আপডেট : ৩০ এপ্রিল, ২০২১ ২৩:১৮

মামুনুল হকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, প্রতারণার অভিযোগ ঝর্নার, থানায় মামলা

অনলাইন ডেস্ক
মামুনুল হকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, প্রতারণার অভিযোগ ঝর্নার, থানায় মামলা

নারায়ণগঞ্জে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হকের বিরুদ্ধে শুক্রবার (৩০ এপ্রিল) সকালে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানায় ধর্ষণের মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি করেন মামুনুল হকের দাবিকৃত কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী জান্নাত আরা ঝর্না। মামলায় ঝর্নাকে আটকে রেখে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগসহ বিয়ের প্রলোভন, প্রতারণা ও নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলা দায়েরের পর দুপুরে জান্নাত আরা ঝর্নার ডাক্তারি পরীক্ষা নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে (ভিক্টোরিয়া) সম্পন্ন হয়েছে।

জান্নাত আরা ঝর্না গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, স্বামীর কাছ থেকে বিচ্ছেদ হওয়ার পর আমার অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়েছেন মামুনুল হক। ২০১৮ সাল থেকে সম্পর্ক স্থাপন করে একাধিকবার ধর্ষণ করেছেন। বিয়ে করবে বলে সময়ক্ষেপণ করে আমার সঙ্গে প্রতারণা ও অন্যায় করেছেন। তাই আমি রাষ্ট্রের কাছে প্রতারক মামুনুল হকের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছি।

নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম বলেন, এই মামলায় হেফাজত নেতা মামুনুল হককে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হবে এবং রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

মামুনুল হক দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করলেও মামলায় ঝর্না নিজেকে মামুনুল হকের স্ত্রী বলেননি। ঝর্না বলেন, ‘বিয়ের প্রলোভন ও অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে মামুনুল হক আমার সঙ্গে সম্পর্ক করেছেন। কিন্তু বিয়ের কথা বললে মামুনুল করবো বলে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। ২০১৮ সাল থেকে ঘোরাঘুরির কথা বলে মামুনুল বিভিন্ন হোটেল, রিসোর্টে আমাকে নিয়ে যান।’

মামুনুলের সঙ্গে পরিচয় প্রসঙ্গে জান্নাত বলেন, ‘২০০৫ সালে তার স্বামী মাওলানা শহীদুল ইসলামের মাধ্যমে মামুনুল হকের সঙ্গে পরিচয় হয়। স্বামীর বন্ধু হওয়ায় আমাদের বাড়িতে মামুনুলের যাতায়াত ছিল। মামুনুলের সঙ্গে পরিচয়ের আগে আমরা সুখে শান্তিতে বসবাস করছিলাম। আমাদের স্বামী-স্ত্রীর মতানৈক্যের মধ্যে প্রবেশ করে মামুনুল হক শহীদুল ও আমার মধ্যে দূরত্ব তৈরি করতে থাকেন। মামুনুলের কারণে আমাদের দাম্পত্য জীবন চরমভাবে বিষিয়ে ওঠে। সাংসারিক এই টানাপড়েনের একপর্যায়ে মামুনুলের পরামর্শে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়।’

অভিযোগে জান্নাত বলেন, ‘বিচ্ছেদের পর তিনি সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পারিবারিকভাবে অসহায় হয়ে পড়েন। এ সময় মামুনুল আমাকে খুলনা থেকে ঢাকায় আসার জন্য বলেন। আমি ঢাকায় চলে আসি। মামুনুল আমাকে তার অনুসারীদের বাসায় রাখেন। সেখানে নানাভাবে আমাকে প্রস্তাব দেন। একপর্যায়ে পারিপার্শ্বিক অবস্থার কারণে তার প্রস্তাবে রাজি হই। এরপর তিনি উত্তর ধানমন্ডির নর্থ সার্কুলার রোডের একটি বাসায় আমাকে সাবলেট রাখেন। একটি বিউটি পারলারে কাজের ব্যবস্থা করে দেন। ঢাকায় থাকার খরচ মামুনুলই দিচ্ছিলেন।’

জান্নাত আরা ঝর্না অভিযোগে আরও বলেন, ‘৩ এপ্রিল সোনারগাঁয়ের রয়্যাল রিসোর্টে ঘোরাঘুরির কথা বলে মামুনুল হক নিয়ে যান। সেখানে অবস্থানকালে কিছু মানুষ আমাদের আটক করে ফেলে। পরে মামুনুল হকের অনুসারীরা রিসোর্টে হামলা করে আমাদের নিয়ে যায়। কিন্তু মামুনুল আমাকে নিজের বাসায় ফিরতে না দিয়ে পরিচিত একজনের বাসায় অবৈধভাবে আটকে রাখেন। কারও সঙ্গে যোগাযোগও করতে দেননি।'

জান্নাত মামলার অভিযোগে আরও বলেন, পরে কৌশলে আমি আমার বড় ছেলেকে আমার দুরবস্থার সব কথা জানাই এবং আমাকে বন্দিদশা থেকে উদ্ধারের জন্য আইনের আশ্রয় নিতে বলি। পরে ডিবি পুলিশ আমাকে উদ্ধার করলে জানতে পারি, আমার বাবা রাজধানীর কলাবাগান থানায় আমাকের উদ্ধারের জন্য একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। পুলিশ আমাকে উদ্ধারের পর বাবার জিম্মায় দেয়। সেখানে আমি আমার পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে পরামর্শ করায় অভিযোগ দায়ের করতে বিলম্ব হয়।

জান্নাত আরা ঝর্নার বাবা ওলিয়ার রহমানকে গত ২৪ এপ্রিল জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয় ঢাকার গোয়েন্দা পুলিশ। আলফাডাঙ্গা উপজেলার গোপালপুর থেকে তাকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। এরপর ২৬ এপ্রিল মেয়েকে উদ্ধারে পুলিশের সহায়তায় চেয়ে কলাবাগান থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তিনি। পরদিন মোহাম্মদপুরের একটি বাসা থেকে ঝর্নাকে উদ্ধার করে ডিবি পুলিশ। ঝর্না উদ্ধার হওয়ার তিন দিনের মাথায় এই মামলা করলেন।

সোনারগাঁ থানার ওসি হাফিজুর রহমান বলেন, হেফাজত নেতা মামুনুল হকের বিরুদ্ধে শুক্রবার সকালে ধর্ষণ মামলাটি দায়ের করা হয়। এ মামলা তদন্ত করছেন সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শফিকুল ইসলাম। মামলাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পুলিশ তদন্ত করবে।

নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম বলেন, মামুনুল হকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের পর ভিকটিমের মেডিক্যাল পরীক্ষা নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে সম্পন্ন হয়েছে। এই মামলায় হেফাজত নেতা মামুনুল হককে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো এবং রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাবাসবাদ করা হবে। পুলিশ সুপার বলেন, ওই নারী জানান, রয়্যাল রিসোর্টের ঘটনার পর মামুনুল হক তাকে একটি বাসায় অবরুদ্ধ করে রেখেছিলেন। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে উদ্ধার করে। আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা করে শুক্রবার সোনারগাঁ থানায় মামলাটি দায়ের করেন তিনি।

উপরে