আপডেট : ১৯ এপ্রিল, ২০১৬ ০৮:৪৫

দ্বিগুণ হচ্ছে সংসদ সদস্যদের সম্মানী

বিডিটাইমস ডেস্ক
দ্বিগুণ হচ্ছে সংসদ সদস্যদের সম্মানী
সংসদ সদস্যদের (এমপি) সম্মানী আগের চেয়ে দ্বিগুণ হচ্ছে। তাদের মাসিক সম্মানী ২৭ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করে ভাতা বৃদ্ধিসংক্রান্ত বিল চূড়ান্ত করা হয়েছে।
 
সোমবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিলটির (মেম্বার অব পার্লামেন্ট (রিমিউনারেশন অ্যান্ড অ্যালাউন্সেস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট-২০১৬) প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হয়। আগামী ২৪ এপ্রিল অনুষ্ঠেয় সংসদ অধিবেশনে এটি পাস করার সুপারিশ করা হয়েছে।
 
কমিটির সভাপতি সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠক সূত্র আরও জানায়, সংসদ সদস্যদের (এমপি) সম্মানী ভাতা বৃদ্ধিসংক্রান্ত বিলটির অবশেষে সুরাহা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়ার হস্তক্ষেপে জাতীয় সংসদে উত্থাপিত এমপিদের প্রস্তাবিত অফিস খরচ আগের প্রস্তাবের চেয়ে আরও ৬ হাজার টাকা বাড়ানোর বিষয়টি নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে নিরসন হয়েছে বিলটি চূড়ান্ত করাসংক্রান্ত দীর্ঘদিনের জটিলতা।
সংসদ সদস্যদের সম্মানী ভাতা বৃদ্ধিসংক্রান্ত বিলটি গত ২৪ জানুয়ারি সংসদ অধিবেশনে উত্থাপন করেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। পরে তা অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। এরপর গত ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে বিলের বিষয়ে আপত্তি জানান কমিটির সদস্যরা। তখন তারা বলেছেন, সিনিয়র সচিবরা ৮২ হাজার টাকা (নির্ধারিত) বেতন পেলেও প্রস্তাবিত আইনে এমপিদের সম্মানী অনেক কম রাখা হয়েছে। এটি কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে এমপিরা শুধু আমলা কেন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের চেয়েও বেশি বেতন পাওয়ার দাবি রাখেন। যা করা হয়েছে সেটি খুবই সম্মানহানিকর। প্রয়োজনে সম্মানী ভাতা এক টাকা করা হোক। কিন্তু সম্মানটা যথাযথ দেয়া হোক। এরপর কমিটি একাধিক বৈঠক করলেও কোনো সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি।
 
বৈঠক সূত্র জানায়, আগের বৈঠকে আলোচিত ওই বিলটি ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত হলেও সোমবারের বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়ার উপস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে আবারও আলোচনা হয়। সেখানে এমপিদের অফিস খরচ ৯ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়। কমিটির সভাপতি সুরঞ্জিত সেনগুপ্তসহ উপস্থিত সদস্যরা এ প্রস্তাব মেনে নেন। এরপর বিলটি সংশোধনীসহ পাসের সুপারিশ করে সংসদে প্রতিবেদন উত্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়।
 
সংশ্লিষ্টরা জানান, চূড়ান্ত হওয়া বিলে এমপিদের বেতন ২৭ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫৫ হাজার টাকা, ব্যয় নিয়ামক ভাতা ৩ হাজার টাকার পরিবর্তে ৫ হাজার টাকা, দৈনিক ভাতা ৩০০ টাকার স্থলে ৭৫০ টাকা, স্বেচ্ছাধীন তহবিল ৩ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৫ লাখ টাকা, নির্বাচনী এলাকার খরচ (মাসিক) ৭ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২ হাজার ৫০০ টাকা, পরিবহন খরচ ভাতা (মাসিক) ৪০ হাজারের পরিবর্তে ৭০ হাজার টাকা, অভ্যন্তরীণ ভ্রমণ (বার্ষিক) ভাতা ৭৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে এক লাখ ২০ হাজার টাকা, লন্ড্রি ভাতা (মাসিক) এক হাজার থেকে বাড়িয়ে দেড় হাজার টাকা এবং ক্রোকারিজসহ অন্যান্য ভাতা ৪ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
 
এদিকে সোমবারের বৈঠকে আরও তিনটি বিলের প্রতিবেদন চূড়ান্ত করেছে কমিটি। বিলগুলো হল : স্পিকার অ্যান্ড ডেপুটি স্পিকার (রিমিউনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল-২০১৬, সিভিল কোর্টস (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল-২০১৬ এবং কোর্ট ফিস (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল-২০১৬। সংসদের আসন্ন অধিবেশনে বিলগুলো পাসের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
কমিটির সভাপতি সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ছাড়াও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্য আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, মো. তাজুল ইসলাম চৌধুরী, আবদুল মতিন খসরু, শামসুল হক টুকু ও অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা। বৈঠকে বিশেষ আমন্ত্রণে অংশ নেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া এবং অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এ ছাড়া বৈঠকে ছিলেন জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব ড. আবদুর রব হাওলাদার, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব আবু সালেহ্ শেখ মো. জহিরুল হক, লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের সচিব মোহাম্মদ শহিদুল হক, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
 
সূত্র-যুগান্তর
 
জেডএম
 
 
উপরে