আপডেট : ৭ অক্টোবর, ২০১৬ ১৪:২২

মাতৃত্ব এবং স্টাইল

অনলাইন ডেস্ক
মাতৃত্ব এবং স্টাইল

অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় ডিজাইনার সব্যসাচী মুখোপাধ্যায়ের পোশাকে র‍্যাম্পে হাঁটা হয়ে গিয়েছে বলিউড অভিনেত্রী কারিনা কাপুরের। মা হচ্ছেন বলে যে ঘরে বসে থাকতে হয় না, তা-ই প্রচার করতে চেয়েছিলেন নায়িকা। তাই শ্যুটিং ছাড়াও তিনি বিভিন্ন ইভেন্টে নিয়মিত যাচ্ছেন। কখনও গোলাপি অফ-শোল্ডার গাউনে বিজ্ঞাপনের শ্যুটে যাচ্ছেন। কখনও ছিমছাম কালো ড্রেসে কোনও ইভেন্টে। বেবোর মতো যে কোনও ড্রেস লং জ্যাকেট দিয়ে লেয়ার করে পরতে পারেন।

তবে এ দেশে গর্ভবতী মায়েদের পোশাক পাওয়া খুব মুশকিল। বেশির ভাগ দোকানে সাধারণ ঢিলেঢালা পোশাকগুলোকেই ম্যাটারনিটিওয়্যার অর্থাৎ মাতৃত্বের পোশাক বলে চালানো হয়। কিন্তু এই সময় পোশাক বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কিছু বাড়তি জিনিস মাথায় রাখা প্রয়োজন। যেমন, কাপড়ের মান। একদম প্রাকৃতিক ফ্যাব্রিকের পোশাক এই সময় পরতে পারলে সবচেয়ে ভাল। পোশাকে বাড়তি স্ট্রেচেবিলিটি থাকতে হবে। চট করে খোলা-পরা করা যাবে, এমন ডিজাইনের পোশাক পরলেই ভাল এই সময়।

অনেক ব্র্যান্ড অবশ্য ইদানীং এমন পোশাক তৈরি করছে, যেগুলো প্রেগন্যান্সির পরেও মায়েরা ব্যবহার করতে পারবেন। শার্ট ড্রেস বা জাম্পস্যুটের মতো ঢিলেঢালা পোশাক মা হওয়ার পরেও পরা যায়। অনেকেই শুধু মাস কয়েকের জন্য নিজের আলমারি পুরো বদলে ফেলতে চান না। তারা এমন পোশাক খোঁজেন, যা পরেও পরা যাবে।

ওদিকে প্রথম সন্তানের পর আবারও মা হতে চলেছেন হলিউড অভিনেত্রী মিলা কুনিস। প্রেগন্যান্সির সময় মেয়েরা যে সাজে স্বচ্ছন্দ্য তেমনভাবেই সাজার উপদেশ দেন মিলা। কারণ এ সময়ে মায়ের আরাম সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। রোজকার পোশাক হিসেবে মিলার মতো লং লেহঙ্গা স্কার্ট আর রেসারব্যাক টপ রাখতে পারেন। তবে স্কার্টের ইলাস্টিক ব্যান্ড যেন খুব টাইট না হয়।

কেমন হবে স্টাইল

-  কে কী বলল বা কোন তারকা কীভাবে সাজলেন, সেসব না ভেবে নিজে যাতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, তাই পরুন। যদি মনে করেন, রোজকার ঢিলা পাজামা কামিজে সবচেয়ে আরামবোধ করছেন, তাহলে সেটাই পরতে থাকুন। ডেনিম পরে অসুবিধে না হলে ডেনিমও পরতে পারেন।

-  মা হওয়ার অনুভূতি চুটিয়ে উপভোগ করুন। শারীরিক বদল হচ্ছে বলে বাড়িতে ‘লুকিয়ে’ থাকবেন না। সমুদ্রে বেড়াতে যেতে ইচ্ছে করলে যান। রঙিন কাফতান পরতে পারেন। কিউট টিউনিক পরতে পারেন।

-  ছোটখাটো প্রিন্ট বা সলিড কালারের পোশাক বেশি পরুন। লাউড প্রিন্ট এই সময় না পরাই ভাল। হিল্‌স না পরতে পারলে ফ্ল্যাট্‌স-ই পরুন। তাতেও অনেক রকম অপশন পেয়ে যাবেন বাজারে।

-   আগের তুলনায় শরীর হয়তো আকারে বড় দেখাবে। সেটাকে লুকনোর চেষ্টা না করে বরং তাতেই সেজে উঠুন। কালার ব্লকিং, হরাইজন্টাল স্ট্রাইপ, উজ্জ্বল রং পরুন। শার্টের সব বোতাম লাগিয়ে রাখুন।

-  প্রেগন্যান্সির দ্বিতীয় বা তৃতীয় ট্রাইমেস্টারে ডেনিম, শাড়ি বা কুর্তার বদলে ড্রেস পরাই আরামদায়ক। একটু রঙিন পোশাক পরলে মন ভাল থাকবে।

-   কোনও সান্ধ্য-পার্টিতে যাবেন। অথচ বেশি সাজগোজ করতে ইচ্ছে করছে না? চাইলে একরঙা শিফন ড্রেসে সাজুন। আনুষঙ্গিক কিছু প্রয়োজন নেই।

-   সারাদিন অনেক জায়গায় ঘুরে ঘুরে কাজ করতে হয়? সাধারণ ডেনিম আর টপ না পরে ঢিলেঢালা ডেনিম ডাংরি আর গেঞ্জি-টপ পরে নিন। ইচ্ছে করলে ট্যাঙ্ক টপের সঙ্গেও পরতে পারেন। অনেক বেশি আরামে ঘোরাফেরা করতে পারবেন।

- হবু মায়েদের সবচেয়ে আরামদায়ক পোশাক লং র্যা প ড্রেস। এই ধরনের ড্রেস নানা রকম স্টাইলে পাওয়া যায়। ফ্লোরাল মোটিফ আর লেস ডিটেলিং করা একটু স্টাইলিশ ড্রেস পরুন।

-  প্রেগন্যান্সির সময়ে সাধারণ লেগিং বা ট্রাউজার্স পরবেন না। হবু-মায়েদের জন্যে বিশেষ ধরনের স্ট্রেচেব্‌ল লেগিংস আর ট্রাউজার্স পাওয়া যায়। সেগুলো পরলে অনেক বেশি আরাম পাবেন।

-  বাড়ির পোশাকের ক্ষেত্রেও অবহেলা করবেন না। বাড়িতে যখন বিশ্রাম নেবেন, তখনও বিশেষ ম্যাটারনিটিওয়্যার পরুন। ঢিলেঢালা পাজামা আর ওভারসাইজড কটনের টি-শার্ট সবচেয়ে আরামের।

উপরে