আপডেট : ৬ মে, ২০২১ ২২:৩৭

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গাছ কাটা বন্ধ চেয়ে আইনি নোটিশ

অনলাইন ডেস্ক
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গাছ কাটা বন্ধ চেয়ে  আইনি নোটিশ

রাজধানী ঢাকার ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে গাছ কাটা বন্ধ করতে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ ৩ জনকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বৃহস্পতিবার মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের সচিব তপন কান্তি ঘোষ, গণপূর্ত বিভাগের চীফ ইঞ্জিনিয়ার মো: শামিম আখতার ও চীফ অর্কিটেক্ট অব বাংলাদেশ মীর মনজুর রহমানকে ইমেইলে নোটিশটি পাঠিয়েছেন।

নোটিশে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে গাছ কাটা বন্ধে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। অন্যথায় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে নোটিশে বলা হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়েছে, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বিশেষ গুরুত্বপুর্ন স্থাপনা সংরক্ষনের নির্দেশনা চেয়ে ২০০৯ সালে করা এক রিট আবেদনে হাইকোর্ট উদ্যান সংরক্ষণে কয়েকদফা নির্দেশনা দেন। ওই রায়ে বলা হয়, ‘রমনা তথা সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এলাকা নিছক একটি এলাকা নয়। এই এলাকাটি ঢাকা শহর পত্তনের সময় হতেই এ পর্যন্ত একটি বিশেষ এলাকা হিসেবে পরিগণিত। এর একটি ঐতিহাসিক ও পরিবেশগত ঐতিহ্যও আছে। আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের সকল গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা আন্দোলনের কেন্দ্র এই এলাকা। এই পরিপ্রেক্ষিতেও সম্পূর্ণ এলাকাটি একটি বিশেষ এলাকা হিসাবে সংরক্ষণের দাবী রাখে। এখানে এমন কোনো স্থাপনা থাকা উচিত নয়, যা এই এলাকার ইতিহাস-ঐতিহ্য বিন্দুমাত্র ম্লান করতে পারে।’

আরো বলা হয়, ‘পরিবেশগত দিক হতে রমনার উদ্যান বা রমনা রেসকোর্স ময়দান ঢাকা শহরের ফুসফুসের ন্যায় অবস্থান করছে। কোনভাবেই এটাকে রোগাক্রান্ত করা যায় না। যেহেতু স্মরণ কাল হতেই এটা উদ্যান হিসেবে পরিচিত, একারণে ২০০০ সালের ৩৬ নম্বর আইন অনুসারে সোহরাওয়ার্দী ‘উদ্যান’ সংজ্ঞার আওতাধীন এবং এই জায়গার শ্রেণি সাধারণভাবে অপরিবর্তনীয়। এটাকে অনাবশ্যক স্থাপনা দ্বারা ভারাক্রান্ত করা অবৈধ হবে।’

এই নোটিশে আরো বলা হয়, ‘আদালতের রায় উপেক্ষা করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মধ্যে ব্যবসায়িক স্বার্থে রেষ্টুরেন্ট/দোকান প্রতিষ্টার জন্য পরিবেশ ধংস করে অনেক গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। যা হাইকোর্টের রায়ের সম্পুর্ন পরিপন্থি।’

অন্যদিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ‘আন্তর্জাতিক মানের স্মৃতিকেন্দ্র’ গড়ে তোলার মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে ‘কিছু গাছ’ কাটা হয়েছে বলে জানিয়েছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, কিছু গাছ কাটা হলেও সেখানে আরও এক হাজার গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আর গাছ কাটা নিয়ে ‘খণ্ডিত তথ্য’ প্রচারে জনমনে ‘বিভ্রান্তির সৃষ্টি হচ্ছে’ বলে মন্তব্য করা হয় ওই বিবৃতিতে।

উপরে