আপডেট : ২৭ মে, ২০১৬ ১৫:২৩

জঙ্গিদের কাছে অর্থ আসছে ভার্চুয়াল অ্যাকাউন্টে!

অনলাইন ডেস্ক
জঙ্গিদের কাছে অর্থ আসছে ভার্চুয়াল অ্যাকাউন্টে!

ভার্চুয়াল অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে দেশের বাইরে থেকে জঙ্গিদের অর্থ আসছে। ঢাকা কাস্টমস হাউজের অনুরোধে একটি গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত করে তাদের এমনই তথ্য দিয়েছে।

গত বছরের জুন মাসে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি আন্তর্জাতিক মানি ট্রান্সফার প্রতিষ্ঠানের প্রায় চার হাজার মাস্টার কার্ডের তিনটি চালান ধরা পড়ে।

তিনটি চালানই এসেছিল চট্টগ্রামের মোরশেদ আলী, লিয়াকত আলী ও মাহা আক্তারের নামে। তারা সবাই একই পরিবারের সদস্য। মোরশেদ আলী কাস্টমসের কাছে দাবি করেছেন, একটি চক্র তাকে অর্থ দিয়ে এগুলো নিয়ে এসেছে। এর বিনিময়ে মাসে ২০ হাজার টাকা পেতেন। তবে তিনি তাদের বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে পারেননি।

ওই ঘটনার তদন্ত করার পর জানা যায়, ভুয়া তথ্য দিয়ে চার হাজার অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল, জঙ্গিদের অর্থ বিদেশ থেকে নিয়ে আসা। এসব অর্থ নাশকতার কাজে ব্যবহার করাও তাদের উদ্দেশ্য ছিল। তবে আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে এ ঘটনায় কোনো ফৌজদারি মামলা করতে পারেনি কাস্টমস।

ঢাকা কাস্টমস হাউজের একাধিক কর্মকর্তা জানান, অ্যাকাউন্টগুলো ভুয়া হলেও এসব অ্যাকাউন্টে বিভিন্ন ব্যক্তির তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ‘ভার্চুয়াল অ্যাকাউন্টে’র মাস্টার কার্ডগুলো ম্যাগনেটিক স্ট্রিপ সম্বলিত কার্ডের নমুনা দেখিয়ে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়।

বিষয়টি একটি গোয়েন্দা সংস্থাকে জানানো হলে তারা তদন্ত করে জানায়, মিথ্যা তথ্য দিয়ে একটি চক্র মানি ট্রান্সফার প্রতিষ্ঠান পেওনারে ভার্চুয়াল অ্যাকাউন্টগুলো খোলে। চক্রটি রাজধানীর নীলক্ষেত ও চট্টগ্রামের লালখানের বিভিন্ন ফটোকপির দোকান থেকে বিভিন্ন ব্যক্তির তথ্য সংগ্রহ করে।

তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, রাজধানীর নীলক্ষেত ও চট্টগ্রামের লালখানের বিভিন্ন দোকানে জাতীয় পরিচয়পত্রসহ ব্যক্তিগত তথ্য সম্বলিত বিভিন্ন কাগজপত্র ফটোকপি করা হলে অসাধু দোকানদাররা সেই তথ্য সংগ্রহ করে রাখেন। পরে এসব তথ্য জঙ্গি ও নাশকতাকারীরা অর্থের বিনিময়ে তথ্যগুলো কিনে নেন। পরে সেসব তথ্য দিয়ে তারা অ্যাকাউন্ট খোলেন। এসব অ্যাকাউন্ট থেকে সর্বোচ্চ দুই হাজার ডলার পর্যন্ত মাস্টার কার্ডের মাধ্যমে ওঠানো সম্ভব। নজরদারি এড়াতে মিথ্যা তথ্য দিয়ে অ্যাকাউন্টগুলো খোলা হয়েছিল।

গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত করে কাস্টমসকে জানায়, মানি ট্রান্সফার প্রতিষ্ঠানে একজন ব্যক্তি একটি ভার্চুয়াল অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন। ওই কার্ডটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছেই পাঠানোর কথা। কিন্তু ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তির কার্ড একজন ব্যক্তির কাছে আসা বিস্ময়কর।

ঢাকা কাস্টমস হাউজের সহকারী কমিশনার শহিদুজ্জামান সরকার বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা আন্তর্জাতিক মানি ট্রান্সফার প্রতিষ্ঠানের প্রায় চার হাজার মাস্টার কার্ডের তিনটি চালান আটক করি। ওই চালানের মালিকদের কাস্টমস অফিসে যোগাযোগ করতে বলা হলেও তারা যোগাযোগ করেননি।  

তিনি বলেন, পরে পেওনারের চার হাজার মাস্টার কার্ড ধরা পড়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে। তারা তদন্ত করে দেখছে।

নিশ্চিত কোনো অপরাধী চক্রই এই চালানগুলো দেশে নিয়ে এসেছিল বলে আমরা ধারণা করছি।  

কাস্টমসের একটি সূত্র জানায়, আমদানি করা পণ্যের আড়ালে খুবই ‘স্পর্শকাতর’ চালান এয়ার ফ্রেইট ইউনিট থেকে বের হয়ে যাচ্ছে। এমনকি দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে এমন কিছু পণ্যও মিথ্যা ঘোষণায় বের হচ্ছে বিমানবন্দর দিয়ে।

সব পণ্য পরীক্ষা করার মতো প্রযুক্তি এখানে নেই। শুধুমাত্র পাকিস্তান থেকে আসা পণ্যগুলো একটি গোয়েন্দা সংস্থা পরীক্ষা করে থাকে। অন্য দেশ থেকে আসা পণ্যের চালানগুলো কোনো ধরনের পরীক্ষা ছাড়াই বের হচ্ছে বিমানবন্দর থেকে।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে