আপডেট : ২২ এপ্রিল, ২০২১ ২১:০৩

নৈরাজ্য নয় , আমরা সুশাসন চাইঃ ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী

অনলাইন ডেস্ক
নৈরাজ্য নয় , আমরা সুশাসন চাইঃ ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী

দেশের আড়াই কোটি দরিদ্র পরিবারের মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ১ বিলিয়ন ডলারের খাদ্য সরবরাহ করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘লকডাউনে মানুষের হাহাকার বন্ধে ঘরে ঘরে খাদ্য পৌঁছাও’ নাগরিক প্রতীকী অবস্থান শীর্ষক এক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

কর্মসূচিতে সভাপতি ভাসানী অনুসারী পরিষদের চেয়ারম্যান ও গণস্বাস্থ্যের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘সরকার কখনো জনগণের কথা ভাবে না। তাই আজকে এর মধ্য দিয়ে সম্মিলিত প্রচেষ্টা খুব অব্যাহত রাখতে হবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টাতে জনগণ জিতবেই, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে।’

দরিদ্রদের জন্য ১০ কোটি টাকা বরাদ্দের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সব ধরনের গবেষণা বলেছে যে বাংলাদেশে দরিদ্র পরিবার সোয়া ২ কোটি অতিক্রম করেছে। এই সোয়া দুই কোটি পরিবারের জন্য প্রধানমন্ত্রী সাড়ে ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছেন। এর মানে হচ্ছে প্রতি পরিবারে সোয়া ৪ টাকা করে পাবে। সোয়া ৪ টাকা দিয়ে রমজান মাসে কী খেতে পারেন? এই জাতীয় মশকরা করছেন আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। আজ ওনাকে স্মরণ করিয়ে দেয়া দরকার যে এই মশকরার দিন ফুরিয়ে আসছে।

তিনি বলেন, আপনি সাড়ে ১০ কোটি টাকা দান করে ভিক্ষা দিচ্ছেন কাকে? যার টাকা তাকেই। আপনার ঘোষণা অনুযায়ী আপনার (সরকার) তহবিলে আছে ৪৩ বিলিয়ন ডলার। কোনো চিন্তাভাবনা না করে আড়াই কোটি দরিদ্র পরিবারের মধ্যে ১ বিলিয়ন ডলার খাদ্য সহায়তা দেন।

জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, আরেকটা কথা আমি বলতে চাই; আমাদের যত রাজনীতিবিদ আছেন, সে বিএনপি হোক, কমিউনিস্ট পার্টি হোক, বাসদ হোক; সবাই মিলে চেষ্টা করলে বাংলাদেশ এক লক্ষ ধনী পরিবার, ব্যবসায়ীর কাছ থেকে সাত দিন চেষ্টা করলে ১০ কোটি টাকা উঠাতে পারি না? যারা মুক্তিযুদ্ধের সুবিধা নিয়ে, বাংলাদেশের সুবিধা নিয়ে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন তাদের মনে করিয়ে দিতে চাই আপনারা যদি সাহায্যে না নামেন তাহলে জাতি আপনাদের ক্ষমা করবে না।

ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, ‘আমরা মাওলানা ভাসানীর মতো বলতে বাধ্য হবো- আপনারা যদি এখনো সতর্ক না হন, সংশোধন হওয়ার চেষ্টা না করেন তাহলে জনগণও হয়ত আপনাদের ট্যাক্স দেয়া বন্ধ করে দেবে। তাতে দেশে নৈরাজ্য হবে, আমরা সুশাসন চাই, আমরা নৈরাজ্য চাই না। আমাদের ওপর অত্যাচারের খড়গ কমান।’

অবস্থান কর্মসূচিতে অন্যদের মধ্যে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, ড. রেজা কিবরিয়া, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকী প্রমুখ বক্তব্য দেন।

উপরে