আপডেট : ১৩ এপ্রিল, ২০১৬ ১৩:৫৪

তিন বিদ্যালয়ে তিন শিক্ষক!

বিডিটাইমস ডেস্ক
তিন বিদ্যালয়ে তিন শিক্ষক!

পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলায় তিনটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে একজন করে শিক্ষক রয়েছেন। প্রধান শিক্ষকের দাপ্তরিক কাজ ও সব শ্রেণিতে পাঠদান ওই একজনকেই সামলাতে হচ্ছে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের পাঠদান মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, কালাইয়া বোর্ড, বালিপাড়া আবদুল গণি শেখ ও পত্তাশী হাজী আলকাজ উদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শুধু একজন করে সহকারী শিক্ষক রয়েছেন। তাঁরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বও পালন করছেন। তাঁরা দুই পালায় তিনটি করে শ্রেণির পাঠদান করছেন। গত ২৭ মার্চ প্রধান শিক্ষকদের ২১ দিনব্যাপী নেতৃত্ব বিকাশ প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। কালাইয়া বোর্ড বিদ্যালয়ের উত্তম কুমার মণ্ডল ও বালিপাড়া আবদুল গণি শেখ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আবু জাফর এ প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।

থানা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিইও) বিধান চন্দ্র রায় বলেন, ওই দুটি বিদ্যালয়ে একজন করে শিক্ষক প্রেষণে পাঠদানের জন্য দেওয়া হয়েছে। যদিও একজন শিক্ষক দিয়ে পাঠদান সম্ভব নয়, তারপরও সংকটের কারণে কোনো রকমে পাঠদান করা হচ্ছে।

১৫০০ বিদ্যালয় প্রকল্পের আওতায় বালিপাড়া আবদুল গণি শেখ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পত্তাশী হাজী আলকাজ উদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। বিদ্যালয় দুটিতে একজন করে সহকারী শিক্ষক প্রেষণে দিয়ে পাঠদান করানো হচ্ছে।

হাজী আলকাজ উদ্দিন বিদ্যালয়ের শিক্ষক জসিম উদ্দিন বলেন, ২০১৪ সালের ২২ অক্টোবর ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে তাঁকে প্রেষণে এখানে আনা হয়। বিদ্যালয়ের ১০১ জন শিক্ষার্থীকে একাই পাঠদান করতে হচ্ছে।

বালিপাড়া আবদুল গণি শেখ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আবু জাফর বলেন, তিনিও এখানে প্রেষণে এসেছেন। ২০১৫ সালে এখানে ৮৪ জন শিক্ষার্থী ছিল। একজন শিক্ষকের কারণে এ বছর তা কমে ৫৪ জন হয়েছে।

গত রোববার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, কালাইয়া বোর্ড বিদ্যালয়ে শিক্ষক উত্তম কুমার মণ্ডল একসঙ্গে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির ক্লাস নিচ্ছেন। তিনি পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পড়া বুঝিয়ে দিয়ে ছুটে যান তৃতীয় শ্রেণিতে। কিছুক্ষণ পর চতুর্থ শ্রেণিতে। এ সময় তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীরা গোলমাল শুরু করে। ৮ থেকে ১০ মিনিট পর শিক্ষক আবার ছুটে যান তৃতীয় শ্রেণিতে। এ ফাঁকে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরাও পড়া রেখে দুষ্টুমিতে মেতে ওঠে।

পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ইমাম হোসেন বলে, ‘একজন শিক্ষক একসঙ্গে তিনটি ক্লাসে পাঠদান করেন। এতে আমরা ঠিকভাবে পড়া বুঝতে পারি না।’

ক্ষক উত্তম কুমার মণ্ডল বলেন, ‘আমাদের প্রশিক্ষণ চলছে। আজ (রোববার) প্রশিক্ষণ নেই। তাই বিদ্যালয়ে পাঠদান করছি। এ বিদ্যালয়ে ১৩৪ জন শিক্ষার্থী। গত বছরের ২৯ নভেম্বর প্রধান শিক্ষক সিদ্দিকুর রহমান হাওলাদার ও ২৩ নভেম্বর সহকারী শিক্ষক এ কে এম বাশার অবসরে যান। গত জানুয়ারি থেকে সহকারী শিক্ষক লামিয়া শারমিন ফরিদপুরে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। ৪ এপ্রিল থেকে আরেক সহকারী শিক্ষক হ্যাপি খাতুন অসুস্থতাজনিত কারণে এক মাসের ছুটিতে রয়েছেন।’

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুল লতিফ মজুমদার বলেন, উচ্চ আদালতে মামলার কারণে প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদে সহকারী শিক্ষক থেকে পদোন্নতি বন্ধ ছিল। নতুন করে শিক্ষক নিয়োগ ও প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি দেওয়া হলে বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক পদায়ন করা হবে।

জেডএম

উপরে