আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১২:১৪

মৃত্যুর মুখ বাংলাদেশী করোনা রোগী, যা বললেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক
মৃত্যুর মুখ বাংলাদেশী করোনা রোগী, যা বললেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

সিঙ্গাপুরে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বাংলাদেশি রোগী এখনও জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। ১২ দিন ধরে সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল সেন্টার ফর ইনফেকশাস ডিজিজের (এনসিআইডি) নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে তিনি চিকিৎসাধীন।

চীনের হুবেইপ্রদেশ থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার আগে ৩৯ বছর বয়সী ওই বাংলাদেশি নাগরিকের ফুসফুসে জটিল প্রদাহ ছিল।

বুধবার বিকালে সিঙ্গাপুরে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. মোস্তাফিজুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, বাংলাদেশের পাঁচ নাগরিকের মধ্যে প্রথমে আক্রান্ত হওয়া ব্যক্তির অবস্থা গুরুতর। তাকে সুস্থ করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

সিঙ্গাপুরের এনসিআইডি কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে বাংলাদেশের হাইকমিশনার জানান, আক্রান্ত প্রথম বাংলাদেশি মঙ্গলবার দিনের শেষ ভাগ থেকে চিকিৎসায় কিছুটা সাড়া দিচ্ছেন। তবে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে থাকা ওই রোগীর শারীরিক অবস্থা কেমন যেতে পারে, এ নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনো আগাম মন্তব্য করতে চাইছে না।

এর আগে বুধবার সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রিভিয়ান বালাকৃষ্ণান বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ফোন করেন। তার বরাত দিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন জানান, ৩৯ বছর বয়সী ওই বাংলাদেশি চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন না। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

৩৯ বছর বয়সী ওই যুবক অনেক দিন ধরেই শ্বাসকষ্ট ও কিডনি জটিলতাসহ নানা সমস্যায় ভুগছিলেন বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

সিঙ্গাপুরে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের মধ্যে এ পর্যন্ত পাঁচজনের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তাদের কারও নাম প্রকাশ করেনি দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তবে বাংলাদেশ সরকার তাদের নাম জানে। এ বিষয়ে একে আবদুল মোমেন বলেন, সিঙ্গাপুরে আক্রান্ত রোগীদের নাম সরকার জানে। তবে রোগীর ‘প্রাইভেসির’ স্বার্থে সিঙ্গাপুরে কর্তৃপক্ষ নাম প্রকাশ করতে চায় না।

সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বরাত দিয়ে মোমেন বলেন, ওই রোগীকে টপ মেডিকেল সার্ভিস দেয়া হচ্ছে। সেখানকার চিকিৎসকরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছেন। তবে মঙ্গলবার থেকে ওষুধ কাজ করছে না। এ জন্য দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমাকে ফোন করেন। তারা যতটুকু করার তা করতে ত্রুটি করবে না বলেও আমাকে কথা দিয়েছেন।

কথোপকথনের প্রসঙ্গ টেনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমি বললাম যদি উনার মৃত্যু হয়, তা হলে পরিবার তো লাশ চাইবে। তিনি জানালেন, সেই ব্যবস্থাও তার সরকার করবে।

চীনের উহান শহর থেকে করোনাভাইরাসের উৎপত্তি। ভাইরাসটি বেশ কয়েকটি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এ পর্যন্ত করোনাভাইরাসে চীনেই দুই হাজার ২৯ জন মারা গেছেন। আর বিশ্বে মারা গেছেন দুই হাজার ১১২ জন। এর মধ্যে সিঙ্গাপুরেও বেশ কয়েকজন আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম  

উপরে