আপডেট : ১ জুন, ২০২০ ২১:৪৫

ভারতে পাকিস্তান মিশনের গুপ্তচরবৃত্তি। ২ জন বহিষ্কার

অনলাইন ডেস্ক
ভারতে পাকিস্তান মিশনের গুপ্তচরবৃত্তি। ২ জন বহিষ্কার
আটককৃত মোহম্দ তাহীর ব্যবহার করছেন ভারতীয় পরিচয়পত্র

গোয়েন্দাবৃত্তির দায়ে পাকিস্তান হাই কমিশনের তিন কর্মচারিকে আটক করেছে ভারত। ভারতের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা এবং দিল্লি পুলিশের বিশেষ সেল দ্বারা পরিচালিত একটি যৌথ অভিযানে তাদের হাতে নাতে আটক করা হয় বলে দাবী করেছে ভারত। -খবর ইন্ডিয়া টাইমসের।

আটককৃতরা হলেন আবিদ হুসেন, তাহির খান ও জাভেদ হুসেন । সূত্র জানায়, আবিদ হুসেন ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে ভিসা সহকারী হিসাবে কাজ করছেন। একই সময়ে মিশনে আসা তাহির খান উচ্চ স্তরের কেরানী ছিলেন। আর জাভেদ হুসেন গত সাড়ে পাঁচ বছর ধরে চালক হিসাবে কাজ করে আসছেন।

ভারতের অভিযোগ আটক তিনজনই পাকিস্তানের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের সাথে যুক্ত। এদেরকে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অবাঞ্চিত ঘোষনা করে গতকালে সকালের মধ্যেই দেশ ছাড়তে বলা হয়েছিল।  ২০১৬ সালেও  একজন পাকিস্তানি কূটনীতিক কর্মচারীকে ভারত থেকে  বহিষ্কার করা হয়েছিল।

ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়  এক বিবৃতিতে বলেছে, "সরকার এই দু'জন কর্মকর্তাকে কূটনৈতিক মিশনের সদস্য হিসাবে তাদের অবস্থানের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়ার জন্য পার্সোনাল নন গ্র্যাটা ঘোষণা করেছে এবং ২৪ ঘন্টার মধ্যে তাদের দেশ ছেড়ে চলে যেতে বলেছে,"

ভারতের জাতীয় সুরক্ষার বিরুদ্ধে এই কর্মকর্তাদের তৎপরতার বিষয়ে পাকিস্তানের চার্জ দ্য এফেয়ার্সকে ডেকে  ভারত  তীব্র নীন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। তাকে কূটনৈতিক মিশনে আসা সদস্যদের ভারতের জাতীয় সুরক্ষা ও কুটনৈতিক আওতা বর্হিভূত কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়ার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।

এদিকে পাকিস্তান তার মিশনের কর্মীদের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগকে "মিথ্যা" এবং "অসমর্থিত" বলে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং তাদের বহিষ্কারকে কূটনৈতিক সম্পর্ক সম্পর্কিত ভিয়েনা কনভেনশন লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছে।

তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার ইসলামাবাদে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী অভিযোগ করেছে যে তার কর্মীরা নির্যাতনের শিকার হয়েছিল। তিনি বলেন, পাকিস্তানি কূটনীতিকদের কার্যক্রম সীমিত করার জন্য এটা ভারতের একধরনের চাল। তিনি আরও বলেন জম্মু কাশ্মিরে চলমান সহিংসতা ও  মানবাধিকার লঙ্ঘন" এবং বিজেপি সরকারের ব্যর্থতা  থেকে জনগনের চোখ অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়ার একাট চেষ্টা মাত্র।

দিল্লির সূত্র জানায়, কিছু ষ্পর্শকাতর গোপনীয় নথি বিনিময় করতে এ তিন পাকিস্তানী শহরের কারোল বাগের আরায়া সমাজ রোডের একজন ‘প্রতিরক্ষা সদস্য’র  বাড়িতে যান। সেখান থেকেই তাদের আটক করা হয়। পুলিশ জানায় এদের তিনজনই ভারতীয় নাম এবং পরিচয়পত্র ব্যবহার করছিলেন ।

সূত্র জানায় দীর্ঘদিন ধরে তারা গুপ্তচরবৃত্তির সাথে জড়িত কিছু প্রতিরক্ষা কর্মীদের সাথে যোগাযোগ এবং তাদের প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করে আসছিলেন। এ কারণে তাদের ওপর অনেক আগ থেকেই নজর রাখা হচ্ছিল। তাদেরকে ১৫,০০০ রুপি এবং দুটি আইফোন ও ভারতীয় প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত বেশকিছু
সংবেদনশীল কাগজপত্র, জব্দ করা হয়।

ভারতের দাবী, জিজ্ঞাসাবাদের সময় এ তিন পাকিস্তানী , ভারতীয় সামরিক পদক্ষেপ সংক্রান্ত তথ্য পেতে তারা বেশ কিছেু লোকের সঙ্গে যোগাযোগ করে আসছেন বলে স্বীকার করেছেন। হাই কমিশনের অন্যান্য কর্মীরাও  গুপ্তচরবৃত্তির সঙ্গে জড়িত কিনা তা খতিয়ে দেখছে ভারতীয় এজেন্সিগুলি। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে পুলিশ। এ বিষয়ে  এফআইআর নথিভুক্ত করার পরে, তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে পাকিস্তান হাই কমিশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

২০১৬ সালে, ভারত-পাক সীমান্তে বিএসএফ মোতায়েনের তথ্য সংগ্রহকাল মেহমুদ আক্তার নামে পাকিস্তানী এক কুটনৈতিককে আটক করা হয়। পরে  দিল্লি পুলিশ তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী পাকিস্তান এ ঘটনায় সেসময়ে পাকিস্তান হাইকমিশনের ১৬ জন  জন সদস্যকে বহিষ্কার করা হয়।

উপরে