আপডেট : ৩ অক্টোবর, ২০১৭ ১৮:০৫

বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় আরও ১০ হাজার রোহিঙ্গা

অনলাইন ডেস্ক
বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় আরও ১০ হাজার রোহিঙ্গা

বাংলাদেশের প্রবেশমুখে অপেক্ষারত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ এখন মানবেতর দিন যাপন করছেন। মিয়ানমারের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে উদ্ধৃত করে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এই খবর জানিয়েছে।

মিয়ানমারের রাখাইনে জাতিগত নিধন এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের শিকার হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গার সংখ্যা ৫ লাখ ছাড়িয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলীর সঙ্গে সোমবারের বৈঠকে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর অফিসের মন্ত্রী টিন্ট সোয়ে সেই রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার প্রস্তাব দেন। সে সময় ‘জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ’ গঠনের বিষয়ে একমত পোষণ করে উভয় দেশ। এই বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে একটি চুক্তির খসড়াও হস্তান্তর করা হয়।

ওয়াশিংটন পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, মিয়ানমার ঠিক কোন প্রক্রিয়ায় রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেবে তা স্পষ্ট নয়। মিয়ানমারের রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল নিউ লাইটকে উদ্ধৃত করে ওয়াশিংটন পোস্ট বলছে, ‘বাংলাদেশে ঢোকার জন্য রাখাইনের পশ্চিমাঞ্চলের দুই গ্রামের মধ্যবর্তী সীমান্তের কাছে ১০ হাজারেও বেশি মানুষ জড়ো হয়েছে’।

মিয়ানমারের ডি-ফ্যাক্টো সরকারের মুখপাত্র গ্লোবাল নিউ লাইট তাদের প্রতিবেদনে দাবি করেছে, কর্তৃপক্ষ পালিয়ে যেতে চাওয়া রোহিঙ্গাদের বারবার আশ্বস্ত করতে চাইছে যে, রাখাইনে তারা এখন নিরাপদ। তা সত্ত্বেও রোহিঙ্গারা নিজেদের ইচ্ছায় বাংলাদেশে পালিয়ে আসার চেষ্টা করছে। তবে ওয়াশিংটন পোস্ট তাদের নিজস্ব অনুসন্ধানের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, গ্রামবাসী ক্ষুধার যন্ত্রণায় ভুগছে। বৌদ্ধ জাতীয়তাবাদীরা ক্রমাগত তাদের হত্যার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।

'নিজেদের গ্রাম থেকে রাখাইন বৌদ্ধ অধ্যুষিত গ্রামগুলো পেরিয়ে যেতে ভয় পাচ্ছে রোহিঙ্গারা।' ক্রিস হ্যারিস নামে এএফপিকে বলেছেন রোহিঙ্গা অ্যাডভোকেসি গ্রুপ আরাকান প্রজেক্টের একজন প্রতিনিধি। তিনি জানান, গ্রামপ্রধান যদি গ্রাম ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন, সঙ্গে সঙ্গেই সমগ্র গ্রামবাসী সেই সিদ্ধান্ত মেনে গ্রাম শূন্য করে পালিয়ে যায়।’

সোমবার মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টার দফতরের মন্ত্রী টিন্ট সোয়ে বাংলাদেশকে বলেন. তারা ১৯৯৩ সালের চুক্তি অনুসারে সেই প্রক্রিয়ায় শরণার্থীদের ফিরিয়ে নিতে প্রস্তুত। তিনি বলেন, সেই চুক্তি অনুযায়ী ১৯৯০ দশক ও ২০০৫ সালে প্রায় আড়াই লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে ফিরে যার্য়। ক'দিন আগে একই প্রক্রিয়ায় রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চি।  শরণার্থী ও মানবাধিকার গ্রুপগুলো জানায়, এই যাচাই বাছাই প্রক্রিয়া যেই নথির উপর করা হবে সেগুলো বেশিরভাগ রোহিঙ্গারই নেই। এছাড়া মিয়ানমারে ফিরে গেলে আমারও হত্যা ও ধর্ষণের শিকার হত পারে বলে আশঙ্কা শরণার্থীদের।

এদিকে রাখাইনে যারা থেকে গেছেন তাদের জন্য পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে শুরু করেছে। জাতিসংঘের কর্মকর্তারা সোমবার সেই সহিংসতার এলাকায় গিয়েছেন। তারা বলেছেন, সেখানে ‘অকল্পনীয়’ দুর্দশার শিকার বাসিন্দারা। ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক প্রতিনিধিদলও সেখানে গিয়েছিলো। তারাও দেখেঝে গ্রামগুলো পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। তারা এই সহিংসতা থামানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জেডএম

উপরে