আপডেট : ১১ মার্চ, ২০১৮ ১৯:০২

বিশ্বের দুর্ধর্ষ ১০ গোয়েন্দা সংস্থা, শীর্ষে মোসাদ!

অনলাইন ডেস্ক
বিশ্বের দুর্ধর্ষ ১০ গোয়েন্দা সংস্থা, শীর্ষে মোসাদ!

বিভিন্ন দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দেশের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ, গবেষণা ও সেগুলোকে নিরাপদে রাখার দায়িত্ব পালন করে। এই গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি, গুপ্তচর সংস্থা, সিক্রেট এজেন্সি বিভিন্ন নামে ডাকা হয়। তবে নাম যাই হোক না কেন, এদের কাজ মোটামুটি এক। এদের মাঝে কোনো সংস্থার নজর থাকে আন্তর্জাতিক সুরক্ষার প্রতি, আবার কোনো কোনোটি যুক্ত থাকে অভ্যন্তরীণ সুরক্ষার ব্যাপারে। অনেকের মনেই একটা প্রশ্ন জাগে কোন দেশের গোয়েন্দা সংস্থা সব থেকে দুর্ধর্ষ? তবে চলুন জেনে নেওয়া যাক বিশ্বের সেরা ১০ গোয়েন্দা সংস্থা সম্পর্কে।

১। মোসাদ (MOSSAD)

বর্তমান বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে সব থেকে দুর্ধর্ষ গোয়েন্দা সংস্থার নাম মোসাদ। মোসাদ ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা। এটি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে সরাসরি পরিচালিত হয়। মোসাদ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৪৯ সালের ১৩ ডিসেম্বর। মোসাদের কাজের বাজেটও কারও জানা নেই। এই সংস্থার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী এমএসএস, এফএসবি, হিজবুল্লাহ এবং হামাস।

ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের বিখ্যাত অপারেশনগুলো হচ্ছে- ১৯৬০ সালে আর্জেন্টিনায় আইখম্যান হান্ট, ১৯৬৫ সালে হেবাররত চুকারস হত্যা, ১৯৬৩-৬৬ সালের অপারেশন ডায়মন্ড, ১৯৭২ সালের মিউনিখ অলিম্পিকে হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ, ১৯৯০ সালের অপারেশন জেরাল্ড বুল কিলিং, ১৯৯২ সালের আতেফ বেইসো হত্যাকাণ্ড, ২০১০ সালের মোহাম্মদ আল মাবহু হত্যাকাণ্ড।

২। সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (সিআইএ)

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের আওতাধীন একটি বেসামরিক গোয়েন্দা সংস্থা সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন সময়ে গঠিত অফিস অফ স্ট্র্যাটেজিক সার্ভিসেস এর উত্তরসূরী হিসেবে সিআইএর জন্ম। এর দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং উচ্চপদস্থ নীতিনির্ধারকদের কাছে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করা।

সিআইএ পৃথিবীর সব ধরনের ডিভাইসে একসেস নিতে পারে। বিশেষ সার্চ ইঞ্জিনের সাহায্যে অনলাইন-অফলাইনের সব ধরনের তথ্য তারা পেতে পারেন। সিআইএর মতো গোয়েন্দা সংস্থাকে ফাঁকি দেওয়ার জন্য সন্ত্রাসীরা ডেটা এনক্রিপশন পদ্ধতির আশ্রয় নেয়।

৩। এমআইসিক্স

এমআইসিক্স ব্রিটিশ মিলিটারির ইন্টেলিজেন্স এর একটি বিশেষায়িত শাখা। সংস্থাটির অফিসিয়াল নাম সিক্রেট ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস (এসআইএস)। ১৯০৯ সালের অক্টোবরে সিক্রেট সার্ভিস ব্যুরো নামে এটি গঠিত হয়। এমআইসিক্স, মোসাদ এবং আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থা সিআই এক সঙ্গে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক বজায় রাখে। এই তিন সংস্থা একে অপরের সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদান করে।

৪। এমএসএস (MSS)

চীনের গোয়েন্দা সংস্থা মিনিস্ট্রি অব স্টেট সিকিউরিটি। এর চীনা নাম গওজিয়া অ্যাংকেন বু। এটি বিশ্বজুড়ে এমএসএস নামে পরিচিত। এমএসএসের অনেক কিছুই সাধারণ মানুষের অজানা। আর এর কর্মী সংখ্যা পৃথিবীর সব গোয়েন্দা সংস্থার তুলনায় সবচেয়ে বেশি বলে ধারণা করা হয়। ধারণা করা হয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউকে, কানাডা, ইউরোপ, ভারত, জাপানে আন-অফিশিয়াল কাভারে যেমন ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, খেলোয়াড়, ব্যাংকার, শিক্ষক, রাজনীতিবিদ হিসেবে কমপক্ষে ১২০ জন করে এমএসএস কর্মী অবস্থান করছেন। পৃথিবীর অন্যসব গোয়েন্দা সংস্থাকেই এমএসএস তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করে।

৫। এফএসবি (FSB)

এফএসবি রাশিয়ার কেন্দ্রীয় গুপ্তচর সংস্থা। এটি ক্রেমলিনের সঙ্গে কাজ করে। রাশিয়া এফএসবির মূল নাম ফেডারেলনায়া সুলঝবা বেজপাসনোস্তি রাশিস্কয় ফেডেরাটসি। রাশিয়ার বর্তমান গোয়েন্দা সংস্থা এফএসবির পূর্বসূরি ছিল দুনিয়া কাঁপানো গোয়েন্দা সংস্থা কেজিবি। আর কেজিবিরও আগে এর নাম ছিল চেকা। এফএসবির কর্মী সংখ্যা আনুমানিক লক্ষাধিক।

৬। বিএনডি (BND)

জার্মানির বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থার নাম জার্মান ভাষায় বুন্দেসন্যাচরিচটেনডিয়েনস্ট বা বিএনডি (BND)। ইংরেজিতে ফেডারেল ইনটেলিজেন্স সার্ভিস। বার্লিনে অবস্থিত সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়ে চার হাজার কর্মী একসঙ্গে কাজ করে। বিশাল এই কার্যালয়টি প্রায় ৩৫টি ফুটবল মাঠের সমান। বিএনডি বৈদেশিক গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, কাউন্টার ইনটেলিজেন্স পরিচালনা, বিভিন্ন দেশে গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা করা, কাউন্টার টেররিজম, নিজস্ব লোক সংগ্রহ ও নেটওয়ার্ক তৈরিতে কাজ করে।

৭। আইএসআই

আইএসআই বিশ্বের সব থেকে বিতর্কিত গোয়েন্দা সংস্থা। পাকিস্তানে ‘সরকারের ভিতরে সরকার’ নামে বহুল পরিচিত ও ক্ষমতাধর ক্ষমতাধর গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই। সংস্থাটির মূল প্রতিদ্বন্দ্বি র এবং মোসাদ। আইএসআই এর বিখ্যাত মিশন গুলো হলো সোভিয়েত বিরোধী আফগান যুদ্ধ, কার্গিল যুদ্ধ, ওয়ার অন টেরর ওয়াজিরিস্তান এবং বালুচিস্তানে আকবর বুগাতি হত্যাকান্ড।

৮। রিসার্চ অ্যান্ড এনালাইসিস উইং (RAW)

ভারতের আলোচিত গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ এন্ড এনালাইসিস উইং প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬৮ সালের ২১ সেপ্টেম্বর । এর প্রধান কাজ হল বিদেশি গোপন গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, কাউন্টার টেরোরিজম এবং গোপন অপারেশন চালানো। র’ বিদেশি সরকার, ব্যাবসায়ী, ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ এবং বিশ্লেষণ করে থাকে এবং সে অনুযায়ী ভারতীয় নীতিনির্ধারকদের পরামর্শ দিয়ে থাকে। এশিয়াসহ বিশ্বের অনেক দেশে র এর এজেন্ট রয়েছে। র’ তাদের যাবতীয় গোয়েন্দা প্রযুক্তি ও অস্ত্র-শস্ত্রের জন্য মোসাদের সহযোগিতা পেয়ে থাকে।

৯। ডিজিএসই (DGSE)

ফ্রান্সের বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা হলো ডিজিএসই । এর সদর দফতর প্যারিসে। ডিজিএসই ফ্রান্সের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পরিচালিত হয়। এর প্রধান কাজ হল বাইরের দেশের বিভিন্ন সূত্র থেকে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং তা মিলিটারি এবং নীতিনির্ধারকদের কে সরবরাহ করা। ডিজিএসইতে প্রায় ৫ হাজারের বেশি কর্মকর্তা কাজ করেন।

১০। এএসআইএস (ASIS)

স্ট্রেলিয়ার সরকারি গোয়েন্দা সংস্থা এএসআইএস। প্রধান কার্যালয় ক্যানবেরাতে। সংস্থাটি ১৯৫২ সালের ২৩ মে প্রতিষ্ঠিত হয়। এই সংস্থাটি ২০ বছর পর্যন্ত গোপন ছিল। এমনকি অস্ট্রেলিয়ার সরকারও এই এজেন্সি সম্পর্কে জানতো না। এর প্রধান কাজ হল এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকার গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে