আপডেট : ২৪ মে, ২০২০ ১১:৫৫

আমাজন জঙ্গলের আদিবাসীরা যা দিয়ে করোনার চিকিৎসা করছেন

অনলাইন ডেস্ক
আমাজন জঙ্গলের আদিবাসীরা যা দিয়ে করোনার চিকিৎসা করছেন

মহামারি করোনাভাইরাস পৌঁছে গেছে মহাবন আমাজনের গহীন অরণ্যেও। বিখ্যাত আমাজন নদীর তীরবর্তী অ্যামাজোনাস প্রদেশে প্রতিনিয়ত বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল। আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে ২০ হাজার। মারা গেছে ১ হাজার ৪০০ জনের অধিক। খোড়া হচ্ছে গণকবর।

সে কারণে আতঙ্কে আছে আমাজনের অরণ্যের বিভিন্ন আদিবাসী ও উপজাতিরা। সংকটময় এই সময়ে কিভাবে করোনার চিকিৎসা করছেন তারা? এ সময় অরণ্যময় খুঁজে বেড়াচ্ছেন ওষুধি বৃক্ষ। যেটা তাদের পূর্বপুরুষরা শত শত বছর ধরে ব্যবহার করে আসছে নানা অসুখ-বিসুখে। করোনার চিকিৎসার ক্ষেত্রে তার ব্যতিক্রম হয়নি।

যেমনটা বলেছেন আদিবাসীদের নেতা অ্যান্দ্রে সাতেরি মাউয়ি, ‘আমরা লক্ষণ অনুযায়ী আমাদের চিরাচরিত ও ঐতিহ্যগত ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করছি। আমরা বংশ পরম্পরায় ওষুধি গাছের ব্যাপারে যে জ্ঞান অর্জন করেছি, যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি সে আলোকে চিকিৎসা করছি। বিভিন্ন রোগের, বিভিন্ন লক্ষণের ভিন্ন ভিন্ন চিকিৎসা করছি।’

করোনার চিকিৎসার ক্ষেত্রে আদিবাসী ও উপজাতিদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে কারাপানাউবা গাছের বাকল। যেটা দিয়ে চা তৈরি করে তারা পান করছে। যেটার রয়েছে প্রদাহজনিত সমস্যা দূর করার ক্ষমতা। ব্যবহার করছে ম্যালেরিয়ার অসুখের চিকিৎসায় ব্যবহৃত সারাকুরামিরা গাছ। এ দুটির পাশাপাশি আমের ছোকলা, পুদিনা ও মধু ব্যবহার করছে।

এসব শত শত বছরের পুরনো বনাজি ওষুধ খেয়ে কেউ কেউ করোনা থেকে সেরও উঠছেন। যেমনটা বলেছেন ভালদা ফেরেইরা ডি সুজা, ‘আমার বেশ দুর্বল লাগছিল। মনে হচ্ছিল আমার ফুসফুঁসে কোনো সমস্যা হচ্ছে। আমি ঠিকমতো নিঃশ্বাস নিতে পারছিলাম না। এরপর আমি বাসায় তৈরি সিরাপ পান করি। সেটা পান করে ভালোবোধ করি।’

এই ওষুধ তৈরি করাটা আন্দ্রে সাতেরি মাউয়ি শিখেছেন তার দাদা মার্কোসের কাছ থেকে। বর্তমানে তার বয়স ৯৩ বছর। তিনি যা জানেন তা শিখিয়ে যাচ্ছেন সাতেরিকে।

ব্রাজিলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সংগঠনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী আমাজনের ৪০টি আদীবাসী গোষ্ঠীর মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাস। আক্রান্ত করেছে ৫৪০ জনকে। এ পর্যন্ত মারা গেছে ১০২ জন।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/রাসেল

উপরে