আপডেট : ১৮ এপ্রিল, ২০২১ ১১:৪৪

চিত্রনায়ক ওয়াসিম আর নেই

অনলাইন ডেস্ক
 চিত্রনায়ক ওয়াসিম আর নেই

ঠিক ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে নিভে গেল চলচ্চিত্র আকাশের দুই জ্বলজ্বলে নক্ষত্র। ১৭ এপ্রিল প্রথম প্রহরে (রাত ১২টা ২০ মিনিট) এলো বাংলা চলচ্চিত্রের সবচেয়ে প্রভাবশালী অভিনেত্রী সারাহ বেগম কবরীর মৃত্যুর খবর।

চলচ্চিত্রের এই মিষ্টি মেয়েকে বিদায় জানানোর রেশ না কাটতেই চলচ্চিত্রের আকাশে নেমে এলো আরেক দুঃসংবাদ। ঠিক ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে প্রাণ হারালেন বাংলা চলচ্চিত্রের সোনালি দিনের সুপারস্টার ওয়াসিম।

রাজধানীর শাহাবুদ্দিন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে শনিবার (১৭ এপ্রিল) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন নায়ক ওয়াসিম (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক চিত্রনায়ক জায়েদ খান। কিছুদিন ধরে গুরুতর অসুস্থ ছিলেন ওয়াসিম। তিনি বলেন, ৭৪ বছর বয়সী ওয়াসিম কয়েক বছর ধরেই বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন। মাসখানেক ধরে তিনি হাঁটাচলাও করতে পারছিলেন না।

হাসপাতালের চিকিৎসক জয়ন্ত নারায়ণ শর্মা আচার্য সংবাদমাধ্যমকে জানান, ১২টা ৪০ মিনিটে জরুরি বিভাগে মেজবাহউদ্দিন আহমেদ ওয়াসিমকে আনা হলে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

১৯৫০ সালের ২৩ মার্চ চাঁদপুর জেলার মতলব জন্মগ্রহণ করেন এ অভিনেতা। ইতিহাস বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন তিনি। ১৯৬৪ সালে বডি বিল্ডিংয়ের জন্য তিনি ‘মিস্টার ইস্ট পাকিস্তান’ খেতাব অর্জন করেছিলেন।

১৯৭২ সালে ঢাকাই সিনেমাতে ওয়াসিমের অভিষেক হয় সহকারী পরিচালক হিসেবে ‘ছন্দ হারিয়ে গেলো’র মাধ্যমে। আর নায়ক হিসেবে তার যাত্রা শুরু হয় মহসিন পরিচালিত ‘রাতের পর দিন’ সিনেমার মাধ্যমে। দিন যতই যেতে থাকে ওয়াসিমের জনপ্রিয়তা ততই আকাশচুম্বী হয়। এক সময় বাণিজ্যিক ঘরানার সিনেমায় অপরিহার্য নায়ক হয়ে ওঠেছিলেন তিনি।

নায়ক ওয়াসিম অভিনীত উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে- ‘ছন্দ হারিয়ে গেলো’, ‘রাতের পর দিন’, ‘দোস্ত দুশমন’, ‘দি রেইন’, ‘রাজদুলারী’, ‘বাহাদুর, ‘মানসী’, ‘সওদাগর’, ‘নরম গরম’, ‘বেদ্বীন’, ‘ঈমান’, ‘লাল মেম সাহেব’ ইত্যাদি। বর্তমানে সিনেমা থেকে দূরেই ছিলেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে তার নতুন কোনো সিনেমা মুক্তি পায়নি।

ওয়াসিম বিয়ে করেছিলেন চিত্রনায়িকা রোজীর ছোট বোনকে। তাদের দুটি সন্তান হয়– পুত্র দেওয়ান ফারদিন এবং কন্যা বুশরা আহমেদ। ২০০০ সালে তার স্ত্রীর অকালমৃত্যু ঘটে। ২০০৬ সালে ওয়াসিমের কন্যা বুশরা আহমেদ ১৪ বছর বয়সে মানারাত ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের পাঁচতলা থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেন। পরীক্ষা চলাকালীন নকলের অভিযোগ তার পরিবারকে জানাবার প্রাক্কালে বাথরুমে যাওয়ার কথা বলে বুশরা লাফ দেন। অন্যদিকে পুত্র ফারদিন লন্ডনের কারডিফ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলএম পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে ব্যারিস্টার হিসেবে আইন পেশায় নিয়োজিত।

উপরে