আপডেট : ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১৬:৪৩

আইনি লড়াই করে উত্তীর্ণ সব প্রাথমিক শিক্ষককে নিয়োগ দেবে সরকার

আজাদ খান
আইনি লড়াই করে উত্তীর্ণ সব প্রাথমিক শিক্ষককে নিয়োগ দেবে সরকার

চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত ১৮১৪৭ জন সহকারী শিক্ষক নিয়োগের প্রাক্কালে যেসব জেলায় নিয়োগের বিরুদ্ধে রিট হয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেছে আদালত, তাদের প্রতি আমার আহ্বান, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় আপনাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা অনুযায়ী সকল কোটা অনুসরণ করে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সহিত সম্পন্ন করেছে। এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বিধিমালার কোনো ব‍্যতায় ঘটেনি।

আপনাদের জ্ঞাতার্থে একটি কথা বলতে চাই। ২০০০ সালে আমি সহকারী শিক্ষক পদে যোগদান করি। কিন্তু ২০০০ সালে দুই ধাপে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছিল। প্রথম ধাপে যে নিয়োগ হয়েছিল সেখানে সকল কোটা মেনে নিয়োগ দিয়েছিলো কর্তৃপক্ষ। ২য় ধাপের নিয়োগের ক্ষেত্রে ‘মহিলা কোটায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক যোগ‍্য মহিলা প্রার্থী না পাওয়ায় মেধাবী শিক্ষক দিয়ে শূন্য পদ পূরণ করা হলো’ এই বিধিতে আমার রাজাপুর উপজেলায় আমি সহ ৬ জনের ২য় ধাপে চাকরি হয়েছিল।

প্রিয় শিক্ষকবৃন্দ,এই আধুনিক এবং প্রযুক্তির যুগে এখনো কিছু মানুষ আছে যারা সেকেলের রয়ে গেছে। তাদেরকে কিছু দালাল ভুল বুঝিয়ে, বিধিমালার ভুল ব‍্যাখ‍্যা দিয়ে প্রায় ২০ টি জেলার চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত সহঃ শিক্ষকদের বিরুদ্ধে রিট করিয়েছে, এবং নিয়োগ বন্ধ করে রেখেছে।যারা এটা করিয়েছে তারা একটি উদ্দেশ্য নিয়ে এ কাজটি করেছে।আর তা হলো রিট থেকে ব‍্যাবসা করা। কিন্তু সরকার এই নিয়োগের বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে,যে সকল জেলায় রিট হয়নি সেসব জেলায় যথাসময়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।আর যেসব জেলায় রিট হয়েছে সেখানে সরকার নিজ উদ্যোগে রিটের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই করবে এবং নির্বাচিতদের নিয়োগ দিবে।

আপনারা ইতোমধ্যেই জেনেছেন যে নওগা জেলার রিট খারিজ হয়ে গেছে। সেখানে নতুন নির্বাচিত শিক্ষকরা নয়, সরকার এই রিটের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই করেছে এবং রিট খারিজ হয়ে গেছে। যে কাজটি সরকার করেছে। তাই এখানে নুতন নির্বাচিত শিক্ষকদের কোনো টাকা খরচ হয়নি।

সুপ্রিয় নতুন নির্বাচিত শিক্ষক বন্ধুরা, আপনাদের কে বলছি, যে সকল জেলায় রিট হয়েছে , সেসব জেলার নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সরকার ইতোমধ্যেই আইনি লড়াইয়ে নেমেছে যা দ্রুত শেষ করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে। এজন্য মন্ত্রনালয়ের অধীনে বেশ কয়েকজন ল`ইয়ার মাসিক সম্মানি ভাতা দিয়ে রাখা হয়েছে।প্রত‍্যেক রিটে এদের সাথে এটর্নি জেনারেল এর কার্যালয় থেকে একজন ল`ইয়ার নিয়োগ দেন হিয়ারিংয়ে অংশ নেয়ার জন্য।

তাহলে আপনারা নিশ্চয়ই বুঝেছেন কাজটি শতভাগ সরকার করতেছে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় এই রিটগুলো যেমন কিছু রিট ব‍্যাবসায়ীদের উৎসাহে হয়েছে, ঠিক এখন আবার সেই রিট মোকাবেলার নামে কয়েকজন দালাল মাঠে নেমেছে।তারা কেউ ব‍্যারিস্টার নিয়োগ দিয়েছে। আবার কেউ সিনিয়র এডভোকেট নিয়োগ দিয়েছে। কেউ কেউ জুনিয়র এডভোকেট নিয়োগ দিয়েছে।আর এসব কাজ করার কথা বলে ইতোমধ্যেই তারা নতুন নির্বাচিত শিক্ষকদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়া শুরু করেছে। মূলত এরা কিছুই করবে না। যাদের কাছ থেকে টাকা তুলতেছে তাদের কে বলতেছে রিটের আপিলের কাজ শুরু হয়েছে। অপেক্ষা করুন। কিন্তু ওদিকে সরকার যে আপিল করার পদক্ষেপ নিয়েছে এবং এই আপিলে যখন নতুনদের পক্ষে রায় হবে, তখন এই দালালরা হাতিয়ে নেয়া টাকা হালাল করার জন্য বলবে ‘আমরা রিটে জিতেছি।’

তাহলে দেখা যাচ্ছে ‘ঝড়ে কাক মরে, ফকিরের কেরামতি।’ এই প্রবাদকে কাজে লাগিয়ে ‌দালালরা মাঝখান থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিলো।

আপিলের কাজ করলো সরকার, জিতলো সরকার, সাথে মামলায় ক্ষতিগ্রস্তরা। আর দালালরা বলে বেড়াবে আমরা জিতেছি। তাই সাবধান হোন। আপনারা কখনো কোনো দালালকে একটি টাকাও দিবেন না। ধন্যবাদ সবাইকে।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম  

উপরে