আপডেট : ২৬ জুন, ২০১৬ ১২:০৪

শহীদ জননী জাহানারা ইমামের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

অনলাইন ডেস্ক
শহীদ জননী জাহানারা ইমামের মৃত্যুবার্ষিকী আজ
শহীদ জননী জাহানারা ইমাম

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির আহ্বায়ক শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ২২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯৯৪ সালের এই দিনে দুরারোগ্য ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

দেশের বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সর্বজন শ্রদ্ধেয় জননী সাহসিকা জাহানারা ইমামকে স্মরণ করবে আজ।

১৯২৯ সালের ৩ মে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে জন্ম নেন জাহানারা ইমাম। তার লেখা ‘একাত্তরের দিনগুলি’ মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রামাণ্য দলিল হিসেবে স্বীকৃত। তার বড় ছেলে শফি ইমাম রুমী উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণীর ছাত্র থাকা অবস্থায় মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন এবং গেরিলা অপারেশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পরে তিনি শহীদ হন।

জাহানারা ইমামের নেতৃত্বেই প্রথম মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে সারা দেশে আন্দোলন গড়ে ওঠে। তিনি ১৯৯২ সালের ১৯ জানুয়ারি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সব রাজনৈতিক দল, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পেশাজীবী, ছাত্র, নারী ও মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল জাতীয় কমিটি গঠন করেন। সর্বসন্মতিক্রমে তিনি ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল জাতীয় সমন্বয় কমিটি’র আহ্বায়ক নির্বাচিত হন।

এ কমিটি ১৯৯২ সালের ২৬ মার্চ ‘গণআদালত’-এর মাধ্যমে সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যানে একাত্তরের নরঘাতক গোলাম আযমের ঐতিহাসিক বিচার অনুষ্ঠান করে। গণআদালতে গোলাম আযমের বিরুদ্ধে ১০টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উত্থাপিত হয়। ১২ জন বিচারক সমন্বয়ে গঠিত গণআদালতের চেয়ারম্যান জাহানারা ইমাম গোলাম আযমের ১০টি অপরাধ মৃত্যুদণ্ডযোগ্য বলে ঘোষণা করেন। সমবেত লাখ লাখ মানুষের পক্ষ থেকে জাহানারা ইমাম গণআদালতের রায় কার্যকর করার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান।

উপরে