আপডেট : ১ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১৫:১১

মানবসভ্যতা ধ্বংস করতে পারে ইন্দোনেশিয়ার আগ্নেয়গিরি!

অনলাইন ডেস্ক
মানবসভ্যতা ধ্বংস করতে পারে ইন্দোনেশিয়ার আগ্নেয়গিরি!

পৃথিবীতে মানবসভ্যতা ধ্বংস হওয়ার জন্য একটি বড় আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতই যথেষ্ট বলে মনে করছেন গবেষকরা। প্রতি ৪৫ হাজার থেকে ৭ লাখ ১৪ হাজার বছর পর পর এ ধরনের বড় অগ্ন্যুৎপাত হয়।

আর সর্বশেস বড় অগ্ন্যুৎপাতটি হয়েছিল ৭৪ হাজার বছর আগে। ফলে এখন তেমন বড় কোনো অগ্ন্যুৎপাত হওয়া আশ্চর্যজনক নয় বলেই মনে করছেন গবেষকরা।
সম্প্রতি এক গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার ফলাফলে যুক্তরাজ্যের ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর জনাথন রোগিয়ার পৃথিবীর সামনে বড় অগ্ন্যুৎপাতের সম্ভাবনা বর্ণনা করেছেন। তিনি তার সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখেছেন, মানুষের বর্তমান সভ্যতা বেশ কিছুদিন ধরেই স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে বিরাজমান।

সর্বশেষ বড় অগ্ন্যুৎপাতটি হয়েছিল ৭৪ হাজার বছর আগে ইন্দোনেশিয়ায়। সম্প্রতি সে এলাকাতেই নতুন করে অগ্ন্যুৎপাত শুরু হচ্ছে। তাই এ আগ্নেয়গিরিকে হেলাফেলা করার কোনো কারণ দেখছেন না গবেষকরা।

মাউন্ট আগুং-এর অগ্ন্যুৎপাতে বড়সড় বিপদের সূচনা হতে যাচ্ছে, এমনই আশঙ্কা করছেন অনেক গবেষক।

ক্রমশ ভয়াবহ হচ্ছে পরিস্থিতি।

যে কোনও সময় প্রবল বিস্ফোরণে লাভা উগরে দিতে পারে বিশ্বের মেরুদণ্ড নামে খ্যাত ইন্দোনেশিয়ার মাউন্ট আগুং। প্রবল ধোঁয়া ও গরম ছাইয়ের স্রোত যেভাবে আগ্নেয়গিরির মুখ থেকে বের হচ্ছে তাতে অশনি সঙ্কেত দেখছেন অনেকেই। পরিস্থিতি যে রকম তাতে বেশ চিন্তিত বিশেষজ্ঞরা।
তাঁদের মতে, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে ভয়ঙ্কর অবস্থা নিতে পারে। এ আগ্নেয়গিরি যদি মেগা আগ্নেয়গিরিতে রূপ নেয় তাহলে তা ভয়ঙ্কর ক্ষতি করতে পারে পৃথিবীর প্রাণীজগতের। এতে এমনকি মানবসভ্যতাও ধ্বংস হতে পারে।

এ আগ্নেয়গিরির ক্ষমতা রয়েছে বিপুল পরিমাণ লাভা ও ধোঁয়া উদগীরণ করার। আর বিপুল পরিমাণ ধোঁয়া যদি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলকে ঢেকে দেয় তাহলে অন্ধকারে গাছপালার বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যাবে। এতে ফসল উৎপাদনও বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে খাদ্যসংকটে পৃথিবীর শত কোটি মানুষের মৃত্যু হওয়াও অসম্ভব নয়। এমনকি সমগ্র মানবসভ্যতাও বিলুপ্ত হতে পারে। আর এমন সব ঘটনাই ঘটতে পারে ভয়ঙ্কর অগ্ন্যুৎপাতের কারণে।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, প্রশান্ত মহাসাগরের বিখ্যাত ‘রিং অফ ফায়ার’ বা ‘অগ্নি বলয়’ ইন্দোনেশিয়া সংলগ্ন এলাকা ওপর দিয়ে অতিক্রম করেছে। এখানে ১২০টিরও বেশি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি আছে। তাদেরই অন্যতম মাউন্ট আগুং ও মাউন্ট সিনাবুং।

ইতোমধ্যেই মাউন্ট আগুং আগ্নেয়গিরির ধোঁয়া দক্ষিণ ও দক্ষিণপশ্চিম দিকে ছড়িয়ে পড়েছে। বিমান যাতায়াতের পথ প্রায় ঢেকে দিয়েছে। প্রায় ৩০ হাজার মিটার উঁচু পর্যন্ত ছাই, ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়েছে। এখন এ আগ্নেয়গিরি কোথায় থামে তার দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন সবাই। সূত্র : ইন্ডিপেনডেন্ট

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জেডএম

উপরে