আপডেট : ৯ নভেম্বর, ২০১৮ ১৮:৫১

দ্রুত গণবিজ্ঞপ্তি দেবে এনটিআরসিএ, নিয়োগ মেধার ভিত্তিতে

অনলাইন ডেস্ক
দ্রুত গণবিজ্ঞপ্তি দেবে এনটিআরসিএ, নিয়োগ মেধার ভিত্তিতে

স্থবির হয়ে পড়েছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) কার্যক্রম। গত দুই মাস ধরেই প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যানের পদ শূন্য। যে কারণে প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষকের শূন্য পদ হাতে পেলেও নিয়োগ দিতে পারছে না প্রতিষ্ঠানটি। ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।

সারাদেশের সব স্কুল-কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শূন্য আসনের তালিকা পাঠাতে তিন দফায় নির্দেশনা দেয় এনটিআরসিএ। এতে ৩৮ হাজার ৮০০ জনের শূন্য আসনের তালিকা আসে। নিবন্ধনধারীরা আশা করেছিল এরপরই হয়ত নিয়োগ শুরু হবে । কিন্তু প্রতিষ্ঠানে চেয়ারম্যান না থাকায় গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি।

এনটিআরসিএ সূত্র জানায়, শূন্য আসনের তালিকা সংশ্লিষ্ট উপজেলা শিক্ষা কমকর্তাদের মাধ্যমে যাচাই-বাছাইয়ের কাজ শেষে তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। নতুন চেয়ারম্যান যোগদান করলে চলতি মাসের শেষের দিকে নিবন্ধিত প্রার্থীদের আবেদন চেয়ে একটি গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে পারে এনটিআরসিএ। এরপর বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মেধাক্রমে নিয়োগ দিতে সুপারিশ করবে এ প্রতিষ্ঠানটি।

উল্লেখ সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে এনটিআরসিএ’র সাবেক চেয়ারম্যান আজহার হোসেন অবসর গ্রহণ করেন। এরপর গত ২৪ সেপ্টেম্বর ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ বিলালকে জনপ্রশাসন থেকে চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দিলেও তিনি সেখানে যোগদান করেননি। জানা যায় প্রতিষ্ঠানটির সব কার্যক্রমে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে এনটিআরসিএ’তে নতুন করে কেউ যোগদান করতে চায় না। এ প্রতিষ্ঠানে বদলিকে শাস্তিমূলক বদলি বলে মনে করা হয়। তাই পরপর দুজন চেয়ারম্যান নিয়োগ দিলেও একজনও যোগদান করেননি।

এক সপ্তাহ আগে অতিরিক্ত সচিব এস এম আশফাক হোসেনকে এনটিআরসিএ’র চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেয়া হয়। বর্তমানে তিনি বিদেশ সফরে রয়েছেন। আগামী ১২ নভেম্বর তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে। তবে বর্তমানে চেয়ারম্যান হিসেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মাহামুদ উল হককে রুটিন দায়িত্ব দেয়া হয়। তিনিও গত ৩ নভেম্বর থেকে জ্যামাইকায় আছেন। ফিরবেন ১৩ নভেম্বর। এই সময়ের মধ্যে এনটিআরসিএ’র সদস্য (শিক্ষাতত্ত্ব ও শিক্ষামান) নাসির উদ্দিন আহমেদকে আর্থিক ক্ষমতাসহ চেয়ারম্যানের রুটিন দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।

জানা গেছে, এনটিআরসিএ’র নিবন্ধন পরীক্ষায় পাস করার পরও নিয়োগ না পেয়ে ৩৫টি মামলা করেছেন বিভিন্ন সময়ে নিবন্ধিত প্রার্থীরা। তার ভিত্তিতে আদালত থেকে নিবন্ধিত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশের নির্দেশনা দেয়া হয়। সে মোতাবেক গত তিন মাস আগে প্রথম থেকে ১৩তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় পাস করা প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করে এনটিআরসিএ। এ তালিকায় নানা ধরনের ভুল-ভ্রান্তি উল্লেখ করে সারাদেশ থেকে সহস্রাধিক আবেদন করেন প্রার্থীরা। পরে তা সংশোধন করে মোট ৬ লাখ ৪ হাজার ৬৮৫ জনের নাম প্রকাশ করা হয়। এর মধ্যে অনেকেই বিভিন্ন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন।

এ বিষয়ে এনটিআরসিএ’র সচিব নুসরাত জাবীন বানু বলেন, আমাদের কার্যক্রম স্থবির, কথাটি ঠিক নয়। শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশের জন্য চাহিদা পাওয়া গেছে। কিছু ভুল-ভ্রান্তি ছিল, তা সংশোধন করা হয়েছে। দ্রুত গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে প্রার্থীদের কাছে আবেদন চাওয়া হবে। তবে, চেয়ারম্যান না থাকায় বড় সিদ্ধান্ত নিতে কিছুটা ব্যাঘাত হচ্ছে।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে