আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১১:২৭
উইঘুরে নির্যাতন প্রসঙ্গে -শি জিনপিং

‘জিনজিয়াংয়ে চীনা নীতি সঠিক। দীর্ঘকাল চালিয়ে যেতে হবে’

অনলাইন ডেস্ক
‘জিনজিয়াংয়ে চীনা নীতি সঠিক। দীর্ঘকাল চালিয়ে যেতে হবে’

চীনে সংখ্যালঘু মুসলিম উইঘুরেদের জাতীগত নিধন ও বন্দিশালায় আটকে রেখে নির্যাতন ও জোর করে চীনা সাংস্কৃতি শেখানোর বিরুদ্ধে নিন্দার ঝড় বইছে বিশ্বজুড়ে। চীনের বিরুদ্ধে অন্তত ১ মিলিয়ন উইঘুর এবং অন্যান্য সংখ্যালঘুদের অন্তর্বর্তী শিবিরগুলিতে আটক করে এবং তাদেরকে রাজনৈতিক স্বার্থান্বেষ ও জোরপূর্বক শ্রমে নিয়োজিত করার অভিযোগ রয়েছে। এ অভিযোগ সবসময়ই অস্বীকার করে এসেছে চীন। বেইজিং এর ভাষ্যমতে এই শিবিরগুলি হ'ল "বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র" যেখানে উইঘুরে সম্প্রদায়ের জনগনের চাকরির সম্ভাবনা উন্নত করতে এবং ধর্মীয় চরমপন্থার বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য প্রশিক্ষণ প্রদান করতে এই প্রশিক্ষন ক্যম্প পরিচালনা করা হচ্ছে।

গত ২৬ সেপ্টম্বর চিনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং বলেছেন যে জিনজিয়াংয়ে কমিউনিস্ট পার্টির নীতিগুলি "পুরোপুরি সঠিক এবং এটিকে দীর্ঘকাল ধরে চালিয়ে যেতে হবে" শিন শনিবার সুদূর পশ্চিমাঞ্চল, জিনজিয়াং ওয়ার্কের তৃতীয় কেন্দ্রীয় সিম্পোজিয়াম সম্পর্কিত পার্টির সর্বোচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে এই মন্তব্য করেছেন।

শি জিনপিং উপস্থিত  কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক কর্মকর্তাদের বলেছিলেন যে ২০১৪ সালের দ্বিতীয় সিম্পোজিয়ামের পর থেকে জিনজিয়াং উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে, জীবনযাত্রার উচ্চতর মান এবং পরিবেশ রক্ষার উন্নতি করেছে, যা তিনি "সত্য দ্বারা প্রমাণিত সাফল্য" হিসাবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, জিনজিয়াংয়ে আমাদের কাজ সর্বদা সঠিক রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা অনুসরণ করে তা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, জিনজিয়াংয়ে সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে "সমাজতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা" প্রতিষ্ঠিত  করতে হবে। একটি সাধারণ চীনা পরিচয়ের বাইরে শিক্ষাসহ আদর্শিক কাজের গুরুত্বকে জোর দেওয়া উচিত। শি জিনজিয়াংয়ের দলের নীতিমালা বাস্তবায়নের জন্য ক্যাডারদের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন।   এবং সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর “অনুগত ও যোগ্য” সদস্যদের দলে ঢোকানোর পরামর্শ দেন।

জিনজিয়াংয়ের রাজধানী উড়ুমকির রেলস্টেশনে সন্ত্রাসবাদী হামলার এক মাস পরে ২০১৪ সালের মে মাসে এ জাতীয় সর্বশেষ বৈঠক হয়েছিল, ওই হামলায় তিনজন মারা গিয়েছিল এবং ৭৯ জন আহত হয়েছিল।

সেই  বৈঠকে থেকেই  ধর্মীয় উগ্রবাদ বন্ধ করার নামে ও  জাতিগত সংহতি উন্নত করার অংশ হিসেবে উইঘুরদের সমুলে ধংস করার পরিকল্পনা শুরু হয়। উইঘুরদের জন্য বানানো হয় সংশোধন কেন্দ্র। সন্তান জন্মদানের অধিকার করা হয় ক্ষুন্ন। কেড়ে নেওয়া হয় ধর্মিয় অধিকারও।

উইঘুরদের নিয়ে বেইজিংয়ের এসব কর্মকাণ্ড   ক্রমবর্ধমান শঙ্কা জাগিয়ে তুলেছে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে  কংগ্রেস বর্তমানে জিনজিয়াংয়ের উত্পাদিত পণ্যের উপর আমদানি নিষেধাজ্ঞার দাবিতে একটি আইন করা  নিয়ে বিতর্ক করছে। এই বছরের শুরুর দিকে, জিনজিয়াংয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।

এই মাসের শুরুতে, বেইজিং "জিনজিয়াংয়ের কর্মসংস্থান ও শ্রম অধিকার" শিরোনামে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে আঞ্চলিক সরকার  নাগরিকদের কর্মদক্ষতা বাড়াতে আইনী জ্ঞান, নগর জীবন ও শ্রম দক্ষতার জন্য সাধারণ জ্ঞান ও চীনা ভাষা শেখাতে নানা পরিকল্পনা গ্রহন করেছে। যা তাদের জীবন উন্নয়নে এবং দারিদ্রের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে শিখিয়েছে।

তথ্যসূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোষ্ট, সিসিটিভি

উপরে