আপডেট : ১৮ এপ্রিল, ২০২১ ১২:০৬

বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের মহীসোপানের দাবি, আপত্তি ভারতের

অনলাইন ডেস্ক
বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের মহীসোপানের দাবি, আপত্তি ভারতের

বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের মহীসোপানের দাবির বিষয়ে জাতিসংঘে আপত্তি তুলেছে ভারত। অন্যদিকে সমুদ্রসীমার বিরোধ নিষ্পত্তির পর মহীসোপানের দাবি নিয়ে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে মিয়ানমার। সম্প্রতি জাতিসংঘের মহীসোপানের সীমানা নির্ধারণবিষয়ক কমিশনে (সিএলসিএস) এ অবস্থান নেই মিয়ানমার। তবে আপত্তি জানায়নি দেশটি।

ভারত কমিশনকে (সিএলসিএস)  অনুরোধ করেছে, যেন বাংলাদেশের দাবি কোনোভাবেই বিবেচনা না করা হয়। বাংলাদেশ প্রাপ্য মহিসোপান থেকে নিজেদের অংশ দাবি করছে ভারত ও মিয়ানমার। দুই প্রতিবেশীর বিরোধিতার কারণে মহিসোপানের জটিলতার বিষয়টির এখনো সুরাহা হয়নি।

বাংলাদেশ ২০১১ সালে জাতিসংঘে মহীসোপানের দাবির বিষয়ে আবেদন জানায়। গত বছরের অক্টোবরে ওই দাবির বিষয়ে একটি সংশোধনী দেয় বাংলাদেশ।

জাতিসংঘের সিএলসিএস ওয়েবসাইটে শুক্রবার প্রকাশিত ভারতের আপত্তিপত্রে বলা হয়, বাংলাদেশ ভূখণ্ডের যে বেসলাইনের ওপর ভিত্তি করে মহীসোপান নির্ধারণ করেছে, সেটির মাধ্যমে ভারতের মহীসোপানের একটি অংশ দাবি করছে বাংলাদেশ। এ ছাড়া বঙ্গোপসাগরে যে ‘গ্রে এরিয়া’ রয়েছে, সেটির বিষয়ে বাংলাদেশ কোনো তথ্য দেয়নি। ‘গ্রে এরিয়া’ হচ্ছে বঙ্গোপসাগরে একটি ছোট অংশ, যেখানে পানির মধ্যে যে সম্পদ রয়েছে, যেমন মাছ, সেটির মালিক ভারত; কিন্তু মাটির নিচে যে খনিজ পদার্থ আছে, সেটির মালিক বাংলাদেশ। এর পরিমাণ প্রায় ৯০০ বর্গকিলোমিটার।

ভারতের আপত্তির বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স ইউনিটের সচিব অ্যাডমিরাল খুরশেদ আলম শনিবার একটি গণমাধ্যমকে বলেন, সিএলসিএসে আমাদের মহীসোপানের দাবির বিষয়ে আপত্তি তুলেছে ভারত। তাদের যুক্তিগুলো বিশ্লেষণ করে আমরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কমিশনে নিজেদের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরব।

খুরশেদ আলম আরও বলেন, বাংলাদেশ সমুদ্রসংক্রান্ত আইন অনুসরণ করেই নিজ ভূখণ্ডের বেসলাইন নির্ধারণ করেছে। এই বেসলাইন-সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় তথ্য বাংলাদেশ জাতিসংঘে জমা দিয়েছে।

দুই দেশের মাঝে থাকা ‘গ্রে এরিয়া’ নিয়ে বাংলাদেশ তথ্য দেয়নি, ভারতের এমন দাবির বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি জানান, ‘গ্রে এরিয়া’ হিসেবে অভিহিত অংশটি বঙ্গোপসাগরের ওয়াটার কলামের সঙ্গে সম্পর্কিত। এর সঙ্গে মহীসোপানের দাবির কোনো সম্পর্ক নেই। স্বাভাবিকভাবেই এটি মহীসোপানের দাবি বিবেচনার সময় প্রযোজ্য হবে না।

খুরশেদ আলম বলেন, ভারত যে বেসলাইনের ভিত্তিতে মহীসোপানের দাবি করেছে, সেটির বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ২০০৯ সালে আপত্তি জানিয়েছিল। বাংলাদেশের ওই দাবি এখনো বলবৎ আছে।

উপরে