আপডেট : ৩০ অক্টোবর, ২০১৮ ১০:০০

মধ্যবয়সের পান-সুপারি

অনলাইন ডেস্ক
মধ্যবয়সের পান-সুপারি

চাকরিজীবনের অনেকটা সময় পেরিয়ে এসেছেন গোলাম রাব্বানী সাহেব। সরকারি চাকুরে, সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অফিস, সপ্তাহে একদিন ছুটি। সকালে উঠে অফিস যাওয়া, অফিসে একই পরিবেশ, একই কাজ, অফিস শেষে আবার সেই বাসায় ফেরা, কিছু কথাবার্তা বলা, মাঝেমধ্যে টিভি দেখা আর ঘুম- ব্যস, এভাবেই কাঁটছে দিন। মাঝেমধ্যে বোধ হয় নিঃসঙ্গতা, নতুনত্ব খুঁজে নেওয়ার মতো মানসিকতাও আর তেমন নেই রাব্বানী সাহেবের।

জীবনের বিভিন্ন ধাপগুলোর মধ্যে মধ্য বয়সটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। অতীত জীবন, সংসার আর চাকরির ভার নিতে নিতে এই মধ্যবয়সীরা অনেকটাই ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তখন প্রয়োজন রুটিন জীবনযাপন, নিয়মিত খাওয়াদাওয়া এবং অবশ্যই বিনোদনের। বিনোদনের মধ্যে গল্প-আড্ডাটা বেশি জরুরি। কেননা মন হালকা রাখার জন্য এটা দরকার। শত কাজে ক্লান্ত থাকলেও দৈনন্দিন কাজের ফাঁকেই খুঁজে নিতে পারেন আড্ডার উৎস।

সকালে বা বিকেলে হাঁটতে যাওয়া

মধ্যবয়সে শরীর-স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে হাঁটাহাঁটি, ব্যায়ামের কোনো বিকল্প নেই। অফিস বা কাজে যাওয়ার আগে সকালে অবশ্যই আশেপাশে খোলামেলা স্থানে এই কাজটি করুন। সম্ভব হলে সঙ্গী বা অন্য কোনো সদস্যকেও নিয়ে যেতে পারেন। আবার প্রতিদিন একই স্থানে গেলে একই বয়সী কিছু ব্যক্তিদের সঙ্গে দেখা, কথা হবে। সেই সঙ্গে আড্ডাও জমবে বেশ। এতে সময় কাটবে, রুটিন জীবনেও বৈচিত্র্য আসবে।

মাঝেমাঝে পুরোনো বন্ধুরা এক হওয়া

একসময় যে বন্ধুরা জীবনের সবকিছু ছিল, একটা সময়ে এসে তারা কেমন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। মাঝবয়সে এসে সংসার, জীবিকার কারণে যোগাযোগ আগের মতো রাখা সম্ভব হয় না। তাই এজন্য নিজের আগ্রহটাই বেশি জরুরি। মাঝেমাঝে ফোনে তাদের ডেকে নিন, কোথায় সবাইকে আসতে বলুন, বাসায় দাওয়াত দিন। গান, কবিতা, ভালোলাগার গল্পে নস্টালজিয়া এনে ফেলতে পারেন। সবাই এক হলে দেখবেন কেমন জমে উঠবে আড্ডা।

সহকর্মীরা মিলে কোথাও যাওয়া

অফিসে নিশ্চয়ই কাছাকাছি বয়স বা বন্ধু গোত্রের সহকর্মী রয়েছে। অফিসে খাওয়া বা অবসরে তো তাদের সঙ্গে টুকটাক আড্ডা চলেই। জীবন কেমন চলছে, বিশ্ব কেমন চলছে এ নিয়ে আড্ডা চলেই আপনার। কিন্তু অফিস সময়ের বাইরেও তো কিছু সময় কোথাও ঘুরে আসা যায়। বিশেষ করে ছুটির দিনগুলোতে। এতে অফিসের একঘেয়েমিটাও কাটলো।

পরিবারের সঙ্গেই ভালো সময় কাটান

মধ্যবয়সে পরিবার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। হয়তো কাজের চাপে পরিবারকে তেমন সময় দেওয়া হয় না। তাদের অনেক কথা আপনার শোনা হয়না, আপনারও অনেক কথা নিশ্চয়ই জমে থাকে। অফিস শেষে নাস্তা বা রাতের খাবার টেবিলে, টিভি দেখার ফাঁকে ফাঁকে সদস্যদের সঙ্গে জমিয়ে নিন আড্ডা।

সন্তান যখন বন্ধু

মধ্যবয়সে এসে সন্তানরা বেশ বড় হতে থাকে। তাদেরও তখন একান্ত কিছু বন্ধু বা কাছের মানুষ প্রয়োজন। দিনশেষে তাদের একান্ত কিছু সময় দিন। তাদের পড়ালেখা, বন্ধুবান্ধব, কর্মকাণ্ডের খোঁজখবর নিন। তাকে আপনার জীবনের গল্প বলুন, অভিজ্ঞতা শোনান। মাঝেমাঝে পড়াশুনায় সাহায্য করুন। দেখবেন এই সন্তানদের সঙ্গে আড্ডা জমে গেছে।

কোনো ক্লাব বা সংগঠনে যুক্ত থাকুন

মধ্যবয়সীদের জন্য কোনো ক্লাব বা সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকা একটি সাধারণ বিষয়। এলিট ক্লাস আর মধ্যবিত্তদের জন্য ভিন্ন ভিন্ন সুবিধা রয়েছে। এখানে একই পর্যায়ের সম মানসিকতার লোকজনের সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ, কুশল বিনিময় হবে। এখানে বিভিন্ন খেলাধুলা, আয়োজন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা থাকে। সেই সঙ্গে খাওয়াদাওয়া আর আড্ডাও বেশ জমে।

উপরে