আপডেট : ৪ জুলাই, ২০১৬ ১০:১১

কিভাবে ব্রেনওয়াশ করে জঙ্গি বানানো হয়!

অনলাইন ডেস্ক
কিভাবে ব্রেনওয়াশ করে জঙ্গি বানানো হয়!

ব্রেনওয়াশিং যেভাবে করা হয় তার মধ্যে একটি স্টেপ হল আইসোলেশন….. যাকে ব্রেনওয়াশিং করার টার্গেট করা হয়, তাকে পরিবার, বন্ধুবান্ধব, সমাজ বা পরিচিত পরিবেশ থেকে আলাদা করা হয়। এরপর আর পূর্বের বিশ্বাস, চিন্তা চেতনাকে ফরম্যাট করে নতুন বিশ্বাস ঢুকিয়ে দেওয়া হয়।

মোটিভেশন আর ব্রেনওয়াশিং দুটো আলাদা বিষয়….. মোটিভেশনের জন্য নিজের ইচ্ছে থাকতে হয়….এরপর সেই ইচ্ছাকে অনুপ্রাণিত করাই হল মোটিভেশন। কোন কিছু করতে আগ্রহী, কিন্তু করার সাহস বা শক্তি নেই এমন ব্যক্তিদের জন্য মোটিভেশন জিনিসটি ভাল কাজ করে।

কিন্তু ব্রেনওয়াশিং করা হয় নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে। অনাগ্রহী ব্যক্তিকেও আগ্রহী করে তোলা হল ব্রেনওয়াশিং এর মূল উদ্দেশ্য। ব্রেনওয়াশিং টার্মটি প্রথম আসে কোরিয়া যুদ্ধের পর। যুদ্ধের সময় আমেরিকান কিছু সৈন্যকে চীনারা বন্দি করে। যুদ্ধের পর তাদের ছেড়ে দিলে দেখা যায়, অনেক আমেরিকান সৈন্যেই চীনের কম্যুনিস্টপন্থী হয়ে গেছে। কারাগারেই তাদের ব্রেইনওয়াস করে চীনের কম্যুনিজম ঢুকে দেওয়া হয়েছে।

ব্রেনওয়াশিং করার আরো ‍কিছু স্টেপ আছে, তার মধ্যে একটি হল মানসিক ও শারীরিক টরচার……এটি করা হয় যাতে একজন মানুষ মানসিক ও শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পরে এবং যে ব্রেনওয়াশ করছে, তার উপর নির্ভরশীল হয়ে যায়।

মনের ভিতর কনফিউশন তৈরী করার জন্য কখনো কখনো একই কাজ করলে পুরস্কার দেওয়া হয়, আবার কখনো সেই কজেই শাস্তি দেওয়া হয়। ফলে তার মনে কনফিউশন তৈরী হয়ে যায় কোনটি সঠিক, কোনটি ভুল….. এতে সে সহজেই অন্যের নিয়ন্ত্রনাধীন হয়ে পরে।

ভালবাসা ও সাপোর্ট ব্রেনওয়াশিং এর আরেকটি পার্ট……এর ফলে যাকে ব্রেনওয়াশ করা হবে, পথমে তার বিশ্বাস অর্জন করা হয়, এরপর মনের ভেতর জায়গা করে নেওয়া হয়। টিম স্পিরিট তৈরী করার জন্য ও টিমের অন্যান্য মেম্বারদের মাঝে সস্পর্ক তৈরীর জন্য একটি ড্রেস কোড মেনে চলা হয়। ব্রেনওয়াশ চলাকালীন সময়ে সকলকে একই ধরনের ড্রেস পড়ানো হয়, যাতে স্বকীয়তা চলে গিয়ে দলীয় মনোভাব জেগে ওঠে।

ব্রেনওয়াশিং এর আরেকটি স্টেপের ভেতর পরে মনের ভেতর অপরাধবোধ জেগে তোলা…… সমাজে তার একরকম দায়িত্ব কিন্তু পালন করে আসছে আরেকরকম দায়িত্ব- এর ফলে এতদিন যে ভুল বা পাপ করেছে, সেই বিষয়ে তাকে অনুতপ্ত করে তোলা।

এর পরের স্টেপ হল ভয় দেখানো…. তার ভুল বা পাপের ফলে তার কি কর্মফল হতে পারে, সে বিষয়ে ভয় দেখানো হয়। ফলে সে তখন অপরাধবোধ থেকে মুক্তির জন্য সবকিছু করতে রাজি হয়….. এমনকি নিজের জীবন বিসর্জন দিতেও!

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/বুলা

 

উপরে