আপডেট : ২ মে, ২০২১ ২২:৩৫

দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করছে সরকারঃ প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করছে সরকারঃ প্রধানমন্ত্রী

রবিবার (২ মে) প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে করোনাকালীন বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রম উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘এ দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করছে সরকার।

বাংলাদেশকে একটি উন্নত-সমৃদ্ধশালী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য যেমন বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চলছে তেমনি দুর্যোগে-দুঃসময়ে সাহায্যের হাত নিয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারের পাশাপাশি বরাবরের মতো আওয়ামী লীগ মানুষের সাহায্যে এগিয়ে এসেছে।’

করোনা মহামারির দ্বিতীয় ঢেউয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, দিনমজুর, শ্রমিক, গৃহকর্মী, রিকশা ও ভ্যানচালক, মোটর শ্রমিকসহ কর্মহীন বিভিন্ন পেশার ক্ষতিগ্রস্ত ৩৬ লাখ ৫০ হাজার পরিবারকে আড়াই হাজার টাকা করে নগদ অর্থ বিতরণ করা হবে। আগামী তিন দিনের মধ্যে নগদ, বিকাশ, রকেট এবং শিওর ক্যাশের মতো মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) মাধ্যমে জিটুপি (গভর্নমেন্ট টু পার্সন) ভিত্তিতে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে পৌঁছে যাবে এসব পরিবারের কাছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতির পিতার হাতে গড়া সংগঠন হচ্ছে আওয়ামী লীগ। আমরা সব সময় চিন্তা করি কীভাবে মানুষের পাশে দাঁড়ানো যায়, কিভাবে মানুষকে সাহায্য করা যায়। আওয়ামী লীগ তার পদাঙ্ক অনুসরণ করেই কাজ করে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ সব সময় জনগণের পাশে থেকেছে।’

এ প্রসঙ্গে দলটির সভাপতি হিসেবে তিনি রংপুরের মঙ্গা, দক্ষিণাঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাসসহ অন্যান্য দুর্যোগে নিজে গিয়ে দুর্দশা পর্যবেক্ষণ এবং সাধ্যমতো সহায়তার কথা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, সব সময় দুর্গত মানুষের পাশে আওয়ামী লীগ আছে। করোনায় শ্রমিক সংকটের কারণে ধান কাটার সমস্যা দেখা দেওয়ায় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ এবার মানুষের ধান কেটে দিয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর করোনা মহামারির কারণে যেসব নিম্ন আয়ের লোকজন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এবং কর্মহীন হয়ে পড়েছিল তাদের সহায়তার জন্য ‘নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদান’ কর্মসূচি চালু করা হয়েছিল। ২০২০ সালে করোনা মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্ত ৩৫ লাখ নিম্ন আয়ের পরিবারকে পরিবারপ্রতি ২ হাজার ৫০০ টাকা করে ৮৮০ কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি এই অর্থ দেওয়া হয়েছিল।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ আজকে ক্ষমতায়। আমাদের সবার চেষ্টা কীভাবে আমরা দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়াবো এবং সেই প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমাদের ছোট ভূখণ্ডে অধিক জনসংখ্যা। এই জনসংখ্যাকে একদিকে স্বাস্থ্য সুরক্ষা দেওয়া, অপরদিকে খাদ্যের ব্যবস্থা করা, তাদের জীবনকে সচল রাখার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি এবং সে কারণেই আমরা এই অসহায়, বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি।‘

১৯৭২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এক ভাষণে বলেছিলেন, আমাদের এমন একটা সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যে সমাজে কৃষকরা... ক্ষুধার্ত জনগণ আবার হাসতে পারবে। জাতির পিতা যেভাবে কাজ করতেন, আমরা সেটাই অনুসরণ করেছি। আমরা সব সময় এটাই চাই মানুষকে কীভাবে সহযোগিতা করবো। মানুষের পাশে দাঁড়াবো। আপনারা দেখেছেন ধান কাটার অসুবিধা, আমরা ছাত্রলীগকে বলার সঙ্গে সঙ্গে নেমে গেছে। কৃষক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুবলীগ, আওয়ামী লীগ প্রত্যেকেই কিন্তু এই করোনা মহামারিতে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, আর অন্যান্য কয়েকটা রাজনৈতিক দল। আমরাও তো বিরোধী দলে ছিলাম। আমরা বিরোধী দলে থাকতে সব সময় দুর্যোগ দুর্বিপাকে সবার আগে ছুটে যেতাম মানুষের পাশে। এটাই বিরোধী দলের কাজ। কিন্তু আজকে যারা নিজেদের বিরোধী দল বা প্রতিদিন সরকার উৎখাতের জন্য বক্তৃতা-বিবৃতি আন্দোলনের নামে পোড়াও-জ্বালাও করে যাচ্ছে, দুর্যোগে মানুষের পাশে কোথায় তারা? কয়টা দুর্গত মানুষের মুখে তারা খাবার তুলে দিয়েছে? কয়টা মানুষের পাশে তারা দাঁড়িয়েছে? কয়টা মরা মানুষের কাফনের কাপড় কিনে দিয়েছে। কেউ নেই?

উপরে