আপডেট : ৯ এপ্রিল, ২০১৬ ০৯:০০

যুক্ত হচ্ছে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের পৃথক সেল

বিডিটাইমস ডেস্ক
যুক্ত হচ্ছে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের পৃথক সেল
নিষিদ্ধ আনসারুল্লাহ বাংলা টিমে (এবিটি) যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন স্লিপার সেল। দেশ ও দেশের বাইরে থেকে এসব সেল গঠন করা হচ্ছে। মালয়েশিয়ায় আত্মগোপনে থাকা এবিটির নেতা রেজওয়ানুল আজাদ রানা ও তামিম আল আদনানী এ সেল গঠনে ভূমিকা রাখছে। তাদের সঙ্গে আছে প্রযুক্তিমনস্ক একাধিক উগ্রপন্থী সদস্য। এ দলের  সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে কিলিং মিশনের নেতৃত্ব দিচ্ছে। প্রায় প্রতিটি ব্লগার হত্যা বা হামলা কেন্দ্র করে একটি করে স্লিপার সেল তৈরি হয়েছে। তবে আইনশৃংখলা বাহিনীর কঠোর নজরদারির কারণে সেলের সদস্যদের অধিকাংশ পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে।
 
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সূত্র জানায়, বিভিন্ন স্থানে যারা স্লিপার সেলের নেতৃত্ব দিচ্ছে এদের মধ্যে অন্যতম আবদুল করিম ওরফে জাবের, রেজওয়ান শরীফ, আলী আজাদ, নাইম, সাইফুল, আমিনুল, জাহিদ, শিকদার, কাওসার, কামাল, নবীর হোসেন, আবদুল্লাহ, হাসিব, ফাহিম, মানিক, সায়েম, সৌরভ সালেহ, তাহের, মাসুম, আসলাম ও জাহাঙ্গীর অন্যতম। এরা সবাই এবিটির কারাবন্দি নেতা মুফতি জসিম উদ্দিন রাহমানির অনুসারী।
 
ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. দিদার আহাম্মদ বলেন, উগ্রপন্থী সংগঠন এবিটির স্লিপার সেলের সব সদস্যই খুনে বিশ্বাসী। ধর্ম নিয়ে কটাক্ষকারী এবং ভিন্ন মতাদর্শে বিশ্বাসীদের কথিত ‘ইমানি দায়িত্ব’ নিয়ে হত্যার পরিকল্পনা করে থাকে তারা।
 
তিনি বলেন, বেশিরভাগ যুবক ও তরুণ শিক্ষিত পরিবারের সদস্য। তাদের পারিবারিক পরিচয়ও বেশ ভালো। কিন্তু এমনভাবে এদের ব্রেন ওয়াশ করে উগ্রপন্থী দলে ভেড়ানো হয়, যে তারা খুনের মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়তেও দ্বিধা করছে না। এই গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, এবিটির কিছু পুরনো সদস্য গাঢাকা দিয়ে আছে। এরাই নতুন নতুন স্লিপার সেল তৈরি করছে।
জানা গেছে, উগ্রপন্থী  জঙ্গিরা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক স্লিপার সেল গঠন করেছে। এদের প্রধান টার্গেট হল প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবী, রাজনৈতিক নেতা, লেখক, কবি, ব্লগার ও অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট। তালিকা ধরে সময় নিয়ে টার্গেটের কর্মকাণ্ড অনুসরণ করে। সুযোগ বুঝে হামলা চালায়।
 
গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, এবিটির স্লিপার সেলের সদস্যদের হাতে অত্যাধুনিক অস্ত্র তুলে দেয়া হয়েছে। একসময় এ সংগঠনের উগ্রপন্থীরা চাপাতি বা ছুরি দিয়ে কাজ সারলেও এখন তাদের অস্ত্র ব্যবহার করতেও দেখা যাচ্ছে। অধিকাংশ সময় আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্যরা বিভিন্ন ধরনের অ্যাপস ব্যবহার করে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষাসহ প্রয়োজনীয় বিষয়ে পরামর্শ করেন।
 
গোয়েন্দা কর্মকর্তারা আরও জানান, এবিটির নতুন স্লিপার সেলের সদস্যরা আগের চেয়ে আরও কৌশলী হয়ে অপারেশন করছে। সম্প্রতি রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও বাড্ডায় জঙ্গিঘাঁটি আবিষ্কারের পর এ বিষয়টি জানা যায়। দুটি আস্তানার সন্ধানের পর আটক  দুই জঙ্গি সালাহ উদ্দিন ও কামালের কাছ থেকে এসব বিষয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। বিশেষ করে এদের কাছে নতুন স্লিপার সেলের বিষয়ে কিছু তথ্য উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
 
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার (ডিসি) মাশরুক খালেদ বলেন, আটক জঙ্গিদের তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান অব্যাহত আছে। নতুন স্লিপার সেলের সদস্যদের ধরার জন্য কৌশলও নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, নতুন করে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে এবিটি। এ ক্ষেত্রে তাদের সহায়তা করছে অন্য গোষ্ঠী।
 
সুত্র-যুগান্তর
 
জেডএম
উপরে