আপডেট : ৮ জুন, ২০১৭ ২০:৩০

পার্লামেন্টে ঢোকার আগে গরুর মাংস খেলেন কেরালার সাংসদরা

অনলাইন ডেস্ক
পার্লামেন্টে ঢোকার আগে গরুর মাংস খেলেন কেরালার সাংসদরা

ভারতে গরুর মাংসের ওপর কেন্দ্রীয় নিষেধাজ্ঞার পরিপ্রেক্ষিতে আজ বৃহস্পতিবার কেরালা রাজ্যের পার্লামেন্টে (বিধানসভা) বিশেষ অধিবেশন ডাকা হয়েছিল। আর সেই অধিবেশনে যোগ দেওয়ার আগে গরুর মাংস দিয়ে সকালের নাশতা সেরে নিলেন রাজ্যের সাংসদরা।

নির্ধারিত সময়ের আগেই বিধানসভায় পৌঁছান বিধায়করা। তবে সভাস্থলে না ঢুকে একে একে তাঁরা ভিড় জমান বিধানসভার ক্যান্টিনে।

শুরুতেই কেরালার তিরু অনন্তপুরমের দেবীকুলমারের সিপিএম বিধায়ক এস রাজেন্দ্র ভাপা গরুর মাংস খাওয়া শুরু করেন। এরপর সাংসদদের সবাই খেতে থাকেন রান্না বিভিন্ন পদ। এ সময় সবচেয়ে বেশি চাহিদা ছিল বিফ ফ্রাইয়ের। যাই হোক, সাতসকালে গরুর মাংসের নানা পদ পেট ভরে খেয়ে তবেই সাংসদরা পা বাড়ান আলোচনা কক্ষের দিকে।

বিধানসভার ক্যান্টিনের এক কর্মী জানান, প্রতি কার্যদিবসে সাধারণত বেলা ১১টার পরেই গরুর মাংস পরিবেশন শুরু হয়। কিন্তু আজ যেহেতু গরুর মাংস নিয়েই আলোচনা ছিল, তাই খুব ভোরেই বাজার থেকে ১০ কেজি মাংস কিনে আনেন তাঁরা।

অধিবেশন শুরুর আগে কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন বলেন, গরুর মাংসের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকারের ওপর হস্তক্ষেপ করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। মানুষ কী খাবেন আর কী খাবেন না তা কেন্দ্রীয় সরকার ঠিক করে দিতে পারে না। এর ফলে শুধু কেরালাতেই নয়, গোটা ভারতজুড়ে প্রভাব পড়বে।

এর আগে এই বিষয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ভারতের অন্যান্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের কাছে চিঠি লিখে প্রতিবাদও জানিয়েছিলেন পিনারাই বিজয়ন।

গত মাসে জবাইয়ের উদ্দেশ্যে হাটে গবাদি পশু কেনাবেচা করা যাবে না বলে বিজ্ঞপ্তি জারি করে নরেন্দ্র মোদি সরকার। যার বিরুদ্ধে কেরালা, তামিলনাড়ু, কর্নাটক ও উত্তর ভারতের কিছু কিছু রাজ্যে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। কেন্দ্রীয় সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে পথে নেমে প্রতিবাদ জানায় বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো। কেরালা রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে গরুর মাংস খাওয়ার উৎসবেরও আয়োজন করা করা হয়।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/রাসেল

উপরে