আপডেট : ১৬ জুলাই, ২০১৬ ১৮:০৪

যেভাবে শুরু তুরস্কের ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থান!

নিজস্ব প্রতিবেদক
যেভাবে শুরু তুরস্কের ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থান!

তুরস্কে অভ্যুত্থানের শুরুতে এএফপির এক ফটোগ্রাফার সৈন্যদের ইস্তাম্বুলের বসফরাস ব্রিজের কাছে গুলি করতে দেখেন। কিছুক্ষণের মধ্যে তুরস্কের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত সংবাদ সংস্থা আনাদোলু জানায়, আঙ্কারার সংসদ ভবনে বোমা হামলা হয়েছে।  মুহূর্তেই তুরস্কসহ বিশ্ববাসী জানতে পারে, দেশটিতে সেনা অভ্যুত্থান ঘটতে যাচ্ছে।

এর মধ্যেই সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে জানানো হয়, সরকারের অগণতান্ত্রিক আচরণ এবং সরকার ধর্মীয় মৌলবাদীদের পক্ষে থাকার  কারণে সেনাবাহিনী পুরো দেশের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। বিবৃতিতে জানানো হয়, সংবিধানের মূল চেতনা, গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও স্বাধীনতা পুনর্বহাল এবং দেশকে কর্তৃত্ববাদী নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত করতেই এ অভ্যুত্থান।

তুর্কি এক সংবাদমাধ্যম জানায়, শুক্রবার রাতে আঙ্কারার স্পেশাল ফোর্স হেডকোয়ার্টারে হামলা চালিয়ে ১৭ জন পুলিশ অফিসারকে হত্যা করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট এরদোগানের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের অংশ হিসেবেই ওই হত্যাকাণ্ড।

তবে অল্প সময় বাদেই, পাল্টা আঘাতে যায় সরকার। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম আনদোলু এজেন্সিকে জানান, ১২০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শনিবার দেশটির আইনপ্রণেতাদের জরুরি সভা আহ্বান করেন তিনি।

অবকাশে থাকা প্রেসিডেন্ট এরদোগান সিএনএন টার্কিকে ফেসটাইমে দেওয়া সাক্ষাতকারে অভ্যুত্থানকারীদের ‘দেশদ্রোহী’ উল্লেখ করে মানুষকে রাজপথ ও বিমানবন্দরে জড়ো হতে বলেন। হাজার হাজার মানুষ বিমানবন্দরে ছুটে গেলে সেখানে সেনা সদস্যরা নিয়ন্ত্রণ হারায়। যে কারণে ইস্তাম্বুলে ফিরে আসতে পারেন এরদোগান।

প্রেসিডেন্ট জানান, মারমারিসে এজিয়ান কোস্ট রিসোর্টে যেখানে তিনি অবস্থান করছিলেন সেটা ছাড়ার কিছুক্ষণের মধ্যে সেখানে বোমা হামলা চালানো হয়।

এর মধ্যেই অবশ্য এরদোগান সমর্থকদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর লড়াইয়ে অনেক হতাহতের ঘটনা ঘটে। সেনাবাহিনী অভিযানে হেলিকপ্টার ব্যবহার করলে তার একটিকে এরদোগান সমর্থক পুলিশ বাহিনী গুলি করে ভূপাতিত করে। সেসময় ফাইটার জেটকেও আকাশে উড়তে দেখা যায়।

সারা সকাল আঙ্কারা এবং ইস্তাম্বুলে গোলাগুলি ও বোমা হামলা চলে।

এরদোগান বলেন, যারা এমন করছে তাদের চড়া মূল্য দিতে হবে। তিনি জানান, ইস্তাম্বুলে অভ্যুত্থানের চেষ্টাকারী ৫০ সেনাসদস্য আত্মসমর্পণ করেছে। ট্যাঙ্ক ছেড়ে তাদেরকে হাত তুলে দাঁড়াতে দেখা যায়।

আরো অনেক জায়গাতেই সেনা সদস্যরা আত্মসমর্পণ করে। সাধারণ মানুষকে ট্যাংকে উঠে বিজয় চিহ্ন দেখাতে দেখা যায়। সারারাত বন্ধ থাকার পর বসফরাস ব্রিজের খানিকটা অংশ এবং সুলতান মেহমেত ব্রিজ পুরোটাই খুলে দেওয়া হয়।

আপাতঃ চোখে সরকার অভ্যুত্থান দমন করতে পেরেছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে, বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, আগামী কয়েকদিন তুরস্কে আরো রক্তপাত ঘটতে পারে।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে