আপডেট : ৩ জুলাই, ২০১৬ ১৯:২৩

সেহরিতে মাছ ও চিংড়ি পরিবেশনের নির্দেশ দেয় জঙ্গিরা

অনলাইন ডেস্ক
সেহরিতে মাছ ও চিংড়ি পরিবেশনের নির্দেশ দেয় জঙ্গিরা

গুলশানের ‘হলি আর্টিজান’ বেকারিতে জঙ্গিরা সেহেরির সময় মুসলমান জিম্মিদের জন্য মাছ ও চিংড়ি পরিবেশনের আদেশ দেয় বলে জানিয়েছেন ওই বেকারির শেফ সুমীর বরাই। যিনি নিজেও জিম্মিদশায় ছিলেন, পরে কোনোরকমে পালিয়ে বের হতে পেরেছিলেন।

এছাড়াও রাতের দিকে বন্দুকধারীরা চা এবং কফি পরিবেশন করতে বলে। নিউইয়র্ক টাইমস-কে জিম্মিদশার বর্ণনায় তিনি এ তথ্য জানান সুমীর।

জঙ্গিদের একেবারে কাছ থেকে দেখা ও তাদের সাথে কথোপকথনের অভিজ্ঞতা থেকে সুমীর বরাই নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, তারা খুবই শিক্ষিত এবং স্মার্ট। তাদেরকে দেখে কেউ মনে করবে না যে, তারা এমন একটা কাজ করতে পারে।

শেফ সুমীর বরাই বলেন, বন্দুকধারীদের ভয়ে প্রথমে তিনিসহ সাত-আটজন ওয়াশরুমে পালালেও পরে বন্দুকধারীরা তাদের অভয় দিয়ে বলে, বাঙালিদের ভয়ের কোনো কারণ নেই। আমরা এখানে শুধু বিদেশিদের হত্যা করব।

ট্রান্সকম গ্রুপের চেয়ারম্যান লতিফুর রহমানের নাতি ফারাজ আয়াজ হোসেনকে চলে যেতে বললে সে তার সঙ্গে থাকা দুজন মেয়ে বন্ধুকেও ছেড়ে দেয়ার অনুরোধ করে। কিন্তু তাদের একজন ভারতীয় ও আরেকজন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হওয়ায় এবং তাদের পরনে পশ্চিমা পোশাক থাকায় বন্দুকধারীরা ওই দুজনকে ছাড়তে রাজি হয়নি। দুই বন্ধুকে না ছাড়িয়ে নিজেও চলে আসতে অস্বীকার করে ফারাজ। পরের দিন সকালে সেনাবাহিনীর কমান্ডো অভিযান শেষে ওই বেকারি থেকে যাদের লাশ বের করা হয়, সেখানে ফারাজের লাশও ছিল।

সামাজিক মাধ্যমগুলোতে এ ঘটনার প্রতিক্রিয়া দেখতে বন্দুকধারীদের দারুণ আগ্রহ ছিল বলে দাবি সুমীরের। এক পর্যায়ে স্টাফদের বেকারির ওয়াইফাই সংযোগও চালু করতে বলে তারা। এমনকি জিম্মিদের মোবাইল ফোনের সাহায্যে নিহতদের রক্তাক্ত লাশের ছবি ইন্টারনেটে পোস্ট করে বন্দুকধারীরা।

ভয়ঙ্কর সেই রাতের এক পর্যায়ে সুমীর বরাইসহ সাত-আটজনকে বন্দুকধারীরা ওই ওয়াশরুমেই তালাবদ্ধ করে রাখে। সেসময়ই প্রথমবারের মতো সুমীর বাইরে থাকা তার আত্মীয়ের কাছে বাইরের পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চেয়ে মেসেজ পাঠান। উত্তরে তার ওই আত্মীয় জানান, ওই সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখনও কোনো অভিযান পরিচালনা করছে না।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে