আপডেট : ২০ এপ্রিল, ২০১৭ ১৬:১৫

রেফারিকে ঘিরে ক্ষোভ বায়ার্ন মিউনিখের

স্পোর্টস ডেস্ক
রেফারিকে ঘিরে ক্ষোভ বায়ার্ন মিউনিখের

নাটকীয় ম্যাচ শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও চলছে ‘ম্যাচ’।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের রুদ্ধশ্বাস কোয়ার্টার ফাইনাল নিয়ে কোথায় লোকে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর জয়গান করবে! দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের জন্য রিয়াল মাদ্রিদের নামে জয়ধ্বনি তুলবে। তা না সমস্ত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রেফারি কসই ভিক্তোর।

রিয়ালের বিরুদ্ধে এগিয়ে থেকেও অতিরিক্ত সময়ে গিয়ে ম্যাচ হারে বায়ার্ন মিউনিখ। রোনাল্ডোর হ্যাটট্রিকের সৌজন্যে ফিরতি লেগের ফল রিয়ালের পক্ষে ৪-২। দু’লেগ মিলিয়ে ফল রোনাল্ডোদের পক্ষে ৬-৩। এই ছয়টি গোলের মধ্যে একা রোনাল্ডোই করেছেন ৫টি।

কিন্তু সি আর সেভেনের অতিমানবীয় পারফরম্যান্স নয়, চর্চা চলছে রেফারির ভুল নিয়ে। বের্নাবাউতে মঙ্গলবার রাতে অফসাইড থেকে গোল করেছেন রোনাল্ডো। রেফারি সেই ভুল ধরতে পারেননি। বায়ার্নের দাবি, রিয়ালের দু’টি গোল অফসাইড থেকে হয়েছে। আর্তুরো ভিদালকে লাল কার্ড দেখানো নিয়েও ক্ষুব্ধ তারা।

ম্যাচের পর মাঠের মধ্যেই তাঁকে ঘিরে ধরে নিজেদের ক্ষোভ উগরে দেন বায়ার্নের ফুটবলাররা। সেখানেই শেষ নয়, এর পর তাঁরা রেফারিদের ড্রেসিংরুমে পর্যন্ত চলে যান। সেখানে গিয়ে কসই-কে মনের সুখে কথা শুনিয়ে আসেন। ড্রেসিংরুমে যাওয়া বায়ার্ন ফুটবলারদের মধ্যে ছিলেন লেয়নডস্কি, থিয়াগো আলকান্তারা এবং ভিদাল স্বয়ং।

বায়ার্নের কোচ কার্লো আনচেলোত্তি সাংবাদিক সম্মেলনে এসে দাবি তোলেন, চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও ভিডিও রেফারিং প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হোক। রেফারির ভুল এতটাই প্রকট হয়ে উঠেছিল যে, রিয়ালের ম্যানেজার জিনেদিন জিদান পর্যন্ত স্বীকার করে নেন, রোনাল্ডোর একটা গোল অফসাইড থেকে ছিল। জিদান সাধারণত রেফারিং নিয়ে মন্তব্যই করেন না। তার ওপর তিনি রিয়ালের ম্যানেজার। রোনাল্ডোর গোলেই তাঁর দল শেষ চারে পৌঁছেছে। তার পরেও রেফারিং নিয়ে মন্তব্য করতে বাধ্য হয়েছেন।  সবচেয়ে বেশি করে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে রোনাল্ডোর অফসাইড থেকে করা গোল নিয়ে। বায়ার্নের ভক্তরা তো বটেই, এমনকী বার্সেলোনার তারকা পিকে পর্যন্ত টুইটারে একটি ছবি তুলে দিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। ছবিটি পোস্ট করে  তিনটি ছোট ছোট ডট দিয়ে ছেড়ে দিয়েছেন পিকে। যার অর্থ, আপনারাই তো দেখলেন কী ভাবে গোলটা হল। রিয়াল বনাম বার্সা এমনিতেই একটা দ্বৈরথ রয়েছে। পিকের টুইট নিয়ে তাই হইচই পড়ে যেতে সময় লাগেনি।

বায়ার্নের দুই ফুটবলার রিবেরি এবং ভিদাল সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং ওয়েবসাইটে ফটোশপের সাহায্য নিয়েও বিদ্রুপ করতে ছাড়েননি রেফারিকে। রিবেরি ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন, ‘এক বছরের পরিশ্রম সার্থক করে দিলে। ব্র্যাভো রেফারি!’ ভিদাল দু’টি হলুদ কার্ড দেখে ম্যাচ থেকে বহিষ্কৃত হন। তাঁর বেরিয়ে যাওয়াকে অনেকে টার্নিং পয়েন্ট বলছেন। ম্যাচের শেষে ভিদাল বলেন, ‘‘ডাকাতি হচ্ছে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এই ডাকাতি বন্ধ করা দরকার। পরিষ্কার দেখা গিয়েছে, কী হচ্ছে। আমাদের মনে সন্দেহ তৈরি হওয়াটাই স্বাভাবিক।’’ এখানেই না থেমে তিনি যোগ করেন, ‘‘ভুলে ভরা ম্যাচ পরিচালনা করে রেফারিই আমাদের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে ছিটকে দিলেন। আমরা জিততে চেয়েছিলাম। এটা দেখে আমরা সকলেই খুব ক্ষিপ্ত যে, এরকম তীব্রতা নিয়ে খেলা একটা ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিলেন রেফারি।’’

বায়ার্নের ম্যানেজার আনচেলোত্তি আগের বছরেই রিয়াল মাদ্রিদে ছিলেন। তখন তাঁর সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন জিদান। দারুণ সম্পর্ক তাঁর সঙ্গে রোনাল্ডোর। বের্নাবাউতেও ম্যাচের আগে প্রাক্তন কোচকে দেখতে পেয়ে জড়িয়ে ধরেন সি আর সেভেন। খুবই শান্ত প্রকৃতির মানুষ আনচেলোত্তি পর্যন্ত রেফারির কাছে গিয়ে বলে আসেন, ‘‘দারুণ কাজ করেছেন আপনি। ভেরি ওয়েল ডান।’’ টুইটারে কেউ কেউ বিদ্রুপ করে বলেছেন, স্কোরলাইনে রেফারির নামও থাকা উচিত। রোনাল্ডোর সঙ্গে তিনিও যুগ্ম ম্যান অফ দ্য ম্যাচ!

উপরে