আপডেট : ২৯ এপ্রিল, ২০১৭ ১৫:৪৭

সিসি ক্যামেরার সুফল পাচ্ছে চবি বিশ্ববিদ্যালয়

অনলাইন ডেস্ক
সিসি ক্যামেরার সুফল পাচ্ছে চবি বিশ্ববিদ্যালয়

অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) গত বছর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্থাপন করা হয়েছে ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা। অপরাধ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি যেকোনো ধরনের ঘটনায় জড়িতদেরও শনাক্ত করা যাচ্ছে সহজে। যা আগে অনেকটাই অসম্ভব ছিল। তাছাড়া এটি স্থাপনের ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অপরাধ সংগঠনের মাত্রাও অনেকাংশে হ্রাস পেয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশে জঙ্গি তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রথম পর্যায়ে ১৬টি পয়েন্টে ২৪টি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। বর্তমানে এর সংখ্যা ৩১টিতে এসে দাঁড়িয়েছে।

ক্যাম্পাসের জিরো পয়েন্ট, শহীদ মিনার, চাকসু ভবন, মেডিকেল সেন্টার, কেন্দ্রীয় মসজিদ, শাহজালাল হল, শাহ আমানত হল, সোহরাওয়ার্দী হল, কলার ঝুপড়ী, স্টেশন চত্বর, দোলা স্মরণী, প্রীতলতা হলসহ বিভিন্ন স্থানে বসানো হয় এসব ক্যামেরা। নাইট ভিশন ক্যামেরা হওয়ায় রাতের বেলা স্বল্প আলোতেও ফুটেজ ধারণ সম্ভব।

জানা গেছে, কেন্দ্রীয় ভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয় থেকে এসব ক্যামেরায় প্রায় পুরো ক্যাম্পাস নজরদারির আওতায় এসেছে। প্রতিটি ক্যামেরার ফুটেজ কেন্দ্রীয় সার্ভারে সংরক্ষিত থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর নিজেই এটি তদারকি করে থাকেন। এতে করে নিরাপত্তা যেমন নিশ্চিত হয়েছে, তেমনি যেকোনো অপরাধ সংঘটনের পরে সিসি ক্যামেরার ফুটেজের মাধ্যমেই শনাক্ত হচ্ছে অপরাধী। ফলে সুরক্ষিত হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।

সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্বাভাবিকহারে ছিনতাই ও চাঁদাবাজির ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এসব ঘটনায় ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে সিসি ক্যামেরা ফুটেজ দেখে দ্রুত কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করায় নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে অপরাধ। এর প্রমাণও মিলেছে সম্প্রতি।

কিছুদিন আগে হাটহাজারী কলেজের তিন শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে ঘুরতে এলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি এলাকায় ছাত্রলীগের চার নেতাকর্মী দ্বারা ছিনতাইয়ের শিকার হয়। একপর্যায়ে তাদেরকে সোহরাওয়ার্দী হলে নিয়ে গিয়ে একটি কক্ষে মারধর করা হয় এবং তাদের ডিজিটাল ক্যামেরা ও মোবাইল কেড়ে নেয়া হয়।

পরবর্তীতে নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধু হলে নিয়ে তাদের পরিবারের কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে ছাত্রলীগ কর্মীরা। যদিও পরে তাদের ক্যামেরা ও মোবাইল রেখে ছেড়ে দেয়া হয়। বিষয়টি প্রক্টর কার্যালয়ে জানালে সিসি ক্যামেরার ওইসব স্থানের ফুটেজ দেখে অপরাধীদের শনাক্ত করা হয় এবং ঘুরতে আসা ছাত্রদের ক্যামেরা মোবাইল উদ্ধার করা হয়।

মূলত এ ফুটেজের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তীতে চার ছাত্রকে এ ঘটনায় সাময়িক বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। চুরি ছিনতাই ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ে বড় ধরনের কোনো সংঘাতের সময়ও সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় প্রশাসন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রলীগের এক নেতা এক সংবাদ মাধ্যমকে জানান, আগে বিশ্ববিদ্যালয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা গুলোতে শক্তি প্রদর্শন করতে বিভিন্ন গ্রুপ অস্ত্র শস্ত্র প্রদর্শন করতো। তবে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের পর এটি অনেক কমে এসেছে। তাই সিসি ক্যামেরা আওতাধীন এলাকায় সব পক্ষের কর্মীদের সতর্ক আচরণ করতে বলা হয়ে থাকে।

এদিকে সিসি ক্যামেরার কার্যকারিতার ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, যে উদ্দেশ্যে এ ক্যামেরাগুলো স্থাপন করা হয়েছে তার সুফল আমরা পাচ্ছি। নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি অপরাধ নিয়ন্ত্রণেও কাজে আসছে এসব সিসি ক্যামেরা। ভবিষ্যতে এর সংখ্যা প্রয়োজনে আর বাড়ানো হতে পারে বলেও তিনি জানান।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/রাসেল

উপরে