আপডেট : ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৩:১৮

ভাড়া- ভোগান্তি দুটোই বেশি বেসরকারি লঞ্চে

বিডিটাইমস ডেস্ক
ভাড়া- ভোগান্তি দুটোই বেশি বেসরকারি লঞ্চে

ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ঢাকা-বরিশাল নৌরুটে ৭ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে সরকারি স্টিমার এবং বেসরকারি লঞ্চের বিশেষ সার্ভিস।

তবে যাত্রীদের অভিযোগ, ভাড়া আর ভোগান্তি দুটোই বেশি বেসরকারি লঞ্চে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, যাত্রীদের চাপ ও চাহিদা অনুযায়ী ৭ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১১ থেকে ১৩টি লঞ্চ সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ডাবল-ট্রিপে চলাচল করবে। অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিটিসি) ৫টি সরকারি জাহাজের বিশেষ সার্ভিস চলবে। দিনে কমপক্ষে ২টি করে জাহাজ চলবে ১৯ সেপ্টম্বর পর্যন্ত।

এদিকে ঈদকে সামনে রেখে দক্ষিণাঞ্চলের নৌ-রুটগুলোতে বাড়ানো হচ্ছে বেসরকারি লঞ্চ ভাড়া। উৎসব মৌসুম এলে প্রতি বছরই সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি ভাড়ার ফাঁদে পড়তে হয় বেসরকারি লঞ্চ যাত্রীদের। আশঙ্ক রয়েছে, এবার আবহাওয়ার কারণে যাত্রীদের দুর্ভোগও বাড়াবে।

বিআইডব্লিউটিএর নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপ-পরিচালক এবং বরিশাল নৌবন্দর কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান জানান, মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে বরিশাল-ঢাকা নৌ রুটে চলাচলকারী পারাবত কোম্পানির চারটি, সুন্দরবনের তিনটি, কীর্তনখোলার দুইটি, সুরভীর তিনটি, টিপুর দুইটি এবং কালাম খান ও দ্বীপরাজের একটি করে লঞ্চের সঙ্গে দিনের বেলায় গ্রিন লাইনের দুইটি জাহাজ সরাসরি ঢাকা-বরিশাল-ঢাকা রুটে যাত্রী পরিবহন করবে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আরও সাতটি লঞ্চ বিশেষ সার্ভিসে ভায়া বরিশাল হয়ে চলাচল করবে।

নিরাপত্তার ব্যাপারে তিনি জানান, অতিরিক্ত যাত্রীবহন রোধ, প্রয়োজনীয় বয়া এবং প্রশিক্ষিত চালক ও অন্যান্য কর্মচারী যাতে লঞ্চে থাকে সে ব্যাপারে দক্ষিণাঞ্চলের সকল স্টেশনে বার্তা দেওয়া হয়েছে। উদ্ধারকারী জাহাজ সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হবে নৌবন্দরে অবস্থানকালে যাত্রীদের নিরাপত্তায়ও বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে।

এছাড়া ঢাকা থেকে দক্ষিণাঞ্চলের নৌপথে দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য ঈদের আগে ও পরে ১৪ দিন বাল্কহেড, কার্গো চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

বরিশাল বিভাগের ঝালকাঠী, পিরোজপুর, বরগুনা, ভোলা ও পটুয়াখালীর যাত্রীদের জন্য ঢাকার সদরঘাট থেকে সিডিউল অনুযায়ী যে সকল লঞ্চ চলাচল করত সেভাবেই করবে। ওই পাঁচটি জেলায় যাত্রীর চাপ না থাকায় লঞ্চের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়নি।

ঈদের ৪/৫ দিন আগে থেকে ২/৩ দিন পর পর পর্যন্ত কর্মস্থলমুখী মানুষের যাতায়াত সুষ্ঠু ও সুন্দর করতে বরিশাল থেকে বিশেষ সার্ভিসে প্রতিদিন ১১ থেকে ১৩টি লঞ্চ যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। যাত্রীর চাপ না থাকলে ১৯ সেপ্টেম্বরের পর বিশেষ সার্ভিস বন্ধ হয়ে যাবে।

লঞ্চ মালিকদের দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সারা বছর রাজধানী থেকে বরিশালগামী লঞ্চগুলোতে ডেকে ২০০, সোফা ৫০০, সিঙ্গেল কেবিন ৮৫০ এবং ডাবল ১৬০০ থেকে ১৮০০ টাকা ভাড়া নেওয়া হয়। ভাড়ার ক্ষেত্রে ভিআইপি কেবিনের ভাড়া নির্ধারণ করা না-থাকায় ভিআইপি কেবিনের ভাড়া নেওয়া হয় প্রকারভেদে তিন থেকে চার হাজার টাকা।

বিআইডব্লিউটিসির বরিশাল স্টেশন ম্যানেজার সৈয়দ আবুল কালাম আজাদ জানান ১৬৯ কিলোমিটার ঢাকা-বরিশাল রুটে সরকারি জাহাজে  ডেক-১৭০, চেয়ার- ২৬০, প্রথম শ্রেণি ১০৫০, দ্বিতীয় শ্রেণি (লঞ্চের প্রথম শ্রেণি মানের) ৬৩০ টাকা ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে এ বছরও কেবিনের মূল্য বাড়িয়ে তা বিক্রি করছে লঞ্চ কোম্পানিগুলো। এবারের ঈদুল আজহায় ডেক ২৫০-৩০০, সোফা ৬০০-৬৫০,  সিঙ্গেল (এসি/ননএসি) ১০০০-১১০০ এবং ডাবল (এসি/ননএসি) ২১০০-২২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। চার হাজার টাকার ভিআইপি কেবিনের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা।

বরিশাল-ঢাকা নৌ রুটে চলাচলকারী বিলাসবহুল ১৭টি লঞ্চের কেবিন দেড় হাজারেরও বেশি। তারপরও কেবিনের টিকিট সংকট থেকেই যাচ্ছে। ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব কেবিন আগাম বুকিং হয়ে গেছে।

একই পথ অনুসরণ করেছে বিভাগের অপর পাঁচটি জেলা থেকে চলাচলকারী লঞ্চ মালিকরাও।

চাহিদার তুলনায় কেবিন সংখ্যা কম ও কালোবাজারিদের তৎপরতার কারণে কেবিনের টিকিট পেতে যুদ্ধ করতে হচ্ছে যাত্রীদের।

সারা বছর লঞ্চ মালিকরা উপরোক্ত ভাড়া নিলেও ঈদুল ফিতর এবং ঈদ উল-আজহার সময় সরকার নির্ধারিত ভাড়ার অজুহাত তুলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করেন। ঈদ পূর্ব এবং পরবর্তী ৭ দিনসহ ১৫ দিন চলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়।

লঞ্চ মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সাইদুর রহমান রিন্টু ভাড়া বাড়ানোর বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, তারা সরকার নির্ধারিত ভাড়ার মধ্যেই বাড়তি ভাড়া নেবেন। সারা বছর লঞ্চ মালিকরা সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে ৩০ থেকে ৪০ ভাগ কম ভাড়ায় যাত্রী পরিবহন করেন। এতে অনেক রুটে লোকসানও হয়। ঈদের সময় যাত্রী বেশি হওয়ার কারণে ওই লোকসান কাটিয়ে ওঠার সুযোগ আসে।

তাছাড়া বিশেষ সার্ভিস দিতে গিয়ে ঈদের আগে ও পরে উভয় প্রান্ত থেকে খালি জাহাজ চালিয়ে যেতে হয়। এ জন্য লঞ্চ মালিকরা জ্বালানি তেলের বাড়তি ব্যয় পুষিয়ে নিতে বাড়তি ভাড়া নিয়ে থাকেন।

তবে যাত্রীদের অভিযোগ, লঞ্চ মালিকরা ঘরমুখো লাখ লাখ মানুষের অসাহয়ত্বকে পুঁজি করে দুটি ঈদ উৎসবে সরকারি রেটের নামে যাত্রীদের ঝামেলায় ফেলেন। আর কোটি কোটি টাকা অতিরিক্ত ভাড়া হাতিয়ে নেন।

বিআইডব্লিউটিসির বরিশাল স্টেশন ম্যানেজার সৈয়দ আবুল কালাম আজাদ জানান, শিডিউল অনুযায়ী এবারের ঈদেও ঘরমুখো যাত্রী পরিবহনে পিএস অস্ট্রিচ ৭, ১০, ১৩ ও ১৬ সেপ্টেম্বর, এমভি মধুমতি ৮, ১১, ১৪, ১৭ সেপ্টেম্বর,  পিএস টার্ন ও এমভি মধুমতি, এমভি বাঙ্গালি ৮, ৯, ১২, ১৫ সেপ্টেম্বর,  পিএস লেপচা ৯, ১৬ সেপ্টেম্বর, পিএস টার্ন ১০ ও ১৭ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে ছেড়ে পিরোজপুরের হুলারহাট, বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ পর্যন্ত যাবে।

এ জাহাজগুলো চাঁদপুর, বরিশাল, ঝালকাঠী, কাউখালি ঘাটেও যাত্রাবিরতি করবে।

বিআইডব্লিউটিসির বরিশাল স্টেশন ম্যানেজার আজাদ জানান এছাড়াও উপকূলীয় রুটে নিরাপদ ও বিশেষ জাহাজ এমভি আবদুল মতিন, এমভি মনিরুল হক, এমভি বারআউলিয়া চলাচল করবে। দ্বীপ  ও চরাঞ্চলে যাতায়াতের জন্যে থাকবে বিশেষ সি-ট্রাক সার্ভিস।

যাত্রী চাহিদা থাকলে এ সব রুটে ট্রিপ আরও বৃদ্ধি করা হবে বলেও জানান তিনি।

জেডএম

উপরে