আপডেট : ২৬ অক্টোবর, ২০১৬ ২০:৪৫

জালিয়াত চক্রের খপ্পরে ঢাবিতে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা!

অনলাইন ডেস্ক
জালিয়াত চক্রের খপ্পরে ঢাবিতে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা!

প্রাচ্যের অক্সফোর্ড বলা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কে। এখানে ভর্তি হতে মুখিয়ে থাকে সারাদেশের শিক্ষার্থীরা। কিন্তু ভর্তি পরীক্ষায় ডিজিটাল মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁস সহ নানা কৌশলে জালিয়াতি করে যাচ্ছে একটি চক্র। গত কয়েক বছর যাবৎ এ চক্রটি হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। বারবার ধরা পড়লেও ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকো গেলো মূল অপরাধীরা। অভিযোগ রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাবশালী একটি মহল এ চক্রের সাথে জড়িত রয়েছে। বিশেষ এ চক্রটি এবার ‘ঘ’ ইউনিটকে ঘিরে কোটি টাকার মিশনে নেমেছে বলে একটি সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে, এবছর কলা অনুষদভূক্ত ‘খ’ ইউনিট এবং ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদভূক্ত ‘গ’ ইউনিট পরীক্ষায় ডিজিটাল জালিয়াতি ঠেকাতে পারলেও বিজ্ঞান অনুুষদভূক্ত ‘ক’ ইউনিটে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে এ চক্রটি। গত শুক্রবার অনুষ্ঠিত ‘ক’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির দায়ে আটক করা হয় ১৩ জন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীকে। তাদেরকে পাবলিক পরীক্ষা আইন ১৯৮০ এর ৯ (খ) ধারা অনুযায়ী দুই বছর করে জেল দেয় ভ্রাম্যমান আদালত। এমনকি আটককৃত এসব শিক্ষার্থীর বক্তব্যে বেরিয়ে আসে একাধিক জালিয়াত চক্রের নাম।
 বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, প্রযুক্তির অপব্যবহার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি করে এ চক্রটি। নানা ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস, এটিএম কার্ডসদৃশ মোবাইল ফোন, স্মার্ট ওয়াচ ব্যবহার করে তারা পরীক্ষার হলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। আর অধিকাংশ সময় এসব জালিয়াতি চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকে প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তি, অসাধু শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, কোচিং সেন্টার এবং রাজনৈতিক নেতা এবং প্রশাসনের একটি মহল।

বিশেষ একটি সূত্র জানিয়েছে, জালিয়াত চক্রটি আগামী শুক্রবার অনুষ্ঠিত সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অন্তর্ভূক্ত ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষাকে টার্গেট করছেন। এ চক্রের সমন্বয়ক হিসেবে থাকছেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলের কিছু কর্তাব্যক্তি। তবে এ চক্রটি ডিজিটাল পদ্ধতি বাদ দিয়ে পরীক্ষার আগমুহুর্তে শিক্ষার্থীদেরকে প্রশ্ন পড়িয়ে দেন। গত কয়েক বছর যাবৎ তারা জালিয়াতির এমন পদ্ধতি ব্যবহার করছেন বলে জানা গেছে।

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আমজাদ আলী বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা খুবই উঁচু মানের। কিন্তু পরীক্ষায় জালিয়াতির ঘটনা আমাদেরকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলে। আমরা জালিয়াত চক্রের সদস্যদেরকে গ্রেফতার করার প্রচেষ্ঠা অব্যাহত রেখেছি। ভর্তি পরীক্ষাকে ঘিরে তারা সক্রিয় রয়েছে। তাদের ডালপালা অনেক বড়। পরীক্ষার হল থেকে প্রশ্নপত্র বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই।

গেল কয়েক বছরের ভর্তি পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনকারী পরীক্ষার্থীরা খুদে বার্তার মাধ্যমে তার প্রশ্নপত্রের সেটকোড জানিয়ে দিত বাইরের চক্রের কাছে। এজন্য এ বছর সেটকোড পদ্ধতি পরিবর্তন করে বারকোড অনুযায়ী প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করে বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ।

এসব বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, এ ব্যপারে আমরা পূর্বেই সতর্ক করে দিয়েছি। যারা ধরা পড়েছেন ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে শাস্তি দেয়া হচ্ছে।

উপরে