আপডেট : ২ জুন, ২০২০ ১১:০৯

সামরিক শক্তিতে কে এগিয়ে চীন নকি ভারত?

নিজস্ব প্রতিবেদক
সামরিক শক্তিতে কে এগিয়ে চীন নকি ভারত?

লাদাখ সীমান্তে ভারত এবং চীনের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। দুই দেশই সেখানে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করেছে। দুই পরমাণু শক্তিধর দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তার সেনাবাহিনীকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। চীন সীমান্তে সেনা বাড়ানোর সঙ্গে অতিরিক্ত যুদ্ধবিমানও মোতায়েন করেছে। ভারতও সেনাসংখ্যা বাড়িয়েছে উল্লেখযোগ্যহারে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, কাশ্মীর থেকে ভারতীয় হাজার হাজার সেনা লাদাখ সীমান্ত নেয়া হচ্ছে।

দুই দেশ কোনো ধরণের সংঘাতে জড়িয়ে পড়লে তা পুরো অঞ্চলের ভয়াবহতা বয়ে নিয়ে আসতে পারে। আর তাই যুদ্ধ কারো কাম্য নয়। তারপরেও দেখে নেয়া যাক সামরিক শক্তিতে চীন আর ভারতের বর্তমান অবস্থা।

সামরিক শক্তির পিডাব্লিউআর ব়্যাঙ্কিংয়ে ভারতের চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে আছে চীন। যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়ার ঠিক পরে আছে চীন। আর এই র‍্যাংকিংয়ে ভারতের অবস্থা চার নম্বরে।

প্রতিরক্ষা বাজেট:
প্রতিরক্ষা খাতে চীনের বাজেট ২৩৭০ কোটি ডলারের এবং ভারতের ৬১০ কোটি ডলারের।

সক্রিয় সেনাসদস্য:
১৩৮টি দেশের মধ্যে পিআরডাব্লিউ ইনডেক্সে তৃতীয় স্থানে থাকা চীনের মোট ২১ লাখ ২৩ হাজার সেনাসদস্য রয়েছে, ভারতের রয়েছে ১৪ লাখ ৪৪ হাজার সেনাসদস্য। তবে রিজার্ভ সৈন্যের সংখ্যায় এগিয়ে আছে ভারত। চীনের পাঁচ লাখ ১০ হাজার রিজার্ভ সেনা রয়েছে। বিপরীতে ভারতে এই সংখ্যা ২১ লাখ।

এয়ারক্রাফট:
চীনের ৩২১০টি এয়ারক্রাফটের বিপরীতে ভারতের রয়েছে ২১২৩টি এয়ারক্রাফট।

যুদ্ধজাহাজ
এখানেও  এগিয়ে চীন। দেশটির ৭৭৭টি যুদ্ধজাহাজ রয়েছে। আর ভারতের রয়েছে ২৮৫টি যুদ্ধজাহাজ।

যুদ্ধবিমান:

চীনের যুদ্ধবিমানের সংখ্যা ভারতের দ্বিগুণেরও বেশি। চীনের ১২৩২টি আর ভারতের ৫৩৮টি।

হেলিকপ্টার:

চীনের আছে ৯১১টি হেলিকপ্টার আর ভারতের ৭২২টি।

ট্যাঙ্ক:
তবে ট্যাঙ্কের সংখ্যায় চীনের থেকে অনেক এগিয়ে ভারত। চীনের আছে ৩৫০০টি ট্যাঙ্ক আর ভারতের ৪২৯২টি।

সাঁজোয়া যান:
চীনের সাঁজোয়া যানবাহনের সংখ্যা ৩৩ হাজার, ভারতের ৮ হাজার ৬৮৬।

স্বয়ংক্রিয় আর্টিলারি:
এক্ষেত্রে অবশ্য চীনের ধারেকাছেও নেই ভারত। চীনের আছে ৩৮০০, ভারতের মাত্র ২৩৫।

ফিল্ড আর্টিলারি:
এখানে অবশ্য ভারত কিছুটা এগিয়ে। চীনের ৩৮০০-র বিপরীতে তাদের রয়েছে ৪০৬০টি ফিল্ড আর্টিলারি।

রকেট প্রজেক্টর:
এক্ষেত্রে চীন প্রায় দশগুণ এগিয়ে। চীনের ২৬৫০, ভারতের ২৬৬।

সাবমেরিন:
সাবমেরিনের সংখ্যার দিক থেকেও ভারত অনেক পিছিয়ে। চীনের ৭৪টির বিপরীতে ভারতের আছে ১৬টি সাবমেরিন।

বিমানবাহী জাহাজ:
চীনের ২টি, ভারতের ১টি।

ডেস্ট্রয়ার:
চীনের ৩৬টি, অন্যদিকে ভারতের ১০টি।

ফ্রিগেট:
চীনের ৫২, ভারতের তার ঠিক চার ভাগের এক ভাগ, অর্থাৎ ১৩টি।

রণতরি:
রণতরি চীনের ৫০টি, ভারতের ১৯টি।

উপকূলীয় টহল:
চীনের ২২০, ভারতের ১৩৯।

বিমানবন্দর:
চীনের আছে মোট ৫০৭টি বিমানবন্দর আর ভারতের ৩৪৭টি।

নৌবন্দর এবং টার্মিনাল:
চীনের ২২টির বিপরীতে ভারতের রয়েছে মোট ১৩টি বন্দর ও টার্মিনাল।

তথ্যসূত্র : গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ার ডটকম।

উপরে