আপডেট : ৩১ মার্চ, ২০১৬ ১৩:২৩

‘হিরো ৪২০’

মুভি রিভিও
‘হিরো ৪২০’

চলচ্চিত্রের বাজারে মন্দা এখন দুই বাংলাতেই। বছর দুয়েক ধরে যৌথ প্রযোজনায় চলচ্চিত্র নির্মাণ করে চলা বাংলাদেশি প্রযোজনা সংস্থা জাজ মাল্টিমিডিয়ার নতুন প্রয়াস ‘হিরো ৪২০’কে বলতেই হবে এই ব্যানারের সবচেয়ে উন্নত সিনেমা। আগের ভুল শুধরে দর্শককে ভালো কিছু উপহার দেয়ার প্রচেষ্টা সহজেই চোখে পড়বে সিনেমাটিতে। তবে বরাবরের মতো, যৌথ প্রযোজনার নিয়ম ভাঙার অভিযোগ কিন্তু থেকেই যাচ্ছে।

‘হিরো ৪২০’-এ অভিনয় করেছেন জাজের আরো দুই যৌথ প্রযোজনার সিনেমার নায়ক পশ্চিমবঙ্গের অভিনেতা ওম। তার সঙ্গে দেখা গেছে মুনমুন সেনের মেয়ে অভিনেত্রী রিয়া সেন এবং বাংলাদেশের নায়িকা নুসরাত ফারিয়া মাযহারকে। আরো একবার খলচরিত্রে ফিরেছেন আশিস বিদ্যার্থী। আছেন বাংলাদেশের আহমেদ শরীফ, তানভির তনুসহ বিলাস খান, শিমুল খান, প্রদীপ রাওয়াত, মৌমিতা প্রমুখ।

তেলেগু চলচ্চিত্র ‘মাস্কা’র আনুষ্ঠানিক বাংলা রিমেইক হল ‘হিরো ৪২০’। তাই গল্পের মৌলিকতা নিয়ে প্রশ্ন করার জো নেই। কমেডি, রোমান্স এবং অ্যাকশন - সবই আছে এতে। কিন্তু চিত্রনাট্যের গাঁথুনি আরো শক্তিশালী হলে গল্পটি দর্শকের মনে দাগ কাটতে পারতো। দু-দুটি সুন্দরী নায়িকার সঙ্গে নায়কের রসায়ন আরো জমে ওঠার সুযোগ ছিল। কিন্তু কাহিনির অহেতুক দ্রুততা কাহিনির মজা অনেকটাই নষ্ট করে দিয়েছে বলা চলে। 

রিয়া সেনের চরিত্রটি এতে গুরুত্বপূর্ণ হলেও মূল নায়িকা ছিলেন ফারিয়া। তবে ফারিয়ার সঙ্গে নায়কের প্রেমের দৃশ্য খুব কমই চোখে পড়েছে। দুটো গানের মাধ্যমেই তাদের প্রেমের যাত্রার শুরু এবং শেষ হয়েছে, যার পরিধি আরো একটু বাড়ানো যেতো। বরং বলা যায়, ফারিয়ার চেয়ে রিয়ার সঙ্গেই পর্দায় রোমান্স করার সময় বেশি দেয়া হয়েছে ওমকে।

‘আশিকি’র পর এটি ছিল নুসরাত ফারিয়া অভিনীত দ্বিতীয় চলচ্চিত্র। এতে ফারিয়াকে দেখা গেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন অবতারে। মায়ের চিকিৎসার জন্য চাকরির পেছনে ছোটা একজন সংগ্রামী যুবতী রাই তালুকদারের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন ফারিয়া। এতে ফারিয়ার পোশাক ও সজ্জায় যতটা গুরুত্ব দেয়া হয়েছে, চরিত্রটি ততটা বিকশিত হওয়ার সুযোগ পায়নি।

অপরদিকে পর্দায় উপস্থিতি কম হলেও মনে দাগ কাটতে সক্ষম হবে রিয়া সেন অভিনীতরিয়া চরিত্রটি। অভিজাত পরিবারের এক পাগলাটে মেয়ের চরিত্রে দেখা গেছে রিয়াকে, যার অহংকার এবং ক্ষমতার দম্ভ তার চরিত্রকে করে তুলেছে আরো আবেদনময়ী।

ওম সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করলেও মূলত দুই নায়িকার মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় রাখতেই কাজ করেছেন তিনি। তার ৪২০ থেকে হিরো বনে যাওয়ার পেছনে দুই নারীর প্রভাবশালী উপস্থিতিই বেশি মনে থাকবে দর্শকের।

‘হিরো ৪২০’এর মূল আকর্ষণ বলা চলে নুসরাত ফারিয়াকে। এছাড়া বাংলাদেশের ছোঁয়া প্রায় দেখাই যায়নি পুরো সিনেমায়। ‘অঙ্গার’- এর মাধ্যমে এই অপবাদ ঘোঁচাতে পেরেছিল জাজ বেশ ভালোভাবেই। কিন্তু আবারও যেন একই পথে হাঁটতে দেখা যাচ্ছে তাদের যৌথ প্রযোজনার সিনেমাকে। কলাকুশলীদের মধ্যে বাকি যারা ছিলেন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে, তাদের বেশিরভাগই টালিগঞ্জের। 

একই অভিযোগ লোকেশনের ক্ষেত্রেও খাটছে। সিনেমাটির ক্লাইম্যাক্স বাংলাদেশে চিত্রায়িত হলেও তা বোঝার কোনো উপায় ছিল না। এছাড়া বাদবাকি যতো গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্য দেখা গেছে তার সবটাই ধারণ করা হয়েছে ভারত কিংবা বিদেশের মাটিতে।

তবে যেসব দিক থেকে ‘হিরো ৪২০’ প্রশংসা পাওয়ার মতো, তার মধ্যে রয়েছে চিত্র গ্রহণ। বিশেষ কিছু দৃশ্যের চিত্র গ্রহণে দক্ষতা ছিল অভূতপূর্ব, যা এখন পর্যন্ত ঢাকাই সিনেমায় দেখা যায়নি। উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে ওমের ছাদ থেকে পড়ে যাওয়ার ঠিক পরের মুহূর্তের দৃশ্যটির কথা।

সংগীতের বেলায় এবারও বলিউডি মশলাদার গানের স্বাদ পাওয়া গেছে যৌথ প্রযোজনার সিনেমাটিতে, পাশাপাশি ছিল প্রেমের গান। গানগুলো প্রশংসিত হলেও অনুকরণের অভিযোগ উঠেছে‘থ্রিজি’ গানটির বিরুদ্ধে, যা বলিউডপ্রেমীদের মনে করিয়ে দিবে ‘ম্যায় তেরা হিরো’ সিনেমাটির গান‘গালাত বাত হ্যায়’-এর স্মৃতি।

সময় কাটানোর জন্য নিঃসন্দেহে একটি ভালো উপায় হতে পারে ‘হিরো ৪২০’। এতে অ্যাকশন আছে, রোমান্স আছে, তবে এর হাস্যরসাত্মক মুহূর্তগুলো দর্শককে সবচেয়ে বেশি আনন্দ দেবে। আর একজন বাংলাদেশি দর্শকের জন্য এই সিনেমাটি দেখার কারণ একটাই, তা হলো নুসরাত ফারিয়ার গ্ল্যামারাস উপস্থিতি।  

 

 

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/এএ   

 

উপরে