আপডেট : ১৬ এপ্রিল, ২০১৬ ০৮:১৫

নাজিমকেও হত্যা করেছে জঙ্গী গোষ্ঠী ‘আনসারুল্লা’

বিডিটাইমস ডেস্ক
নাজিমকেও হত্যা করেছে জঙ্গী গোষ্ঠী ‘আনসারুল্লা’

অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র নাজিম উদ্দিন সামাদ হত্যাকাণ্ডে জড়িত কাউকে ১০ দিনেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। পুলিশের ধারণা, এই হত্যাকাণ্ডও ঘটিয়েছে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিম।

শুধু নাজিম উদ্দিন হত্যাকাণ্ড নয়, গত এক বছরে চারজন ব্লগার, প্রকাশক হত্যা এবং তিনজন লেখক-প্রকাশকের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত প্রকৃত ব্যক্তিরাও গ্রেপ্তার হয়নি। তবে মামলাগুলোর তদন্তকারী সংস্থা বলছে, তদন্তে দৃশ্যমান কিছু না থাকলেও অগ্রগতি আছে। এসব হত্যাও ঘটিয়েছে আনসারুল্লাহ বাংলা টিম।

নাজিম উদ্দিন সান্ধ্যকালীন শাখার ছাত্র ছিলেন। ৬ এপ্রিল রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস শেষে গেণ্ডারিয়ার মেসে ফেরার পথে লক্ষ্মীবাজারে একরামপুর মোড়ে পাঁচ-ছয়জন দুর্বৃত্ত চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে এবং গুলি করে তাঁকে হত্যা করে। হত্যার পর তারা দুটি মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় করা মামলার তদন্ত করছে সূত্রাপুর থানার পুলিশ। ছায়া তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি), পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এবং র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।

নাজিম হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সূত্রাপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সমীর চন্দ্র সূত্রধর শুক্রবার বলেন, নাজিম ফেসবুকে যেসব লেখালেখি করতেন, সেগুলো ধরেই এখন তদন্ত এগোচ্ছে। এ পর্যন্ত ঢাকা ও সিলেটের ১৫-২০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে নাজিমের বন্ধু, ঘনিষ্ঠজন, যে বাড়িতে মেসে থাকতেন সেই বাড়ির লোকজনও রয়েছেন। তাঁদের কাছ থেকে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। এসব খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই মামলায় এখনো কাউকে শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করা যায়নি।

পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম বিভাগের প্রধান ও ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, হত্যার ধরন দেখে এখন পর্যন্ত তাঁদের ধারণা, আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের কোনো গ্রুপের হাতে নাজিম উদ্দিন খুন হয়েছেন। ছায়া তদন্তে এ-সংক্রান্ত বেশ কিছু তথ্যও মিলেছে। ওই গোষ্ঠীটিকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

২০১৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত নাজিম উদ্দিনসহ সাতজন অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট, ব্লগার, লেখক ও প্রকাশক খুন হয়েছেন। এর মধ্যে কেবল ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দার হত্যা মামলার বিচার হয়েছে। এ মামলায় আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের দুই সদস্যকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ, একজনকে যাবজ্জীবন এবং সংগঠনটির প্রধান মুফতি জসীম উদ্দিন রাহমানীসহ পাঁচজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন বিচারিক আদালত। আর তেজগাঁওয়ে ব্লগার ওয়াশিকুর রহমান হত্যা মামলায় অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। তবে এই হত্যার পরিকল্পনাকারী ‘বড় ভাই’কে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

মামলার তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র বলেছে, বিজ্ঞানবিষয়ক লেখক ও মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ রায়, প্রকাশক ফয়সল আরেফিন দীপন ও ব্লগার নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায় হত্যা মামলায় প্রকৃত খুনিরা গ্রেপ্তার হয়নি। সিলেটে ব্লগার অনন্ত বিজয় দাস হত্যা মামলার তদন্ত চলছে। লালমাটিয়ায় প্রকাশনা সংস্থা শুদ্ধস্বরের কার্যালয়ে ঢুকে এর স্বত্বাধিকারী আহমেদুর রশীদ চৌধুরী, দুই লেখক-ব্লগার সুদীপ কুমার রায় বর্মন (রণদীপম বসু নামে লেখেন) ও তারেক রহিমের ওপর হামলার মামলায়ও কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।

গত বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে একুশের বইমেলা থেকে বের হওয়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি-সংলগ্ন এলাকায় দুর্বৃত্তরা অভিজিৎ রায়কে কুপিয়ে হত্যা এবং তাঁর স্ত্রী রাফিদা আহমেদকে গুরুতর জখম করে। এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় করা মামলাটি তদন্ত করছে ডিবি পুলিশ। ডিবি এই মামলায় এ পর্যন্ত আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেছেন, এই মামলায় তাঁরা সাতজনকে শনাক্ত করেছেন। তবে কারাগারে থাকা আটজনের বিরুদ্ধে ওই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

পুলিশ তদন্ত নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করলেও ছেলের খুনিরা ধরা না পড়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন অভিজিতের বাবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক অধ্যাপক অজয় রায়।

প্রকাশক ফয়সল আরেফিনের বাবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক প্রথম আলোকে বলেন, মামলার তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি জানেন না।

সূত্র-প্রথম আলো

জেডএম

উপরে