আপডেট : ২৫ মার্চ, ২০১৭ ১৬:১০

ট্রাম্পের পরাজয়ে হাসছেন ওবামা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ট্রাম্পের পরাজয়ে হাসছেন ওবামা

যাকে বলে মরার আগেই মৃত্যু। ট্রাম্পের বহুল আলোচিত ওবামা কেয়ার স্বাস্থ্য বিল বাতিল করার জন্য ভোটাভুটিতে পরাজয়ের শঙ্কার মধ্যেই দ্বিতীয় দফায় পিছিয়ে দেওয়া হলো কংগ্রেশনাল ভোটাভুটি। ফলে কোনো আলো পেলো না ট্রাম্পের প্রস্তাবিত নতুন স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত বিল আমেরিকারন ‘হেলথ কেয়ার অ্যাক্ট’। অথচ নির্বাচিত হওয়ার ৪৫ দিনের মধ্যেই এটি করার কথা বলেছিলেন ট্রাম্প। জয়ের পর প্রথম কোনো বড় লড়াইয়ে নিজ দলের মধ্যেই প্রচণ্ড বিরোধিতায় থেমে গেল ওবামাকেয়ার বাতিলের তোড়জোড়। ফলে অনির্দিষ্টকালের জন্য এখন ওবামাকেয়ারকেই রাষ্ট্রের স্বাস্থ্য আইন হিসেবে বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রিপাবলিকান দল।

রিপাবলিকান দলের দলীয় মনোনয়ন যেদিন নিশ্চিত হয় সেদিন আমেরিকাকে পরিবর্তন করার জন্য যেসব এজেন্ডা নিয়ে পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প, সেগুলো করতে নিজে একাই যথেষ্ট বলে দম্ভ করেছিলেন।

‘দেশ কীভাবে চলে আমার চেয়ে বেশি কেউ জানে না... তাই আমি একাই অসঙ্গতিগুলো ঠিক করতে পারি, ওয়াসিংট ডিসির দূর্নীতিগ্রস্ত ব্যবস্থা দূর করতে পরিবর্তন দরকার, সেটা সিদ্ধান্ত নিতে পারেন আপনারাই’ - সেদিন প্রায় লক্ষ রিপাবলিকান কর্মী-সমর্থকদের সামনে বক্তৃতায় বলেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার সেই পরিবর্তনের তালিকায় প্রথম ৩টি বিষয়ের একটি ছিল রিপিল এন্ড রিপ্লেস ওবামা কেয়ার। এমনকি ভোটারদের বলেছিলেন, ‘যদি আমাকে নির্বাচিত করেন, আর হাউস এবং সিনেটে আমাদের দল ভারী থাকে তাহলে ৪৫ দিনের মধ্যেই ওবামা কেয়ার বাতিল করবো।’ কিন্তু প্রয় ৩ মাস পেরিয়ে গেলেও ওবামা কেয়ার বাতিল তো দূরের কথা, গায়ে টোকা দিতে গিয়েও ধরা খেলেন এমনভাবে যে ব্যথা ভুলতে সময় লাগবে তার।

সিনেট, কংগ্রেস এবং হোয়াইট হাউসে সব জায়গায় সংখ্যাগরিষ্ঠ রিপাবলিকান দল। তার পরও, নিজ দলের মধ্যেই প্রয়োজনীয় ২১৬টি ভোট পাওয়ার নিশ্চয়তা না পাওয়ায়, শেষ মুহূর্তেই বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে স্বাস্থ্য বিলের ভোটাভুটি। বিলের স্বপ্নদ্রষ্টা হাউস স্পিকার পল রায়ান এই ঘোষণা দিতে গিয়ে বলছেন, বড় কাজ করা সত্যিই অনেক কঠিন।

’আমরা গত ৭ বছর ধরেই বলে আসছি, যে ওবামা কেয়ার দেশের জন্য একটি যন্ত্রণা। সেই ওবামা কেয়ার বাতিল করে নতুন স্বাস্থ্য বিল প্রবর্তনে এর চেয়ে ভালো কোনো সুযোগ এতদিন আমাদের আসেনি। আমরা বিলটি পাস করার অনেক কাছাকাছি চলে গিয়েছিলাম, কিন্তু সত্য হলো বিলটি পাস করার মতো ভোট আমাদের ছিল না। আমি শেষ মুহূর্তে প্রেসিডেন্টকে বললাম, আমি সর্বোচ্চ যা করতে পারি, ভোটাভুটি বাতিল করতে পারি। নাহলে দৃশ্যমান পরাজয় মেনে নিতে পারি। তিনি বলছেন স্থগিত করতে, সেটাই করেছি। সুতারাং রাখ ঢাকের কিছু নেই, ওবামাকেয়ার-ই এখন রাষ্ট্রের স্বাস্থ্য আইন হিসেবে বলবৎ থাকছে।

এই বিলটি পাস করতে যে প্রয়োজনীয় ভোট নেই, সেটা আঁচ করা যাচ্ছিল বেশ কয়েকদিন ধরেই। কংগ্রেসে ২১৬টি ভোট লাগতো এটা পাস করতে। কট্টর রিপাবলিকান দলীয় কংগ্রেসম্যানরা সবাই যদি ভোট দিতেন তবুও হয়তো এটি পাস হতে পারতো। কিন্তু ফ্রিডম ককাস বলে একটি বিষয় আছে যে ককাসের ৪০ জন সদস্য চাইলে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিতে পারেন। স্বাস্থ্য বিলের ক্ষেত্রে তারা নিজ এলাকার মানুষের মেডিকেল এইড বা বীমা হারানোর ঝুঁকি নিয়ে ভোট হারাতে চাননি। তাই একেবারে কট্টর রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের অন্তত ৪০ জন ভোট দিতে নারাজ ছিলেন এই বিলের পক্ষে।

একদিন আগে ২৩ মার্চ, যেদিন ওবামা কেয়ারের ৭ম বার্ষিকী ছিল সেদিন-ই এটা বাতিল করে তার প্রস্তাবিত আমেরিকান হেলথ কেয়ার অ্যাক্ট-নামের বিলটি পাসের জন্য প্রথম দফায় এটার ভোটাভুটি পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এই সময়ের মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একে একে ফোন করে, আইন প্রনেতাদের বাসায় গিয়ে বুঝিয়ে শুনিয়ে তার পক্ষে ভোট দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র শন স্পাইসর বলছেন, ‘এমন কিছু নেই যা করা হয়নি। দেখুন, প্রেসিডেন্টের পক্ষে এমন কিছু বাকি নেই যা করা হয়নি। কিন্তু শেষমেশ এটা তো স্বৈরতন্ত্র নয় যে আপনি বন্দুক দিয়ে বলবেন, ভোট দেন।’

অবশ্য, বিল পাস না হওয়ায় নিজ দলের বিরোধিতা কিংবা তার প্রস্তাবিত স্বাস্থ্যবিলের দুর্বলতাকে নয়, ট্রাম্প দোষ দিয়েছেন ডেমোক্র্যাট দলকে। তারা নাকি এই বিল সমর্থন করছে না, তাই পাস হয়নি এটা।

’ওবামা কেয়ারের বিষ্ফোরণ ঘটবে শিগগিরেই। এটা নিজে নিজে মরে যাবে। কেননা, অনেক রাজ্যে এর প্রিমিয়াম এত বেড়ে গেছে যে মানুষ এটা থেকে নিজেদের সরিয়ে নিচ্ছে। সবাই সরে গেলে এমনি এমনি এটা মারা যাবে। দেখা যাক, সে পর্যন্ত আমরা অপেক্ষা করি’- বিল পাশের মাধ্যমে ওবামার নাম মুছে ফেলতে না পারার পর প্রথম প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন ট্রাম্প।

এর মধ্য দিয়ে প্রথম আইনি পথ পাড়ি দিতে নিজ দলের মধ্যেই বিরোধিতার নজির দেখলেন ট্রাম্প। রাষ্ট্র পরিচালনা যতটা সহজ ভেবেছিলেন ততটা যে নয়, সেটা হাড়ে হাড়ে টের পেলেন। সামনে এই বিল পাসকে কেন্দ্র করেই ট্যাক্স কাটাসহ নানা উদ্যোগের পরিকল্পনা ছিল, যার সবগুলোই হোঁচট খাবে এখন, এমনটাই ধারণা বিশ্লেষকদের।

সেই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ওবামার নামে পরিচিত যে স্বাস্থ্য বিল সেটিকে মেরে ফেলে নিজের নামকে আরো ছড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন ট্রাম্প। পুরো নির্বাচনী প্রচারণায় এই একটি বিষয়ে সোচ্চার ছিলেন ট্রাম্প। এখন বিমর্ষ ট্রাম্প, আর ক্ষমতা থেকে দূরে থেকেও, সকল আলোচনায় সরব এখনো প্রেসিডেন্ট ওবামা।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে