আপডেট : ৩১ আগস্ট, ২০২০ ১৯:৪৬
দলের মধ্যে ব্যাপক বিরোধিতা

‘চীনকে ‘বিশ্বের শত্রু’তে পরিণত করেছেন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং’

অনলাইন ডেস্ক
‘চীনকে ‘বিশ্বের শত্রু’তে পরিণত করেছেন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং’

আজীবন ক্ষমতাপ্রাপ্ত চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং’র বিরোধিতায় দল ছেড়ে বেরিয়ে যেতে চাইছেন চীনা কমিউনিস্ট পার্টির অনেক নেতারা। আবার অনেকেই বলছেন চীনকে ‘বিশ্বের শত্রু’তে পরিণত করেছেন শি। সব মিলিয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট নিজ দলের নেতাদের কড়া বিরোধিতার মুখে পড়েছেন বলে খবর প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।

১৭ আগস্ট, সোমবার চাই শিয়া নামক পার্টি স্কুলের একজন অধ্যাপিকাকে কমিউনিস্ট পার্টি থেকে বহিষ্কার করা হয়। গত জুন মাসে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সমালোচনা করে বক্তব্য দিয়েছিলেন চাই শিয়া এবং এই অডিও রেকর্ডিং প্রকাশের পর এবার তাকে দল থেকে বহিষ্কারের ঘোষণা দেয় চীনা কমিউনিস্ট পার্টি। বর্তমানে দেশ ছেড়েছেন তিনি। ১৯৯২ সাল থেকে পার্টি স্কুলে অধ্যাপিকা হিসেবে কর্মরত ছিলেন চাই। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, তিনি চীনা প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে বক্তব্যে বলেন, “চীনকে খুন’ করেছেন শি জিনপিং।”

দল থেকে বহিষ্কারের পর গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অধ্যাপিকা চাই জানান, বহিষ্কৃত হয়ে তিনি খুশিই হয়েছেন। কারণ তিনি মনে করেন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের শাসনামলে চীনা কমিউনিস্ট পার্টি চীনের অগ্রগতির পক্ষের শক্তি হিসেবে কাজ তো করছেই না বরং চীনের অগ্রগতিকে ঠেকিয়ে রেখেছেন।

তিনি আরো বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি এই দল থেকে আরো অনেকে বের হয়ে যেতে চান। আমি কয়েক বছর আগেই দল ছেড়ে চলে যেতে চেয়েছিলাম, কারণ পার্টির ভেতরে আমার কথা বলার কোন সুযোগ ছিল না এবং আমার কণ্ঠস্বর পুরোপুরি দাবিয়ে রাখা হয়েছিল।’

গত জুন মাসে তার অডিও প্রকাশের পরপর গার্ডিয়ানকে সাক্ষাৎকার দেন চাই। কিন্তু পরিবারের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে তখন তার বক্তব্য প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন চাই। তখনকার দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘চীনকে বিশ্বের শত্রু বানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।’

গতকাল ১৮ আগস্ট, মঙ্গলবার গার্ডিয়ানকে তিনি জানান, এখন আর তার কথা বলায় বাধা নেই, নিজের ইচ্ছামতো বক্তব্য দিতে পারবেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, ‘দলের ভেতর প্রসিডেন্টের বিরুদ্ধে বিরোধিতা দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু ভয়ে মুখ খুলেন না কেউ।এমন পরিবেশে প্রেসিডেন্টের অনিয়ন্ত্রিত ক্ষমতা ও প্রত্যেক বড় সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণের চেষ্টাই করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা সৃষ্টির মূল কারণ।’

করোনাভাইরাস নিয়ে তথ্যগোপনের দায় চীনা কর্তৃপক্ষ স্থানীয় কর্মকর্তাদের ঘাড়ে চাপিয়েছিল। চাই এ প্রসঙ্গে আরো বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ৭ জানুয়ারি থেকেই করোনা সংক্রমণের ব্যাপারটি জানতেন। কিন্তু তিনি মহামারীর ঘোষণা দেন ২০ জানুয়ারি। তাই বলে কি তিনি এর দায়ভার নেবেন না?’

তিনি আরো বলেন, ‘বিশ্বকে শত্রু বানিয়েছেন শি জিনপিং। কারণ দেশের অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক সকল বড় বিষয় তার উপর ছেড়ে দেওয়া হয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য, যা একজন মানুষের পক্ষে নেয়া সম্ভব না।’

প্রসঙ্গত, চীনের রাজনৈতিক মহলের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন চাই শিয়া। তার কাছ থেকে এ ধরনের সমালোচনা চীনের নেতৃত্বের জন্য বিপজ্জনক হিসেবে বিবেচনা করছে কমিউনিস্ট পার্টি। এর আগে মাও সেতুং, হু জিনতাও, এমনকি শি জিনপিংও পার্টির কেন্দ্রীয় এই স্কুলের প্রধান ছিলেন।

 

উপরে