আপডেট : ১ এপ্রিল, ২০১৭ ১৮:৫৪

র‍্যাবের চৌকস দুই গোয়েন্দা প্রধানেরই মর্মান্তিক মৃত্যু!

অনলাইন ডেস্ক
র‍্যাবের চৌকস দুই গোয়েন্দা প্রধানেরই মর্মান্তিক মৃত্যু!

সিলেটের আতিয়া মহলে জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চলাকালে আত্মঘাতী হামলায় নিহত হয়েছেন র‍্যাবের গোয়েন্দা প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবুল কালাম আজাদ। তবে আজাদ একা নন, এর আগে র‍্যাবের গোয়েন্দা শাখার প্রধান কর্নেল গুলজার উদ্দিন আহমেদকেও নির্মমভাবে প্রাণ হারাতে হয়েছে। যদিও দুটি ঘটনার প্রেক্ষাপট একদমই ভিন্ন।

কর্নেল গুলজার উদ্দিন আহমেদ ২০০৯ সালে ২৫ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পিলখানায় এক রক্তাক্ত বিডিআর বিদ্রোহে নিহত হন।

নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন জামাতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) এর শীর্ষ নেতা শায়খ আব্দুর রহমান, তার ছোট ভাই আতাউর রহমান সানী ও বাংলা ভাইসহ জেএমবির শীর্ষ নেতাদের গ্রেফতারে অনন্যসাধারণ ভূমিকা রেখেছিলেন চৌকস কর্মকর্তা গুলজার। লে. কর্নেল আবুল কালাম আজাদও কর্মজীবনে তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব অত্যন্ত সততা, নিষ্ঠা, দক্ষতা, বিচক্ষণতা ও সুনামের সাথে পালন করেন।

লে. কর্নেল আবুল কালাম আজাদ সিলেটে জঙ্গি আস্তানা আতিয়া মহলে সেনা কমান্ডোদের অভিযানের মধ্যে সন্ধ্যার পর বিস্ফোরণে আহত হয়ে গত বৃহস্পতিবার (৩১ মার্চ) রাত ১২টা ১০ মিনিটে মৃত্যুবরণ করেন।

তার মৃত্যুকে ‘র‌্যাবের অপূরণীয় ক্ষতি’ বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

মন্ত্রী বলেছেন, ‘আজাদ একজন দক্ষ ও চৌকস কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে র‍্যাবে কাজ করেছেন। তাকে হারিয়ে বাহিনীটির  অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।’

গত ২৫ মার্চ শনিবার সন্ধ্যায় সিলেটে জঙ্গি আস্তানা আতিয়া মহলে সেনা কমান্ডোদের অভিযানের মধ্যে কাছের এলাকায় বিস্ফোরণে আহত হন আজাদ। প্রথমে তাকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে হেলিকপ্টারে করে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) এ নেয়া হয়। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় সেখান থেকে পরদিন পাঠানো হয় সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে। দুদিন পর চিকিৎসকদের পরামর্শেই তাকে ঢাকা ফিরিয়ে আনা হয়। বুধবার রাত সাড়ে ৮টায় ঢাকা আনার পর ফের সিএমএইচে নেওয়া হয় তাকে। এরপর বৃহস্পতিবার রাত ১২টা ১০ মিনিটে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

২০১১ সালের ২৬ অক্টোবর র‌্যাব-১২ এর একজন কোম্পানি কমান্ডার হিসেবে এই বাহিনীতে আসেন তিনি।

ইংরেজিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী আজাদকে ওই বছর শেষেই র‍্যাবের ইন্টেলিজেন্স উইংয়ে আনা হয়। দুই বছর উপ-পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর ২০১৩ সালের ৮ ডিসেম্বর ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের পরিচালক হন তিনি। আজাদের স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

এদিকে, বিডিআর বিদ্রোহে নিহত র‍্যাবের সাবেক গোয়েন্দা প্রধান কর্নেল গুলজার উদ্দিন আহমেদ ১৯৬৪ সালের ২১ মার্চ কুমিল্লা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৮৩ সালের ২৩ ডিসেম্বর পদাতিক রেজিমেন্টে কমিশন লাভ করেন। চাকরি জীবনে তিনি ২, ৮, ৩৪, ৪৪ ইস্ট বেঙ্গল (৯ বীর), ৬৬ পদাতিক ডিভিশন, বিএমএ, এনসিওস একাডেমি ও সেনা সদর এমও পরিদপ্তরে বিভিন্ন নিযুক্তিতে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া তিনি র‌্যাব-৩-এ অধিনায়ক এবং র‌্যাব ফোর্সেস সদর দপ্তরে পরিচালক (ইন্টেলিজেন্স উইং) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তিনি কম্বোডিয়ায় জাতিসংঘ অন্তর্বর্তীকালীন সহায়তা মিশনে সামরিক পর্যবেক্ষক এবং সিয়েরালিওনে জাতিসংঘ সহায়তা মিশনে দায়িত্ব পালন করেন। সবশেষে তিনি বিডিআরের সেক্টর কমান্ডার(সিলেট) পদে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে