আপডেট : ৭ আগস্ট, ২০২০ ০৮:৫৫

করোনার ভ্যাকসিন নিয়ে যা জানা দরকার

অনলাইন ডেস্ক
করোনার ভ্যাকসিন নিয়ে যা জানা দরকার

করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিনের পেছনে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ করছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। তার মধ্যে আমেরিকা অন্যতম। আমেরিকার তিনটি কোম্পানি খুব দ্রুতগতিতে ভ্যাকসিনের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। তিনটি কোম্পানি হলো: মোডার্না, ফাইজার এবং নোভাভ্যাক্স।

এসব ভ্যাকসিন সম্বন্ধে আমাদের অনেক কিছুই জানার আছে। গবেষকরা মহামারিটির প্রতিষেধক আবিষ্কারে নিরন্তর গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে। উপরের তিনটি কোম্পানিসহ বিশ্বব্যাপী ডজনখানেক কোম্পানি ভ্যাকসিনের ট্রায়াল চালাচ্ছে।

এই প্রক্রিয়াটিকে আরও গতিশীল করতে মার্কিন সরকারের 'অপারেশন র‌্যাপ স্পিড' এই তিন কোম্পানিসহ আরও পাঁচ কোম্পানিকে আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে। ভ্যাকসিন নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এই কোম্পানিগুলোকে মার্কিন স্বাস্থ্য ও মানবসেবা অধিদপ্তর 'সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক' মনে করছে।

অপারেশন র‌্যাপ স্পিডের লক্ষ্য হলো ২০২১ সালের জানুয়ারির মধ্যে নিরাপদ ও কার্যকর একটি ভ্যাকসিনের ৩০০ মিলিয়ন ডোজ নিশ্চিত করা।

এ পর্যন্ত প্রথম ধাপের পরীক্ষার ফলাফল আশাব্যঞ্জক, এখন তৃতীয় অর্থাৎ চূড়ান্ত পরীক্ষায় ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা প্রমাণিত হবে, বিশাল পরিসরে তৃতীয় ট্রায়াল পর্ব চলছে। যদি ভ্যাকসিন প্রার্থীদের পরখের মধ্য দিয়ে সব ঠিকঠাক মতো সম্পন্ন হয়, তাহলে অনুমোদনের জন্য মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের কাছে যাবে।

প্রথম ধাপে ভ্যাকসিনটি কার্যকর ও নিরাপদ কি না, দেখার জন্য অল্প কিছু লোকের ওপর পরীক্ষা চালানো হয়েছিল। দ্বিতীয় পর্যায়ের পরীক্ষা চালানো হয় একদল লোকের ওপর, এতে সম্ভাব্য বিভিন্ন ডোজের প্রয়োগ হয়। তৃতীয় পর্যায়টি হলো চূড়ান্ত ধাপ। অনুমোদন লাভের আগে এই পর্যায়টি শেষ করতে হয় ভ্যাকসিনের সুরক্ষা, কার্যকারিতা এবং অনুকূল ডোজ বোঝার জন্য। করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য সবাই ৩০ হাজার লোকের ওপর পরীক্ষা চালাবে।

মোডার্না : মোডার্নার mRNA-1273 ভ্যাকসিনের তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল শুরু হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে গত সপ্তাহে। কোম্পানিটি ৩০ হাজার প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষসহ সারা দেশের (আমেরিকার) ৮৯টি ক্লিনিকাল গবেষণা সাইটকে সংযুক্ত করেছে। জাতীয় স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী অপারেশন র‌্যাপ স্পিডের অধীনে শুরু হওয়া এটাই প্রথম তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল।

দ্বিতীয় পর্বের ট্রায়াল হয় মে মাসে।

পরীক্ষার ফলাফল : এখন পর্যন্ত কেবলমাত্র প্রথম পর্যায়ের ট্রায়ালের ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে ভ্যাকসিন প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরিতে সাড়া দিচ্ছে। গবেষকরা এটাই দেখতে চেয়েছিলেন। ডোজ যত বেশি হবে, প্রতিরোধ প্রতিক্রিয়াও তত বেশি হবে।  

কতটা নিরাপদ?

অর্ধেকের বেশি অংশগ্রহণকারীর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হয়েছে; এর মধ্যে  রয়েছে ক্লান্তি, শীত, মাথাব্যথা, পেশির ব্যথা আর ইনজেকশনের জায়গায় ব্যথা অনুভূত হওয়া। ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রে এগুলোকে সাধারণ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হিসেবেই দেখা হয়। ডোজ যত বেশি হবে, পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াও তত বেশি হবে। তৃতীয় ট্রায়ালে মাঝারি ডোজ ব্যবহার করা হবে।

এই ভ্যাকসিন তৈরিতে কারা জড়িত?

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেলথের আওতাধীন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেসের সহায়তায় ম্যাসাচুসেটসের কেমব্রিজভিত্তিক মোর্ডানা বায়োটেক এই ভ্যাকসিন তৈরিতে কাজ করছে।

ফাইজার : জার্মানির বায়োএনটেকের সঙ্গে মিলে ভ্যাকসিন তৈরির কাজ করছে ফাইজার। তারা এখন দুই এবং তিন পর্যায়ের ট্রায়াল একসঙ্গে চালাচ্ছে। গত সপ্তাহেই এই ২/৩ পর্যায়ের ট্রায়াল শুরু হয়েছে।

BNT162b2 ভ্যাকসিনের এই ২/৩ পর্যায়ের ট্রায়াল একসঙ্গে চলছে বিশ্বের ১২০ জায়গায়, আমেরিকার ৩৯টি রাজ্যসহ আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল এবং জার্মানিতে  চলছে এই ট্রায়াল।

কখন পাওয়া যাবে?

যদি ট্রায়াল সফল হয়, তাহলে ফাইজার এবং বায়োএনটেক অক্টোবরের মধ্যেই রেগুলেটরি অনুমোদনের জন্য আবেদন করবে। যদি জরুরি ভিত্তিতে অনুমোদন পেয়ে যায় তাহলে এ বছরের শেষ দিকে ১০০ মিলিয়ন ডোজ তৈরি করবে তারা। আর ২০২১ সালের শেষে আরও ১.৩ বিলিয়ন ডোজ।

ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ অ্যান্ড হিউম্যান সার্ভিসেস এবং ডিপার্টমেন্ট অব ডিফেন্স গত সপ্তাহে ফাইজারের সঙ্গে ১.৯৫ ডলারের এক চুক্তিতে পৌঁছেছে। ফাইজার তাদের ১০০ মিলিয়ন ভ্যাকসিন ডোজ সরবরাহ করবে। এই চুক্তির অধীনে মার্কিন সরকার চাইলে অতিরিক্ত আরও ৫০০ মিলিয়ন ডোজ কিনতে পারবে।

ট্রায়ালের ফলাফল : ১/২ পর্যায়ের যৌথ ট্রায়ালে দেখা গেছে, ভ্যাকসিন প্রতিরোধ প্রক্রিয়ায় সাড়া দিচ্ছে এবং এন্টিবডি তৈরি করছে। কোম্পানি মনে করছে 'ডাবল আর্ম' পদ্ধতি ভ্যাকসিনটিকে আরও কার্যকর এবং দীর্ঘতর সুরক্ষা দেবে। ১২০ জন ট্রায়ালে অংশ নিয়েছে।

কতটা নিরাপদ?

ফেজ ১/২ ট্রায়ালের প্রাথমিক ফলাফলে ভ্যাকসিনের জন্য অনুকূল চিত্রই পাওয়া গেছে। ফাইজার নতুন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ভ্যাকসিনটির পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া 'সাধারণত হালকা থেকে মাঝারি', জ্বর, অবসন্নতা, এবং ঠাণ্ডায় আক্রান্ত হচ্ছে। তবে এটা  তেমন গুরুতর না, এক থেকে দুই দিন স্থায়ী হয় বড়জোর। 

নোভাভ্যাক্স : মেরিল্যান্ড-ভিত্তিক বায়োটেক নোভাভ্যাক্স আশা করছে আগামী মাসে তারা তৃতীয় পর্যায়ের পরীক্ষা শুরু করতে পারবে। 

পরীক্ষার ফলাফল : গত মঙ্গলবার নোভাভ্যাক্স প্রথম পর্যায়ের ট্রায়ালের তথ্য প্রকাশ করেছে, ১৩১ জন ট্রায়ালে অংশ নেয়। ভ্যাকসিনের দুই ডোজ প্রয়োগে, অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে অ্যান্টিবডির স্তর যে পর্যায়ে পাওয়া যায়, তা কোভিড-১৯ থেকে সেরে ওঠা লোকদের তুলনায় চারগুণ বেশি। 

কতটা নিরাপদ?

১০৬ জনের মধ্যে পাঁচজনের গুরুতর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হয়। পেশী ব্যথা, বমি বমি ভাব এবং জোড়ায় ব্যথা। এর মধ্যে একজনের হালকা জ্বরও ছিল। পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াগুলো গড়ে দুইদিন বা তারচেয়ে কম সময় ছিল। সূত্র : সিএনএন।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/রাসেল

উপরে