আপডেট : ১৫ এপ্রিল, ২০১৬ ২১:৫১

জাতিসংঘের মহাসচিব হতে মৌখিক পরীক্ষা দিলো ৯ প্রার্থী

বিডিটাইমস ডেস্ক
জাতিসংঘের মহাসচিব হতে মৌখিক পরীক্ষা দিলো ৯ প্রার্থী

জাতিসংঘের ৭০ বছরের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো পরবর্তী মহাসচিব পদে নির্বাচনের জন্য মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলো। গত মঙ্গলবার শুরু হওয়া তিন দিনের এ প্রশ্নোত্তর পর্বে সাধারণ পরিষদের ১৯৩ সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সামনে মোট ৯ জন প্রার্থী অংশ নেন। দুই ঘণ্টার এ পর্বে প্রার্থীরা বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেওয়াসহ জলবায়ু পরিবর্তন থেকে শুরু করে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের মতো বিভিন্ন বৈশ্বিক সংকট নিয়ে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেন।

জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্যরাষ্ট্র গতকাল বৃহস্পতিবারের এ শুনানির  অপেক্ষায় ছিলেন। কারণ এতদিন পর্যন্ত মহাসচিব নির্বাচনের কাজটি জাতিসংঘ গোপনে সমাধা করতো। কিন্তু এ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য এই প্রথম সদস্য রাষ্ট্রগুলোর দাবিতে তাঁরা প্রকাশ্য নির্বাচনের আয়োজন করেছে। এতে সদস্য রাষ্ট্রগুলো মহাসচিব নির্বাচনের আগেই প্রার্থীদের যাচাই বাছাই করতে পারবেন। সাম্প্রতিক বিশ্বের বিভিন্ন জরুরি সমস্যা ও সমাধানের ইস্যুগুলোতে তাদের মতামত জানতে পারবেন। জাতিসংঘ যেহেতু বিশ্ব শান্তিতে কাজ করে, সেহেতু পৃথিবীর ৭০০ কোটি মানুষের ভাগ্য অনেক ক্ষেত্রেই নির্ভর করে মহাসচিবের সিদ্ধান্তের ওপর। নির্বাচন প্রক্রিয়া গোপন থাকলে সদস্য রাষ্ট্রগুলো অনিশ্চয়তায় ভুগতে শুরু করে।

তাছাড়া সাম্প্রতিক সময়গুলোতে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীসহ আরো বেশ কিছু ক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে প্রার্থীদের যাচাই করাটা জরুরি হয়ে পড়েছে। বর্তমান মহাসচিব বান কি মুন চলতি বছরের ডিসেম্বরের ৩১ তারিখে তার পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ করবেন।

মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৯ জন প্রার্থী মনে করছেন তাঁরা এই কাজের জন্য উপযুক্ত। এপ্রিলের ১২ থেকে ১৪ তারিখ প্রত্যেক প্রার্থীকে দুই ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছিল কথা বলার জন্য। প্রায় ৭০টি দেশের প্রতিনিধিরা এক হাজারেরও বেশি প্রশ্ন জমা দিয়েছে প্রার্থীদের উদ্দেশ্যে।

মহাসচিব পদের জন্য প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রার্থীদের তালিকায় ছিলেন সার্বিয়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভুক জেরেমিচক, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বুলগেরিয়ান কমিশনার ক্রিস্টালিনা গিওহিয়েভা ও আর্জেন্টিনার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুসানা মালকোরা, মন্টেনেগ্রোর সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইগর লুকসিচ, ইউনেসকোর মহাপরিচালক ও বুলগেরিয়ার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরিনা বোকোভা এবং জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সাবেক হাইকমিশনার ও পর্তুগালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী আন্তোনিও গুতের, স্লোভেনিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট দানিলো তুরক, ক্রোয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভেসনা পুসিচ ও মলদোভার সদ্য বিদায়ী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নাতালিয়া ঘেরম্যান, মেসিডোনিয়ার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী সারজান কেরিম এবং নিউজিল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হেলেন ক্লার্ক।

এতদিন নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা মহাসচিব পদের জন্য আগ্রহী প্রার্থীদের সঙ্গে মুখোমুখি প্রশ্নোত্তরের সুযোগ পেতেন। মহাসচিব নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় অধিক স্বচ্ছতা আনার জন্য নতুন এ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। যদিও চূড়ান্তভাবে প্রার্থী নির্বাচনের এখতিয়ার এখনো নিরাপত্তা পরিষদের হাতেই রয়েছে। 

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/আরকে

উপরে