস্তবায়ন হয়নি। বাস্তবায়নের জন্য কোনো সংস্থাও এগিয়ে আসেনি। অনেক ভুলের কারণেও আইন কার্যকর হচ্ছে না।

তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি থানায় শিশু হেফাজত কেন্দ্র, শিশুবান্ধব কর্মকর্তা থাকার কথা, নেই কোথাও। সমাজে অনেক হিংস্রতা হচ্ছে। ছোটখাটো জিনিস নিয়ে শিশুদের মেরে ফেলছে। তাছাড়া সুবিধাবঞ্চিত শিশুরাই অপরাধে জড়িয়ে যাচ্ছে। সমাজের পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেটদের ধারণা, যারা ওনাদের সামনে আসে তারাই চোর, বদমাইশ, খারাপ।

বিচারপতি ঈমান আলী বলেন, শিশুদের প্রতি তাদের এ ধরণের মনোভাব দূর করতে সমাজের মানুষকে সচেতন হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, সরকার জনগণকে চাহিদার যোগান দিতে পারছে না। শিশুরা পারিবারিক কলহ, মা-বাবার বিচ্ছেদ, সৎ মায়ের অত্যাচারে শিকার হয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়ে অপরাধ করছে। কোনো শিশু চোর-অপরাধী হয়ে জন্মায় না। আমাদের মনোভাব পরিবর্তন করতে হবে। সবাইকে সচেতন হতে হবে।

অপরাজেয় বাংলাদেশের উপদেষ্টা ড. ইনামুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম স্মৃতি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব আবু তাহের।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে