আপডেট : ১২ আগস্ট, ২০২০ ২০:৪২

চীনের গুটির চাল ইমরান খান, টার্গেট মুসলিম বিশ্বে ভারতকে কোনঠাসা করা

অনলাইন ডেস্ক
চীনের গুটির চাল ইমরান খান, টার্গেট মুসলিম বিশ্বে
ভারতকে কোনঠাসা করা

নীজ দেশে নানা সমস্যা । খাদ্য সংকট, আর্থিক ভাবে দেউলিয়া হওয়ার পথে দেশ । প্রতিটি পাকিস্তানী নাগরিকের মাথায় চীনা ঋণের বোঝা, সেনাবহিনীর সঙ্গে টানাপোড়েন; এত সব সমস্যার সবগুলোই মোকাবেলা করতে ব্যর্থ্ হয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। কিন্তু এসব সমস্যা সমাধানে ইমরান খানের কোন উদ্যোগ নেই। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে চীনের পরামর্শে  আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারতের বিরুদ্ধে মুসলিম বিশ্বকে একত্রিত করার মিশন নিয়ে ব্যস্ত তিনি। গত দেড় বছরে তিনি ২২টি দেশ সফর করেছেন যার বেশিরভাগই ছিল মুসলিম দেশ। এর মধ্যে রয়েছে সৌদি আরব, দুবাই, মালয়শিয়া, তুরস্ক, কাতার ইরান বাহরাইন। বিশ্বের ইতিহাসে কম সময়ে একজন রাষ্ট্রপ্রধানের এত বেশি বিদেশ সফর এটাই প্রথম। গত দেড় বছরে মালয়শিয়া সৌদি আরব তুরস্ক সফরে তিনি যত বৈঠক করেছেন তাতে সব কিছু ছাপিয়ে উঠে এসেছে ভারত বিরোধি এজেন্ডা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন ইমরান খান আসলে চীনের দূত হিসেবে কাজ করছেন। গলফ নিউজের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ২০১৯ সালের শেষ সাত মাসের মধ্যে ইমরান খান  তিন তিনবার চীন সফর করেছেন । শুধু তিনি একা নন;  তার সঙ্গে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান কামার জাভেদ বাজওয়াও চীন সফর করেছেন একাধিকবার। প্রতিবারই ইমরান খান কথা বলেছেন চিনা প্রেসিডেন্ট শিন লিং পে’র সঙ্গে।  আর একই সময় বাজওয়া বৈঠক করেছেন চীনা সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে। প্রতিটি বৈঠকেই ভারত বিরোধী এজেন্ডা প্রাধান্য পেয়েছে বলে গলফ নিউজের  ‘কেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এক বছরে তিনবার চীন সফর করেছেন?’ শীর্ষক ওই অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে ইদানিং ইমরান খান মুসলিম বিশ্বের সরকার প্রধানদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলছেন। তাদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নায়নের চেষ্টা করছেন। আবার সেগুলো ফলাও করে পাকিস্তানের পত্রপত্রিকায় প্রকাশ হচ্ছে। যে সব কথা বার্তা হয়নি সেগুলোও ফলাও করে প্রচার হচ্ছে দেশটির গনমাধ্যমে । গত ১০ আগষ্ট ইমরান খান ফোন করেছেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহামেদ ছলিহকে। সেখানেও মুসলিম দেশ হিসেবে  করোনা মোকাবেলায় দুইদেশের সাহিয্য সহযোগিতার বিষয়টি উঠে আসলেও ওই ফোনালাপের বড় একটি অংশ ছিল ভারত বিরোধী প্রচারণা। গত বছর ভারত বিরোধী প্রচারণার উদ্দেশ্য নিয়েই মালয়শিয়া সফর করেছিলেন ইমরান খান। সে যাত্রায় মালয়শিয়ান তৎকালিন প্রধানমন্ত্রী মাহথির মহাম্মদ কাশ্মিরে সংগঠিত মানব বিপর্যয় নিয়ে মোদী সরকারের সামলোচনা করেছিলেন। মাহথিরের এই সমালোচনার প্রভাব পড়েছিল ভারত মালয়শিয়া বানিজ্যেও।  একই উদ্দেশ্য নিয়ে গত ডিসেম্বরে তুরস্ক সফর করেছিলেন ইমরান খান। বৈঠক করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রছেপ তাইয়েব এরদোগানের সঙ্গে। এরই ফলশ্রতিতে এবছর ফেব্রুয়ারীতে  পাকিস্তান সফর করেন এরদোগান। পাকিস্তানে তাদের বৈঠকেও ইমরান খানের মূল আলোচ্য ছিল ভারতবিরোধী প্রচারণা। গত ২২ জুলাই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও ফোনালাপ করেছিলেন ইমরান খান। দুই নেতা তাদের ১৫ মিনিটের টেলিফোন আলাপে করোনা মহামারি ও বাংলাদেশে চলমান বন্যা পরিস্থিতির বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন বলে জানান প্রধান মন্ত্রির প্রেস সচিব ইহসানুল করিম। তিনি বলেন, কুশলাদি বিনিময়ের পর ইমরান খান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে বাংলাদেশে কোভিড-১৯ মহামারি পরিস্থিতি ও সংকট মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে চান। অথচ এই খবর পাকিস্তানে পত্রপত্রিকায় এসেছে ভীন্নভাবে। পাকিস্তানের জাতীয় সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস অব পাকিস্তান(এপিপি) লিখেছে ইমরান খান “জম্মু ও কাশ্মীরের গুরুতর অবস্থা নিয়ে পাকিস্তানের দৃষ্টিভঙ্গি শেখ হাসিনার কাছে তুলে ধরেন” দু দেশের সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের বিষয়টিও উঠে এসেছে সেদেশের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যমগুলোতে। এ বিষয়ে নিয়ে বাংলাদেশে পাকিস্তানপন্থি মানুষদের হটাৎ সোরগোল ছিল চোখে পড়ার মত। ফেসবুকসহ নানা সামাজিক মাধ্যমে তারা গুজব ছড়িয়েছেন বাংলাদেশ পাকিস্তান দুই মুসলিম দেশ এক হয়েছেন আবার। বাংলাদেশের সামাজিক মাধ্যমগুলোতেও ইমরান খানের ফোনালাপ জায়গা পেয়েছে ভারতবিরোধী প্রপাগাণ্ডা হিসেবে।

মুসলিম দেশ হিসেবে ভাতৃত্ববোধের জায়গা থেকে বিষয়টি প্রশংসার চোখে দেখলেও ইমরান খান মুসলিম দেশগুলোতে ভারত বিরোধী প্রপাগণ্ডা ছড়াতে লিপ্ত বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। বিশ্লেষকদের মতে মুসলিম বিশ্বের রক্ষাকর্তা হিসেবে ইমরান খান সুবিধা নিতে চাইলেও চীন সরকার দ্বারা সংগঠিত মুসলিম উইঘুরে সম্প্রদায়ের  মানবিক বিপর্যয়ের বিষয়ে তার মুখে কোন টু শব্দটিও শোনা যায় নি। যতবারই এ বিষয়ে সাংবাদিকরা তাকে প্রশ্ন করেছেন তিনি তা এড়িয়ে গেছেন কৌশলে। বিবিসিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী

 ২০১৮ সালের আগস্টে জাতিসংঘের একটি কমিটি জানতে পেরেছে যে ১০ লাখের মতো উইঘুর মুসলিমকে পশ্চিমাঞ্চলীয় শিনজিয়াং অঞ্চলে কয়েকটি কসন্সেন্ট্রেশন ক্যাম্পে বন্দী করে রাখা হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর বরাতে, এসব ক্যাম্পে তাঁদের ‘নতুন করে শিক্ষা’ দেওয়া হচ্ছে। কসন্সেন্ট্রেশন ক্যাম্পে পালা করে নির্যাতনের সঙ্গে জোর করে তাদের চীনা মান্দারিন ভাষা শেখানো হচ্ছে। বলা হচ্ছে, সি চিন পিংয়ের অনুগত থাকতে। সবচেয়ে নিকৃষ্ট এবং রোমহর্ষক তথ্য হলো, বন্দুকের নল বুক বরাবর রেখে তাঁদের নিজেদের ধর্মীয় বিশ্বাস বদলের বিবেচনার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে এবং মুসলিম ধর্ম পরিত্যাগ করতে বলা হচ্ছে।

মুসলিম নির্যাতনের এসব তথ্য যাতে চীনের বাইরে যেতে না পারে সেজন্য তারা প্রতিনিয়িত মোবাইল ও ইন্টারনেট সংযোগে বিধি-নিষেধ আরোপ করছে। সরকারিভাবে দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের জন্য জিনজিয়াং প্রদেশে ভ্রমণও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অথচ এসব বিষয় নিয়ে কোন টু শব্দটি নেই ইমরান খানের মুখে ।

করোনা পরবর্তি বিশ্বে চীন সরকার বেশ সরব। বিশ্বের ২১ টি দেশের সঙ্গে সীমান্ত নিয়ে ঝামেলায় লীপ্ত চীন। বিশ্বকে এক ধরনের অস্থীরতায় ফেলে দিয়েছে চীন। পশ্চিমা দেশগুলো সব এখন চীনের বিরুদ্ধে। বাদ নেই অস্ট্রেলিয়াও। চীনের পথ অনসরণ করে পাকিস্তানও কাশ্মিরের কিছু অংশ নিজেদের দাবী করে মানচিত্র প্রকাশ করেছে। কিছুদিন আগে নেপালও যে কাজটি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে ঘটনার ধারাবহিকতা প্রমাণ করে ভারতের বিরুদ্ধে উস্কানি ও কোনঠাসা করার চেষ্টার অংশ হিসেবে চীন প্রতিবেশি দেশগুলকে ভারতের বিরুদ্ধে উসকে দিচ্ছে । আর এক্ষেত্রে তারা ব্যবহার করছে ইমরান খানকে। বস্তুত ইমরান খান এখন চীনের মূখপাত্র হিসেবে মুসলিম দেশগুলোতে ভারত বিদ্বেষী

উপরে