আপডেট : ২০ এপ্রিল, ২০১৬ ১১:৪৮

করের আওতায় আনতে হবে মন্ত্রী, এমপিদের ভাতা: এফবিসিসিআই

অনলাইন ডেস্ক
করের আওতায় আনতে হবে মন্ত্রী, এমপিদের ভাতা: এফবিসিসিআই

মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, বিচারপতি, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উৎসব ভাতাসহ সব ধরনের ভাতা আয়করের আওতায় আনার প্রস্তাব দিয়েছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই। একই সঙ্গে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ থেকে সর্বনিম্ন পর্যায় পর্যন্ত করযোগ্য আয় রয়েছে এমন সব ব্যক্তিকেও করের আওতায় আনার প্রস্তাব দিয়েছে ব্যবসায়ীদের এই শীর্ষ সংগঠন।

২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে অন্তর্ভুক্তির জন্য এফবিসিসিআইয়ের কয়েকশ’ সুপারিশ ইতিমধ্যেই জমা দেয়া হয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর)। ২৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় পরামর্শক কমিটির সভায় আয়কর, ভ্যাট ও শুল্কের প্রস্তাবগুলো উপস্থাপন করা হবে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সভায় প্রধান অতিথি থাকবেন।

জানা গেছে, এফবিসিসিআইয়ের প্রাথমিক বাজেট প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করতে এনবিআরের আয়কর নীতির সদস্যের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করছে এফবিসিসিআইয়ের একটি প্রতিনিধি দল। সেখানে এফবিসিসিআই আয়কর খাতে ১০৩ টি প্রস্তাব করেছে।

সূত্র জানিয়েছে, ২০১১ সালের ৪ জুলাই জারি করা ৩টি এসআরও’র মাধ্যমে রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগ এবং সাংবিধানিক পদসহ সরকারের সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের শুধুমাত্র মূল বেতন করের আওতায় আনা হয়। উৎসব ভাতাসহ সব প্রকার ভাতা ও সুবিধাদি আয়করের আওতামুক্ত রাখা হয়। এটিকে বৈষম্যমূলক মনে করে এফবিসিসিআই।

সংগঠনটির মতে, সংবিধান অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের সব ব্যক্তি সমান। সবার আয়ের ওপর একই হারে একই আইন বিধান ও নীতি অনুযায়ী কর আহরণ করা উচিত। তাই বৈষম্যমূলক এসআরওগুলো বাতিল করে ন্যায়বিচারের স্বার্থে ও সমতা আনার লক্ষ্যে সবার সব আয়ের ওপর কর আরোপ করা প্রয়োজন।

আয়করের প্রজ্ঞাপনে (এসআরও নং-২২৮-আইন-আয়কর/২০১১) বলা হয়েছে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর মূল বেতন করযোগ্য আয় হিসেবে বিবেচিত হবে। অন্য সব সুবিধা ও ভাতাদি যেমন- বোনাস, বাড়িভাড়া ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, যাতায়াত ভাতা, শ্রান্তিবিনোদন ভাতা ইত্যাদি করমুক্ত থাকবে। অথচ বেসরকারি সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীর মূল বেতন ছাড়াও এসব ভাতার ওপর কর দিতে হয়।

এফবিসিসিআইয়ের মতে, বেসরকারি চাকরিজীবীরা আয়ের ওপর কর দিয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে কোনো কর অব্যাহতি নেই। কিন্তু সরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে কর অব্যাহতি একটি চরম বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা। যা গণতান্ত্রিক ও আইনের শাসনে অধিষ্ঠিত সমাজে চলতে পারে না।

সবদিক বিবেচনায় রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সর্বনিম্ন পর্যায় পর্যন্ত যাদের করযোগ্য আয় থাকবে তাদের সব আয় করের আওতায় আনা হলে ন্যায়বিচার সুপ্রতিষ্ঠিত হবে। বিদ্যমান বৈষম্য দূরীভূত হবে। এতে সরকারের রাজস্ব আদায়ও বাড়বে।

অন্যদিকে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়ার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে এফবিসিসিআই। সংগঠনটির চূড়ান্ত করা বাজেট প্রস্তাবে বলা হয়েছে, নৈতিক কারণে আগের অপ্রদর্শিত আয়কে কম হারে কর প্রদানের মাধ্যমে বৈধ করার সুযোগ না দেয়া। তবে মূলধনী বিনিয়োগকে উৎসাহিত এবং সম্পদ ও মূলধন পাচার প্রতিরোধে অপ্রদর্শিত আয়কে যদি বৈধ করার সুযোগ রাখা হয় তবে তা কর্মসংস্থান সৃষ্টির ও ভবিষ্যৎ রাজস্ব আয়ের উৎস উৎপাদনমুখী শিল্প খাতে বিনিয়োগে প্রবাহিত করার সুযোগ বৃদ্ধি করবে।

এছাড়া সিরামিকস টাইলস, এলপিজি বোতল তৈরির প্লান্ট স্থাপন, ডায়মন্ড কাটিং ও হোটেল রিসোর্টসহ পর্যটন শিল্পের অবকাঠামো নির্মাণ খাতকে কর অবকাশ সুবিধার আওতায় আনার প্রস্তাব দিতে যাচ্ছে এফবিসিসিআই। কর অবকাশ সুবিধাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রতি বছর অগ্রিম আয়কর (এআইটি) রেয়াত প্রাপ্তির সার্টিফিকেট গ্রহণের হয়রানি দূর করতে অবকাশ সুবিধা অনুমোদনের সময় বিষয়টি সুরাহার দাবি জানাবে সংগঠনটি। ঠিকাদারদের বিলের ওপর আরোপিত উৎসে করহার পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব দেয়া হচ্ছে। ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত বিল উৎসে করের আওতামুক্ত রাখার দাবি জানাবে এফবিসিসিআই।

১২ থেকে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ১ শতাংশ, ২৫ লাখ থেকে ১ কোটি পর্যন্ত দেড় শতাংশ, এক কোটি থেকে ৩ কোটি পর্যন্ত ২ শতাংশ, ৩ কোটি থেকে ৫ কোটি পর্যন্ত আড়াই শতাংশ এবং ৫ কোটি টাকার বেশি বিলের জন্য ৩ শতাংশ হারে উৎসে কর কাটার প্রস্তাব দেয়া হচ্ছে। বর্তমানে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত বিল উৎসে করের আওতামুক্ত।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে