আপডেট : ৮ এপ্রিল, ২০১৬ ১২:৪০

সাংবাদিকের সঙ্গে ডাবওয়ালার নজিরবিহীন প্রতারণা

বিডিটাইমস ডেস্ক
সাংবাদিকের সঙ্গে ডাবওয়ালার নজিরবিহীন প্রতারণা
প্রতারক ডাবওয়ালা

ঘটনাস্থল মতিঝিল। সুস্বাস্থ্যের অধিকারী চোখে চশমা পরিহিত এই ডাবওয়ালা ওই এলাকার জনতা ব্যাংকের নিচে ফুটপাতে ভ্যানের উপর ডাব বিক্রি করছিলেন। তা দেখে প্রচন্ড তৃষ্ণায় ৫০ টাকায় একটি ডাব কিনেছিলেন বণিকবার্তার সাংবাদিক মেহেদী আলামিন।

এসময় তিনি ৫০০টাকার একটি নোট দিয়ে ডাবের পানি পান করতে শুরু করেন। প্রাথমিক অবস্থায় ডাবওয়ালা তাকে ৫০ টাকা ফেরত দিয়ে পকেট থেকে আরও টাকা বাহির করছিলেন। মেহেদী ভাবছিলেন বাকী ৪০০ টাকাও দোকানী তাকে দিচ্ছেন। এ অবস্থায় তিনি আবারও ডাব খাওয়ায় মনোনিবেশ করেন।

ডাব খাওয়া শেষ হলে, বাকি ৪ শত টাকা তখনো না দেওয়ায় তিনি ডাবওয়ালার কাছে তা চান। আর তখনই ডাবওয়ালা যেন আকাশ থেকে পড়লো। ডাবওয়ালা বললো, ‘আপনি তো আমাকে ১০০ টাকার নোট দিসেন। আমি ৫০ টাকা ফেরত দিলাম।’

মাথা গরম করে মেহেদী তার বাকী ৪ শত টাকা আবারও ফেরত চাইলেন। এবার ডাবওয়ালা তাকে ধান্দাবাজ সাব্যস্থ করে আশপাশে লোক জড়ো করতে শুরু করে দিল। বলছিলো এই লোক এইভাবেই ধান্দা করে দোকানদারদের নিকট থেকে টাকা কামাই করে।

এ অবস্থায় সাংবাদিক মেহেদী মতিঝিল থানার পুলিশের দারস্থ হন। তারপর পুলিশ এসে যখন ওই ডাবওয়ালাকে ধরলো। ডাবওয়ালা তার আগের অবস্থানেই রইলো এবং মেহেদীকে ধান্দাবাজ আখ্যা দিয়ে তার সমর্থনে আশপাশের অন্যান্য দোকানীদেরও নিয়ে আসলো। এ অবস্থায় পুলিশও ধান্দায় পড়ে যায়। বিরক্ত সাংবাদিক এসময় ডাবওয়ালার ছবি তুলতে গেলে, সে মারমুখী হয়ে ওঠে এবং ওই এলাকার নেতা পরিচয়ধারী দু’একজনকেও ফোন করে নিয়ে আসে। অবস্থা বেগতিক দেখে সাংবাদিক কোনরকমে জান নিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে আসেন।

সে সময়ে দায়িত্বপালনকারী এসআই মনিবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় বিডিটাইমস’র পক্ষ থেকে। ঘটনাটির ব্যাপারে তার কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনিও পরোক্ষভাবে স্বীকার করে নেন যে, মেহেদী প্রতারণার শিকার। তিনি এও জানান, ওই এলাকাটিতে ফুটপাতের দোকানীরা একজোট হয়ে স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মদদে নানারকম অপকর্ম ও প্রতারণা সংঘটিত করে থাকে।

এ ধরণের প্রতারণার শিকার যেন আপনিও না হন। সাবধান থাকুন।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/মাঝি

উপরে