আপডেট : ২৬ নভেম্বর, ২০১৬ ১৫:১৪

ঢাবি ছাত্রলীগের হল সম্মেলন রবিবার, অছাত্র-মামলার আসামিরাও প্রার্থী

অনলাইন ডেস্ক
ঢাবি ছাত্রলীগের হল সম্মেলন রবিবার, অছাত্র-মামলার আসামিরাও প্রার্থী
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ছাত্রলীগের হল সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে রবিবার। সম্মেলনের মাধ্যমে ঢাবির আঠারটি হলের সভাপতি ও সাধারণ পদের আংশিক কমিটি গঠন করা হবে। সম্মেলন উপলক্ষ্যে কমিটিতে পদপ্রত্যাশীদের চলছে শেষ মুহূর্তের দৌঁড়ঝাপ। নিয়মিত শিক্ষার্থী ও ক্লিন ইমেজের প্রার্থীদের সঙ্গে মাদক ও হত্যা মামলার আসামি, চাঁদাবাজ, অছাত্র ও বহিস্কৃতরাও পদ পেতে চালাচ্ছে লবিং, তদবির ও মহড়া। যদিও বিশ্ববিদ্যালয় ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, অপরাধে জড়িত ও অছাত্র কাউকেই কমিটিতে স্থান দেয়া হবে না।
 
ছাত্রলীগের ঢাবি শাখার সভাপতি আবিদ আল হাসান বলেন, ‘ছাত্র রাজনীতিতে নতুন সংযোজন হল সম্মেলন। এই সম্মেলনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগের আদর্শে উজ্জীবিতদের দিয়ে কমিটি গঠন করা হবে। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে অনেককেই রাজনীতিতে দেখা যায়নি তবে এখন তারা সক্রিয়। সেই বিষয়গুলোকে মাথায় রেখেই নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে। দলের মধ্যে কোনো অনুপ্রবেশকারীর স্থান হবেনা। প্রত্যেক পদপ্রত্যাশীর ব্যক্তিগত তথ্য গোয়েন্দা অনুসন্ধান করা হবে। যার বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া যাবে তাকেই বাদ দেয়া হবে।’
 
ঢাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘২০১৩, ২০১৪ এবং ২০১৫ সালে ঢাবির বিভিন্ন হলের যেসব জুনিয়র নেতারা রাজপথে সক্রিয় থেকেছেন, যাদের স্লোগানে মুখরিত হয়েছে ঢাকার রাজপথ, দলীয় নীতি আদর্শের প্রশ্নে যারা অবিচল, ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবে রূপদানের জন্য দিনরাত যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন তারাই নেতৃত্বে আসবে।’
 
হল শাখার পদপ্রত্যাশীরা
সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের পদ প্রত্যাশীরা হলেন- আনিসুল হক জুয়েল, সোহান খান, বুলবুল শেখ ও আসিফ তালুকদার। ২০১৬ সালের ৭ জানুয়ারি ছাত্রলীগ নেতা সাগর হোসেন সোহাগকে মারধরের ঘটনায় জড়িত ছিলেন সোহান খান। এ ঘটনায় সোহানকে এক নম্বর আসামি করে নিউ মার্কেট থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করা হয়। এছাড়া তার বিরুদ্ধে ছাত্রদল করার অভিযোগও রয়েছে। একই হলের পদপ্রার্থী বুলবুল শেখের বিরুদ্ধে গোপালগঞ্জ সদর থানায় হত্যা মামলা রয়েছে। মামলার এজাহারে বলা হয়, ‘২০১০ সালের ৩ মে বুলবুল শেখ রামদা দিয়া খুন করার লক্ষ্যে কুদ্দুস নামের এক ব্যক্তির মাথার উপরিভাগে কোপ দিয়ে গুরুতর জখম করে।’ এছাড়া বুলবুলের বিরুদ্ধে তার হলের সাবেক সভাপতি রিফাত জামানকে বের করে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে।
 
 
ফজলুল হক মুসলিম হলের পদপ্রত্যাশীরা হলেন- শাহরিয়ার সিদ্দিকী সিসিম, এ এন চৌধুরী শাওন ও রাশেদ মাহমুদ। রাশেদ মাহমুদ গত বছরের ২৫ জানুয়ারি মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগে আটক হয়েছিলেন। ওই সময় তার কাছ থেকে ১৫০ ক্যান বিয়ার ও কয়েকটি বিদেশী মদের বোতলও জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় মামলা করে। ওই মামলার রাশেদ মাহমুদ এক নম্বর আসামি।
 
অমর একুশে হলের পদপ্রত্যাশীরা হলেন- আব্দুর জাব্বার রাজ, কৌশিক, ওসমান গণি পিয়াল এহসান, তানভীর হোসেন দীপ্ত ও শরিফুজ্জামান শরীফ।
 
জগন্নাথ হলের পদপ্রত্যাশীরা হলেন- সাংগাঠনিক সম্পাদক শান্ত ধর, জ্যোতির্ময় সাহা প্রিন্স, সঞ্জিত মজুমদার, উতপল বিশ্বাস, পার্থ প্রতিম ঘোষ, সৌমিত্র সাহা ও শ্যামল সাহা। শান্ত ধরের বিরুদ্ধে ছাত্রত্ব না থাকার অভিযোগ রয়েছে। এদিকে ছাত্রফ্রন্টের এক নেতাকে মারধর করার অভিযোগে উৎপল বিশ্বাস ও শ্যামল সরকার হল ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার ছিলেন। মাস্টার দা সূর্যসেন হলের পদপ্রত্যাশীরা হলেন- গোলাম সারোয়ার সরো, কামাল হোসেন ও সুমন হোসেন। সারোয়ারের বিরুদ্ধে ক্যান্টিন ও দোকানে ফাও খাওয়া, বৈধ শিক্ষার্থীদের কক্ষ থেকে বের করে দেয়া ও নিজ দলের নেতাকে মারধর করার অভিযোগ রয়েছে।
 
সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের পদপ্রার্থীরা হলেন- আসিফ উদ্দিন, মেহেদী হাসান তাপস, মিজানুর রহমান পিকুল ও রকিবুল ইসলাম ঐতিহ্য। স্যার এ এফ রহমান হলের প্রার্থীরা হলেন- এইচ এম তুষার, শাহরিয়ার, হাফিজুর রহমান। হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের প্রার্থীরা হলেন- ইব্রাহিম রাজু, সরকার জহির রায়হান, মুজাহিদুল ইসলাম সোহাগ, আল আমিন ও মোস্তাফিজুর রহমান। মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন ইউসুফ উদ্দিন খান অপূর্ব ও শেখ সাগর আহমেদ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের পদপ্রত্যাশীরা হলেন- মেহেদী হাসান রাকিব হোসেন, বারিকুল ইসলাম বাঁধন, রুহুল আমিন ও আওলাদ হোসেন।
 
কবি জসিম উদ্দিন হলের প্রার্থীরা হলেন- আব্দুর রহমান, রবিউল ইসলাম রবি, আরিফুল ইসলাম ও নিপুল, আল মাসুদ সজিব, শাহেদ খান ইয়াকুব, মোহাম্মদ আসিফ জর্দার ও সৈয়দ মোহাম্মদ আরিফ হোসেন। বিজয় একাত্তর হলের পদপত্যাশীরা হলেন- আরিফুল ইসলাম শেখ, তৌকির আহমেদ তপু, রাজিবুল ইসলাম তরিফ, সালমান ফারসি, বেলাল হোসেন বাপ্পি, ফকির রাসেল আহমেদ, সাইফুল ইসলাম জুয়েল, ফারহান ফারুক ও নয়ন হাওলাদার। রোকেয়া হলের প্রার্থীরা হলেন- সাবরিনা, লিপি আক্তার এবং শ্রাবণী শামসুন্নাহার হলের প্রার্থীরা হলেন- ফারজানা লাবণ্য, জিয়াসমিন শান্তা, ইসরাত জাহান মুন এবং নিপু ইসলাম তন্বী।  ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের প্রার্থীরা হলেন, বেনজীর হোসেন নিশি ও শিরিনা আকতার। কুয়েত মেত্রী হলের প্রার্থীরা হলেন, ফারহানা রিমি ও শ্রাবণী আক্তার।
 
বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/রাসেল
উপরে