আপডেট : ১ এপ্রিল, ২০১৬ ১২:২০

‘রকি হ্যন্ডসাম’

মুভি রিভিও
‘রকি হ্যন্ডসাম’

সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে ২০১০ সালের কোরিয়ান ব্লকবাস্টার সিনেমা ‘দ্য ম্যান ফ্রম নোহোয়ার’ এর বলিউড রিমেক ‘রকি হ্যান্ডসাম’ । জে. এ. এন্টারটেইনমেন্ট এবং অ্যাজুর এন্টারটেইনমেন্টের ব্যানারে মুক্তি পাচ্ছে অ্যাকশন থ্রিলার ‘রকি হ্যান্ডসাম’। চলচ্চিত্রটি প্রযোজনা করেছেন সুনীল খেতেরপাল এবং জন এব্রাহাম। অভিনয় করেছেন জন এব্রাহাম, শ্রুতি হাসান, নাতালিয়া কওর, বেবি দিয়া ছালওয়াড়, নিশিকান্ত কামাট, শারদ কেলকার এবং কাজু প্যাট্রিক তাঙ; একটি বিশেষ নৃত্যদৃশ্যে আছেন নোরাহ ফতেহি। নিশিকান্ত কামাট চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন। সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন সানি বাভরা, ইন্দর বাভরা এবং অঙ্কিত তিওয়ারি।

যারা যারা ‘দ্য ম্যান ফ্রম নোহোয়ার’ ও ‘রকি হ্যান্ডসাম’ এর ট্রেলার দেখেছেন তারা মোটামুটি জানেন যে এ মুভির গল্পতে কি আছে। মুভির গল্প খুব সিম্পল, এক রহস্যময় মানুষের সাথে একটি ছোট্ট মেয়ের ইমোশোনাল সম্পর্ক এবং মেয়েটি কিডন্যাপ হয়ে যাবার পর সেই মেয়েটির খোঁজে সেই রহস্যময় মানুষটির গোটা আন্ডারওয়ার্ল্ড ছারখার করে ফেলার রিভেঞ্জ স্টোরী হচ্ছে ‘রকি হ্যান্ডসাম’। এখন যেহেতু এটি একটি রিমেক মুভি সেহেতু প্রশ্ন আসতেই পারে, ‘রকি হ্যান্ডসাম’ এ ‘দ্য ম্যান ফ্রম নোহোয়ার’ এর কতটুকু রিমেক হয়েছে বা ভাল হয়েছে নাকি খারাপ হয়েছে। আমরা এর আগে বলিউডের দুটি সফল কোরিয়ান রিমেক মুভি দেখেছি ‘আওয়ারাপান’ ও ‘এক ভিলেন’ যার শুধু মাত্র থিমটা মুল মুভি থেকে নেয়া হয়েছিল ও বাকিটা ছিল বলিউডি থিউরী। ‘রকি হ্যান্ডসাম’ এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। এ মুভি সম্পূর্ণ রূপে ‘দ্য ম্যান ফ্রম নোহোয়ার’ এর রিমেক। এমনকি কিছু কিছু দৃশ্য, লোকেশন ও ডায়লগও হুবহু রিমেক করা হয়েছে অরিজিনাল মুভিটি থেকে। তারপরও বাকি দৃশ্যের লোকেশন ও প্রেক্ষাপটে ভিন্নতা ও কিছু গান ও ইমোশন অ্যাড করা হয়েছে যা সচারচর বলিউড মুভিতে থাকে। মোট কথা ‘রকি হ্যান্ডসাম’কে বলা যায় ‘দ্য ম্যান ফ্রম নোহোয়ার’ এর একটি ফেইথফুল রিমেক যেখানে বাহিরের কোন থিম অ্যাড করা হয়নি।

‘জন’ ও তার স্ত্রী ‘শ্রুতি হাসান’ এর সাথে একটি রোমান্টিক গান ও কিছু ইমোশোনাল দৃশ্যের দ্বারা অনেক সুন্দর করে একটি ইমোশোনাল প্লট তৈরী করা হয়েছে এই উপমহাদেশের দর্শকদের জন্য এবং বিশেষ করে ইন্ডিয়ান দর্শকেরা যা বেশী পছন্দ করে। অনেকে অভিযোগ জানাতে পারে শ্রুতি হাসান এর চরিত্রটির ব্যপ্তি আরো দীর্ঘায়িত কেন করা হল না ? কারণ এতে মুভির টোটাল রান টাইমে সমস্যা হত। ২ ঘন্টা দীর্ঘ ‘রকি হ্যান্ডসাম’ মুভিটিতে পুরোপুরি ‘দ্য ম্যান ফ্রম নোহোয়ার’ এর সকল এলিমেন্ট দেবার পর এক্সট্রা ‘শ্রুতি হাসান’ কে অ্যাড করা হয়েছে, তাই আমি মনে করি ‘শ্রুতি হাসান’ কে যতটুকু সময় দেয়া হয়েছে তাতেই সে সফল ভাবে দর্শকের মনে ইমোশোনাল জায়গা তৈরীতে সক্ষম হয়েছে (থ্যাঙ্কস টু ‘রেহনুমা’ গানটি)। ‘রকি হ্যান্ডসাম’ মুভির আরো একটি অভিযোগ হচ্ছে দুটি আইটেম সং কেন রাখা হল ? কারণ গোটা মুভিটি চরম মাত্রায় ভায়োলেন্স, ডার্কনেস ও স্যাডনেসে পরিপূর্ণ তাই এমন একটি মুভিতে যদি হালকা বিনোদন না থাকে তবে ইন্ডিয়ান দর্শকের জন্য এমন একটি মুভি হজম করা খুব কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। ঠিক এই কারণে দুটি আইটেম সং এর অবতারনা দর্শকের মাইন্ড ফ্রেশ করার জন্য। তাই বলে গান দুটি কিন্তু অপ্রয়োজনীয় ছিল না, কারণ ‘দ্য ম্যান ফ্রম নোহোয়ার’ এও ক্লাবের দৃশ্য ছিল, নর্তকীদের নাচের দৃশ্য ছিল আর সেই দৃশ্য গুলোই এ মুভিতে আইটেম সং এ বদলে দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি এই গান দুটির ফাঁকে ফাঁকে এমন কিছু দৃশ্য রাখা হয়েছে যা মিস করলে আপনি মুভির অনেক বড় মজা থেকে বঞ্চিত হবেন। প্রথম গান ‘তিতলি’র ফাকে ভিলেনের স্মাগলিং ডিল সংক্রান্ত কথোপকথন ও দ্বিতীয় গান ‘রক দ্য পার্টি’র ফাঁকে আছে ‘জন’ এর কিছু হার্ডকোর অ্যাকশন। সুতরাং গান দুটি আপনাকে বিনোদন দেবার পাশাপাশি গল্পের সাথেও জড়িয়ে রাখবে। ‘দ্য ম্যান ফ্রম নোহোয়ার’ এর গল্প মূলত অনেক স্ট্রেট ফরোয়ার্ড ছিল আর ‘রকি হ্যান্ডসাম’ ঐ একই গল্পই একটু নাটকীয়তা, সাসপেন্স ও ড্রামাটিক স্টাইলে উপস্থাপন করেছে।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/এএ

 

উপরে