আপডেট : ১৮ আগস্ট, ২০১৬ ২২:৩১
গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা বলেন

‘বুকের দুধ খাওয়া থেকে বঞ্চিত শিশুদের মৃত্যু ঝুঁকি ১৪ শতাংশ বেশি’

অনলাইন ডেস্ক
‘বুকের দুধ খাওয়া থেকে বঞ্চিত শিশুদের মৃত্যু ঝুঁকি ১৪ শতাংশ বেশি’
গোলটেবিল আলোচনায় বক্তব্য দিচ্ছেন ইমদাদুল হক মিলন

‘শিশুর সুস্থ-সুন্দর দেহ গঠনে মায়ের দুধের গুরুত্ব অপরিসীম। এতে শিশুরা অনেক রোগ থেকে রক্ষা পায়। তাই মাতৃদুগ্ধ প্রদানের হার বৃদ্ধি করতে চাইলে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে। এজন্য আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। তবে শুধু আইন থাকলেই হবে না। প্রয়োগও করতে হবে। তার জন্য জনসচেতনতার প্রয়োজন আছে’ ইউ এসএইড ও কালের কণ্ঠ আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে কথাগুলো বলেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপন।

১৮ আগস্ট বৃহস্পতিবার  ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের কনফারেন্স হলে ‘প্রটেক্টিং অ্যান্ড প্রমোটিং ব্রেস্ট ফিডিং: চ্যালেঞ্জ অ্যান্ড অপারচুনিটিজ টু ইমপ্লিমেন্ট বিএমএস অ্যাক্ট ২০১২’ শীর্ষক এই গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়। ‍আলোচনা শুরু হয় বিকাল ৩টা ৩০ মিনিটে।

কালের কণ্ঠ সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলনের সঞ্চালনায় বৈঠকে আরও বক্তব্য দেন অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, ইউএসএআইডির পুষ্টি বিশেষজ্ঞ ড. ইফতেখার রশিদ , পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ শরীফ , সেভ দ্যা চিলড্রেন বাংলাদেশ এমসিএইচআইপির চীফ অব পার্টি জবি জর্জ, ইনস্টিটিউট অব পাবলিক হেলথ্ অ্যান্ড নিউট্রিশনের পরিচালক ড. এবিএম মোজহারুল ইসলাম, ইউনিসেফের ড. মহসিন আলী, বাংলাদেশ ব্রেস্ট ফিডিং ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. এসকে রায়, বাংলাদেশ পেডিয়াট্রিক এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. একে আজাদ চৌধুরী, ব্র্যাকের এইচএনপিপির পরিচালক ড. কাউসার আফসানা, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সহ-সভাপতি হেলাল উদ্দিন, এম আই বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা এসএম মোস্তাফিজুর রহমান, সোস্যাল মার্কেটিং কোম্পানির জেনারেল ম্যনেজার মো. তসলিম উদ্দিন, বাংলাদেশ হেলথ রির্পোটাস ফোরামের সহ-সভাপতি ড. নুরুল ইসলাম হাসীব প্রমুখ।

বৈঠকে মূল ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন আইসিডিডিআরবির খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টির পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে ১৯৯৪ সালে মাতৃদুগ্ধ খাওয়ানোর হার ছিল ৪৬ শতাংশ। ২০১৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫৫ শতাংশে। তবে সময়ে তুলনায় এই হার ততটা আশাব্যঞ্জক নয়।’ সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ানোর জন্য মায়েদের কাউন্সিলিং ও প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

গবেষণার তথ্য তুলে  ধরে তাহমিদ আহমেদ বলেন, ‘কাউন্সিলিংয়ের মাধ্যমে মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো ৬৬ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব। পাশাপাশি প্রশিক্ষণ দেওয়া হলে বুকের দুধ খাওয়ানো ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।’

ইমদাদুল হক মিলন বলেন, ‘আমরা মায়ের বুকের দুধ পান করে বেড়ে উঠেছি। আজকের মায়েরা সন্তানের কাছ থেকে দূরে সরে গেছেন। আর সন্তানেরাও মায়ের কাছ থেকে দূরে সরে গেছে। তিনি বলেন, ‘আজকের শিশুদের জন্য খেলার মাঠ নেই। তারা কোথাও খেলতে পারে না। এর সঙ্গে তারা মায়ের দুধ পায় না। যার কারণে একটি শিশু পরিপূর্ণভাবে বেড়ে উঠতে পারে না।’

অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আমরা এমডিজি থেকে এসডিজিতে উন্নীত হয়েছি। এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশের প্রত্যেক মার উচিত তার সন্তানকে  ছয় মাস বুকের দুধ খাওয়ানো। আমরা সেই লক্ষ্যে কাজ করছি। পাশাপাশি প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে সবাইকে একই ছাতার নিচে নিয়ে আসার কাজ চলছে। এখানে সরকার নেতৃত্ব দিবে আর আমাদের সবাইকে কাজ করতে হবে।’

এছাড়াও অন্যান্য বক্তারা বলেন, ‘সন্তানকে মায়ের বুকের দুধ না খাওয়ানোর কারণে শিশুদের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত ও অন্যান্য জটিলতায় প্রতিবছর বিশ্বে দুই লাখ ৩৪ হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হচ্ছে। উন্নয়নশীল দেশে এই ক্ষতির পরিমান বছরে ৫৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা। এ কারণে উন্নয়নশীল দেশের বার্ষিক প্রবৃদ্ধিতে (জিডিপি) তা বড় ধরনের নেতিবাচক ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি যেসব শিশু মায়ের দুধ খাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়, তাদের মৃত্যুর ঝুঁকি সাধারণ শিশুর চেয়ে ১৪ শতাংশ বেশি। এসব শিশুরা ডায়রিয়া, আমাশয়, নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। একটি স্বনির্ভর জাতি গঠনে এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে শিশুদের মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানোর কোনো বিকল্প নেই।

বৈঠকে সমাপনী বক্তব্য দেন ইউএসএইড বাংলাদেশের ডেভেলপমেন্ট আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন অফিসার ট্রয় বেকম্যান।

উপরে