হেফাজতের শাপলা চত্বরের অবস্থান ছিল পরিকল্পিত; গুরুত্বপূর্ণ দলিল উদ্ধার | BD Times365 হেফাজতের শাপলা চত্বরের অবস্থান ছিল পরিকল্পিত; গুরুত্বপূর্ণ দলিল উদ্ধার | BdTimes365
logo
আপডেট : ৫ মে, ২০১৬ ২০:২৫
হেফাজতের শাপলা চত্বরের অবস্থান ছিল পরিকল্পিত; গুরুত্বপূর্ণ দলিল উদ্ধার
অনলাইন ডেস্ক

হেফাজতের শাপলা চত্বরের অবস্থান ছিল পরিকল্পিত; গুরুত্বপূর্ণ দলিল উদ্ধার

রুদ্ধদ্বার বৈঠকে লিখিত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ৫ মে শাপলা চত্বরে অবস্থান নিয়েছিল হেফাজতে ইসলাম। ওই বৈঠকের লিখিত রেজুলেশন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। ৪ মে লালবাগ জামিয়া কোরআনিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসায় সংগঠনের শীর্ষ নেতারা ওই রূদ্ধদ্বার বৈঠকটি করেন। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, যে কোনও মূল্যে ঢাকা ঘেরাও করা হবে এবং অবরোধ পরবর্তী সমাবেশ শেষে অবস্থান কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।

২০১৩ সালের ৬ এপ্রিল হেফাজতে ইসলাম ১৩ দফা দাবি ঘোষণা করে। দাবি আদায়ে বিভিন্ন কর্মসূচির সঙ্গে ৫ মে ‘ঢাকা অবরোধ’ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয় সেদিন। ৫ মের ‘ঢাকা অবরোধ’ কর্মসূচির রূপরেখা ঠিক করতে ২০১৩ সালের ২৫ এপ্রিল কেন্দ্রীয় নেতাদের এক বৈঠকে ১১ সদস্যের একটি উপ-কমিটি করা হয়। মাওলানা নূর হোছাইন কাসেমীর নেতৃত্বে রূপরেখা নির্ধারণের সেই উপ-কমিটিতে জুনায়েদ আল হাবিব, মুফতি ফয়জুল্লাহ, মাওলানা জাফরুল্লাহ খান প্রমুখ ছিলেন।

৫ মের ‘ঢাকা অবরোধ’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য ৪ মে রাজধানীর লালবাগে সন্ধ্যা থেকে হেফাজতের কেন্দ্রীয় নেতা ও ঢাকা মহানগর নেতাদের যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন মাওলানা নূর হোছাইন কাসেমী।

সেই বৈঠক শেষে খুছুছি মজলিস (গুরত্বপূর্ণ নেতাদের বৈঠক) অনুষ্ঠিত হয় রাত ১০টা থেকে। সেখানে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়।

সিদ্ধান্তগুলো হলো-এক. ৫ মে অবরোধ এবং অবরোধ পরবর্তী সমাবেশ শেষে অবস্থান গ্রহণ করা হবে। দুই. সমাবেশ করতে না দিলে প্রত্যেক স্পটেই অবস্থান গ্রহণ করা হবে। তিন. বায়তুল মোকাররমের সামনে সমাবেশ করা হবে, অনুমতি হোক বা না হোক। খুছুছি মজলিসে জুনায়েদ বাবুনগরী, মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী, নূর হোছাইন কাসেমী, মুফতি ফয়জুল্লাহ, জাফরুল্লাহ খান, মাওলানা সালাউদ্দিন নানুপুরী, মাওলানা সলিমুল্লাহ, জুনায়েদ আল হাবিব, মাহফুযুল হক, সাজেদুর রহমান, আব্দুর রব ইউসুফী, আবুল হাসনাত আমেনী, মাওলানা মহিউদ্দিন রুহী, আনাস মাদানীসহ আরও বেশ কিছু নেতা উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র জানায়, ৪ মে রাজধানীর লালবাগে বৈঠকে অবস্থানের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলেও আগে থেকেই আলোচনা হয়েছিল অবস্থান নেওয়ার বিষয়ে। গণজাগরণ মঞ্চ শাহবাগে অবস্থান নেওয়ার কারণে হেফাজতের পক্ষ থেকেও অবস্থান নেওয়ার পক্ষ মত দেন একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিতে দায়িত্ব দেওয়া হয় নেতাদের। অবরোধ শেষে বায়তুল মোকাররম বা শাপলা চত্বরে দোয়া মাহফিল করতে পুলিশের কাছে আগে থেকেই অনুমতির জন্য চিঠিও দেওয়া হয়।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে হেফাজতের কেন্দ্রীয় এক নেতা বলেন, ‘অনেকে বলেন কোনও রাজনৈতিক দলের প্ররোচনায় হেফাজত অবস্থান নিয়েছিল, এটি সঠিক নয়। হেফাজতের কেন্দ্রীয় নেতাদের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, যা রেজুলেশন আকারে লিপিবদ্ধ আছে। মূলত অবস্থানের বিষয়টি প্রকাশ করা হয়নি কৌশলগত কারণে। কোনও কর্মসূচি পালন করতে গেলে কিছু কৌশল তো থাকেই, এটিও কৌশল মাত্র।’

হেফাজতের শীর্ষ পর্যায়ের সূত্রমতে, এই রেজুলেশন খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মুফতি মাহফুযুল হক নিজের হাতে লেখেন। পাশাপাশি এই রেজুলেশনে অবরোধের দিনের নেতাদের কর্মকাণ্ড নিয়েও নির্দেশনা ছিল। এর মধ্যে কোন টিম কোথায় থাকবে, ভ্রাম্যমাণ টিম কোথায় থাকবে, প্রশাসনিক বাধা এলে কী করতে হবে এসব বিষয়ে লিখিত সিদ্ধান্ত ছিল।

৫ মে অবস্থান নেওয়া পূর্ব পরিকল্পিত কিনা জানতে চাইলে মাওলানা মাহফুযুল হক বলেন, ‘এটি তো এখন আর আলোচনার বিষয় না, পুরনো ঘটনা। কোন পরিস্থিতিতে, কীভাবে অবস্থান নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় সেটা আমার অবস্থান থেকে বলা সম্ভব নয়। কেন্দ্রীয় উচ্চ পর্যায়ের নেতারা পরিষ্কার বলতে পারবেন।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে হেফাজতের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ বলেন, ‘২, ৩, ৪ মের সিদ্ধান্তের আলোকে এবং সর্বশেষ ৫ মে বাদ মাগরিব নেতৃবৃন্দের আলোচনা এবং আমীরে মুহতারাম শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী দা.বা. এর চূড়ান্ত ও অবিচল নির্দেশে শাপলা চত্বরেই শান্তিপূর্ণ অবস্থানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অবস্থানের ঘোষণা দেন হেফাজত মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম